ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৫ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৬ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিতে প্রতিবেদন জমা সন্তোষজনক নয় সংসদীয় কমিটি

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ১ মার্চ, ২০২১, ১২:০০ এএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনেক প্রকল্পের কাজ সময় মতো শেষ করতে পারছে না। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতে বারবার সময় ও টাকা বাড়ানো হচ্ছে। এতে সরকারের হাজার হাজার কোটি ক্ষতি হচ্ছে। রাজউকের অনেক প্রকল্পের কাজ সময় মতো শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন অধিগ্রহণকরা জমির মালিকরা।

গণপূর্ত অধিদফতরের হাতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ বা তার নিচে। এর মধ্যে ১৪টি প্রকল্পের কাজ এ বছরে শেষ করার কথা রয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আওতায় বর্তমানে ১০২টি প্রকল্পের কাজ চলমান। এর মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ, গণপূর্ত অধিদফতরের ৩৩টি এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৩২টি বাকিগুলো মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য বিভাগ কাজ করছে। তবে রাজউকের অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের এসব ভবনের ফ্ল্যাট নির্ধারিত সময়ে না পেয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন বরাদ্দ প্রাপ্তরা। রাজধানীর-গুলশান- বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তার কাজ আজও শুরু হয়নি। প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রায় ১০ বছর ধরে ভ‚মি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারছে না ভুক্তভোগিরা। এছাড়া- গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পে ডিপিপি সংশোধনের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনেক প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও ভৌত কাজই শুরু হয়নি। সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রকল্পে অগ্রগতি সম্পর্কে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে যা দেখেছি, সেটি সন্তোষজনক নয়। কাজের গতি ভালো নয়। তিনি বলেন, আসলে মন্ত্রণালয় যে পদ্ধতিতে কাজ করছে সেটাতে পরিবর্তন আনতে হবে। সিস্টেমের কারণে এ কম গতি, ডায়নামিক নয়। সময় বেশি লাগলে খরচ বেশি লাগে। তখন ডিপিপি সংশোধন করতে হয়। ঠিকাদার তখন খরচ কমাতে চায়। কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালযের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার এ বিষয়ে ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে নারাজ।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আওতায় বর্তমানে ১০২টি প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে গণপূর্ত ১০টি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক), অধিদফতরের ৩৩টি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৩২টি প্রকল্প রয়েছে। বাকিগুলো এ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য বিভাগের হাতে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবের বহুতল ভবন নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, যা এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সে কাজের অগ্রগতি শূন্য। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে মাত্র। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আটটি প্রকল্পের কাজ এ বছরে শেষ করার কথা। কিন্তু সেগুলোর একটির কাজেও ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়নি।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হবিগঞ্জের সদর উপজেলায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। প্রায় সাত একর জমিতে ১৩২টি প্লট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এ কাজের দরপত্র যাচাই করা হচ্ছে মাত্র।
রাজউকের বহুল আলোচিত ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে নিম্ন ও মধ্যআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৪২ শতাংশ। ২০১১ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্লকের কাজ মোটামুটি শেষ হয়েছে, যদিও ছয়টি ভবন নির্মাণ এখনও বাকি রয়েছে। অগ্রগতিতে পিছিয়ে রয়েছে- ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও। ২০১৭ সালের জুলাইতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুন মাসে। অথচ এ প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি পাঁচ শতাংশ।

এদিকে গুলশান-বনানী-বারিধারা-লেক উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ১.২ কিমি. রাস্তা নির্মাণ এবং ১ কিমি. লেক খনন, প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করা হয়েছে ২০১৭ সালে; কিন্তু প্রকল্পের কাজ আর শুরু হয় না। জমির ক্ষতিগ্রস্ত মালিকরা ক্ষতিপূরণের টাকা প্রায় ১১ বছর ধরে পাচ্ছে না এবং ভূমি উন্নয়ন করও দিতে পারছে না বলে জানা গেছে।
উত্তরায় রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের এসব ভবনের ফ্ল্যাট নির্ধারিত সময়ে না পেয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন বরাদ্দ প্রাপ্তরা।

চট্টগ্রামে ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়ির জায়গায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত অধিদফতর। ১ হাজার ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ওই প্রকল্প এ বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হয়নি। প্রকল্পের আওতায় আটটি প্যাকেজে ৩৫টি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ছয়টি প্যাকেজে ২৮টি ভবন নির্মাণে চুক্তি হয়েছে। দুটি প্যাকেজ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। বাকিগুলোর কাজ শুরুর বিষয়ে যেটুকু অগগ্রতি হয়েছে তা শুধুই নথিপত্রের। বাস্তবে অনেক কাজ এখনও শুরু হয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গণপূর্ত অধিদফতর রাজধানীর সোবহানবাগ মসজিদের আধুনিকায়ন এবং ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে একটি প্রকল্প নেয়। প্রায় ৫০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজও ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র এক শতাংশ। একই অবস্থা জাতীয় সংসদের একটি প্রকল্পের। ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা বয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পের কাজের ভৌত অগ্রগতিও এক শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরে আবাসিক ফ্ল্যাট স্বপ্ননগর আবাসিক প্রকল্প-১’ ও ‘স্বপ্ননগর আবাসিক প্রকল্প-২’ এবং উত্তরার তৃতীয় ধাপের ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করে দ্রুত শেষ করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
স্থপতি ইকবাল হাবীব ইনকিলাবকে বলেন, আসলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারে অনেক অর্জন রয়েছে। কিন্তু গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের তা অর্জন করতে পারছে না। এ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন কাজে একটি অসাধু চক্র কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। এ চক্র কলুষিত পরিবেশ তৈরি করেছে। সরকার যখন জুয়াড়ি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তখন দেখা গেছে গণপূর্তেও সেই একই চক্র এখনো কাজ করছে। কারণ এই চক্র অনেক কাজের ঠিকাদার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন