ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৫ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কৃষকের কপালে ভাঁজ

লোডশেডিংয়ের বড় শঙ্কা সেচ মৌসুমে

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২১, ১২:০০ এএম

চলতি বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ২ হাজার ৪১১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় সেচের বিদ্যুৎ চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৯২ মেগাওয়াট। যা মোট সেচের বিদ্যুৎ চাহিদার ৪৯ ভাগ। রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় এখনো সঞ্চালনে সমস্যা রয়েছে। ফলে এসব জায়গায় সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিলেও একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখা যাবে না। দেশের প্রধান ধান উৎপাদন ক্ষেত্র উত্তররাঞ্চলের বিদ্যুতের সঞ্চালনব্যবস্থা সন্তোষজনক না হওয়ার পাশাপাশি রয়েছে তিস্তার পানি সঙ্কট। সব মিলিয়ে সেচের আগে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বোরো মৌসুমে সেচ সফল করতে সরকারিভাবে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ইনকিলাবকে বলেন, বোরো মৌসুমে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে। কৃষিতে সারা বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও সেচ মৌসুমে এটা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে ডিজেলের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। যেকোনো মূল্যে কৃষিক্ষেত্রে জ্বালানি তেল সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে বোরো মৌসুমে দেশে সেচ কাজে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে মোট ২ হাজার ৪১১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে রংপুরে সর্বোচ্চ ৬৪১ মেগাওয়াট। এরপর রাজশাহীতে ৫৫১ মেগাওয়াট। ময়মনসিংহ অঞ্চল ৫১২ মেগাওয়াটের চাহিদা নিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। এছাড়া খুলনা এলাকায় ৩২৭, কুমিল্লায় ১৬২, ঢাকায় ১৪৬, সিলেটে ৩০, চট্টগ্রামে ২৬ এবং বরিশালে ১২ মেগাওয়াটের চাহিদা রয়েছে। রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় এখনো সঞ্চালনে সমস্যা রয়েছে। ফলে এসব জায়গায় সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিলেও একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্র বলছে, বোরো মৌসুমে মোট আবাদি জমির মধ্যে ১৫ লাখ তিন হাজার ৮৫৮ হেক্টর জমি ভ‚গর্ভের ওপরের পানি ব্যবহার করে। যা মোট বোরো আবাদের মধ্যে ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে ভ‚গর্ভের পানি ব্যবহার করে ৭৩ শতাংশ জমি, যার পরিমাণ ৪০ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ হেক্টর। সেচে সঙ্কট সামাল দিতে এরমধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ আলাদা বৈঠক করেছে। এরমধ্যে একটি বৈঠকে সেচে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যটিতে সেচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭৩ দশমিক ১১ ভাগ ডিজেল। ডিজেলের ১৮ ভাগ ব্যবহৃত হয় কৃষি খাতে।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ সালের কৃষি সেচ মৌসুমে ডিজেল চালিত যন্ত্রের জন্য ডিজেল ও লুব অয়েলের (নভেম্বর ২০২০ থেকে মে ২০২১ পর্যন্ত) প্রাক্কলিত চাহিদা যথাক্রমে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন (ডিজেল) ও ৫১ হাজার ৩৪ মেট্রিক টন (লুব অয়েল)। ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিপিসি/বিপণন কোম্পানি পর্যায়ে প্রায় ৮৪ ভাগ জ্বালানি তেল নৌপথে, ৯ ভাগ রেলপথে এবং ৭ ভাগ সড়ক পথে পরিবহন হয়ে থাকে।

রংপুর জেলার পীরগছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কৃষক মানুন সরকার বলেন, আমাদের এলাকা বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। তিস্তার পানি কমে যাওয়ার কারণে এলাকা অনেক কৃষকে বিদ্যুৎতের ওপর নিরর্ভর করতে হচ্ছে। তবে তিস্তায় পানি থাকলে কৃষকেদের পানির কষ্ট কম হতো। লালমনির হাটের তিস্তা এলাকার কৃষক শাহিন আলম বলেন, এক সময় নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলে বোরো ধান চাষ করেছি। কয়েক বছর থেকে তা করা যাচ্ছে না।

পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লি. (পিজিসিবি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া ইনকিলাবকে বলেন, রংপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব এলাকায় দু’টি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন শুরু হলে গ্রীষ্মের চাহিদা পূরণ করতে পারব। তবে আগামীতে আর সমস্যা হবে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন