ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৯ বৈশাখ ১৪২৮, ০৯ রমজান ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

খাদ্য বাসস্থান ও টিকায় প্রাধান্য : প্রধানমন্ত্রী

সংশোধিত এডিপিতে কমলো বিদেশি বরাদ্দের হার উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অর্থে মর্যাদার সঙ্গে চলার তাগিদ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২১, ১২:০১ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার এখন চলমান উন্নয়ন এজেন্ডাগুলোর পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারির এই কঠিন সময়ে জনগণের জীবিকা, খাদ্য, বাসস্থান ও টিকাদান কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে জনগণ যেন কোনো ধরনের আর্থিক কষ্ট ছাড়াই স্বচ্ছন্দে তাদের জীবন অতিবাহিত করতে পারে সে জন্য তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান ভাবনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ, আমাদের চিন্তা ভাবনাও সেভাবে করতে হবে। এখন থেকে নিজেদের টাকায় উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে হবে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অর্থ দিয়ে মর্যাদার সঙ্গে চলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রাজধানীর শের-এ-বাংলা নগরের জাতীয় অর্থনীতি পরিষদ (এনইসি) এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় যোগ দেন। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী চলমান অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড এখনই বাস্তবায়ন করা জরুরি নয়, আর তাই, এগুলোর চেয়ে তার সরকার জনগণের খাদ্য, বাসস্থান ও টিকা নিশ্চিত করার প্রতি অধিকতর জোর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে যে তহবিল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা দিয়েই আপনাদের (মন্ত্রণালয় ও বিভাগ) উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো চালিয়ে যেতে হবে। এই মুহূর্তে কোনো অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের প্রয়োজন নেই।

এনইসির বৈঠকে গতকাল চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ তিন দশমিক ২৬ শতাংশ কমিয়ে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি’র আকার ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। বড় অঙ্কের এ উন্নয়ন বাজেটে বিদেশি অর্থায়ণ কমছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। যার ফলে কমলো এডিপি’র আকার।

এডিপির সরকারের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন অংশ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রায় একই রাখা হয়েছে, যার পরিমাণ এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। আর বিদেশি ঋণে বাস্তবায়ন করা অংশ ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমিয়ে ৬৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এর আগে এডিপিতে বৈদিশিক অর্থের পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা।

উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে অর্থের কাঁটছাঁট ও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে চলমান প্রকল্পগুলোর থেকেই। কমেছে অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের বরাদ্দ। আর বেড়েছে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ। ৩ হাজার ২০৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ এখন সাত হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য করোনা টিকা নিশ্চিত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বিদেশি অর্থ অনেক কম সুদে ধার করা হয়। তবে, নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন করা এডিপির বড় অংশ দেশের ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ধার করা হয়। যার সুদে হার অনেক বেশি। তবে, সংশোধনের সময় মন্ত্রণালয়গুলো বিদেশি অর্থের তুলনায় নিজস্ব অর্থ না কমাতে বেশি আগ্রহী থাকে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম রাউন্ডের টিকাদান কর্মসূচি চলছে। করোনার টিকা আমরা কিনছি, সামনে আরও কিনতে হবে। আমাদের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে অন্যান্য পেশায় যারা সরাসরি মানুষের সঙ্গে কাজ করে, তাদেরও সরকার ভ্যাকসিনেসনের আওতায় আনতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, টিকাদান কর্মসূচির জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন।

গত বছরের ৫ নভেম্বর এবং এর পরপর ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এবং ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট (এসআইআই)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৯০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছে। বাংলাদেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এসআইআই উৎপাদিত তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনেছে। এছাড়াও, ভারত সরকার উপহার হিসেবে আরও ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বাধীন কোভ্যাক্স প্রোগ্রাম এবং ভ্যাকসিন অ্যালাইয়েন্স-এর আওতায় আরও ভ্যাকসিন পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার করোনাভাইরাসের কারণে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে টেনে তুলছে। দেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করায় সকল স্তরের মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চলমান মহামারি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম দেশে। তবে, এই ভাইরাসটি কোথাও কোথাও রূপান্তরিত হয়ে আরও শক্তিশালী হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই, আমাদেরকে এটা থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে হবে।

কোভিড-১৯ এর অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এসব প্রচেষ্টাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে এবং এ জন্যই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এসময় তিনি চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মাথায় রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নশীল দেশ। তাই, আমরা অন্য কোনো দেশের সহায়তা চাইতে পারি না বরং আত্মসম্মান বজায় রেখে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।

পরে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, মূল এডিপি থেকে বাদ পড়েছে ২৮টি প্রকল্প আর যোগ হয়েছে ১৭২টি। মোট ১ হাজার ৮৮৬টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৪২টি চলতি অর্থবছরেই শেষ করার নির্দেশনা আছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জানুয়ারি পর্যন্ত গেল ৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২৮ দশমিক চার পাঁচ শতাংশ। যা গলে ৪ অর্থবছরে মধ্যে সবচেয়ে কম।

সেক্টর ভিত্তিক এডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবাহন খাতে। সেখানে বরাদ্দ ৪৯ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে- ভৌতপরিকল্পনা, পানিসরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ২৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা; শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ২৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ খাতে ২১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা; পল্লি উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান খাতে ১৮ হাজার ২৯০ কোটি টাকা; স্বাস্থ্য খাতে ১৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে সাত হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ১৭টি খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।#

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Abdul Kader ৩ মার্চ, ২০২১, ২:৪৩ এএম says : 0
ইনশাআল্লাহ সফল হবে আমার বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনার হাত ধরে। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
Total Reply(0)
লিয়াকত আলী ৩ মার্চ, ২০২১, ২:৫১ এএম says : 0
এখন থেকে নিজেদের টাকায় উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে হবে।
Total Reply(0)
ডালিম ৩ মার্চ, ২০২১, ২:৫২ এএম says : 0
সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
Total Reply(0)
নয়ন ৩ মার্চ, ২০২১, ২:৫৩ এএম says : 0
সরকার করোনাভাইরাসের কারণে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে টেনে তুলছে।
Total Reply(0)
সোলায়মান ৩ মার্চ, ২০২১, ২:৫৪ এএম says : 0
সরকারের উচিত দুর্নীতি বন্ধে জরুরী পদক্ষে নেয়া উচিত
Total Reply(0)
Jack+Ali ৩ মার্চ, ২০২১, ১২:৩৭ পিএম says : 0
After 50 years of Liberation why our people are poor, no heavy industry, no security of live, food stuff's price is always high, million million people live in bastee like accommodation, Rape, people disappear and never come back, bribery is pandemic, why people don't look health like PM, Why PM live in Place, Why all the government people are corrupt??? and many more crimes are happening in our sacred country, if we were to list all the crimes are happening, it will be a book. The root cause is that our sacred is ruled by man made Law not Quranic Law.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন