শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬ কার্তিক ১৪২৮, ১৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

বয়স কমানোর উপায় আবিষ্কার!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ মার্চ, ২০২১, ৭:৪৯ পিএম

বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখার জন্য দীর্ঘকাল ধরেই চেষ্টা করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে জিন এডিটিং টুল সিআরআইএসপিআরের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো। তবে একটি সাধারণ এবং প্রাচীন কৌশলই অবশ্য তারুণ্য ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

প্রথমবারের মতো, ইসরাইলি বিজ্ঞানীরা একটি চাপযুক্ত চেম্বারে রোগীদের অক্সিজেন থেরাপি দেয়ার মাধ্যমে মানুষের দুটি মূল জৈবিক ঘড়ি থামিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এজিং জার্নালে ফলাফলটি প্রকাশিত হয়। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রতিদিন নতুন কোষের সৃষ্টি হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই কোষ বিভাজনের মাত্রা কমে যায়। শরীরের একটি জৈবিক ঘড়ি এই কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। একে বলা হয় টেলোমেরেস। এটি মূলত ক্রোমোসোমের শেষে থাকা একটি ডিএনএর ক্রম। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই টেলোমেরেস ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়। একবার টেলোমেরেসগুলো খুব ছোট হয়ে গেলে, কোষটি আর বিভাজিত হতে পারে না, অর্থাৎ নতুন কোষ তৈরি হতে পারে না।

টেলোমেরেসগুলোর এই সংক্ষিপ্তকরণ অনিয়ন্ত্রিত ক্যান্সার কোষকে বহুগুণে প্রতিরোধ করতে পারে, তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, এর ফলে বার্ধক্যেরও সৃষ্টি হয়। শরীরের যে কোষগুলো আর বিভাজিত হতে পারে না সেগুলোকে বলা হয় সেনসেন্ট কোষ। যা শরীরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং এগুলোকে বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়।

একটি ক্লিনিকাল পরীক্ষায়, ৬৪ বা তার চেয়ে বেশি বয়সী ৩৫ জন সুস্থ মানুষকে তিন মাস ধরে প্রতিদিন ৬০টি অক্সিজেন থেরাপি সেশন দেয়া হয়। বিজ্ঞানীরা চিকিৎসার আগে, পরীক্ষার প্রথম এবং দ্বিতীয় মাস পরে এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পরে তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। পরীক্ষাকালীন সময়ে কোনও রোগীরই জীবনধারা, ডায়েট বা ঔষধের কোনও পরিবর্তন হয়নি, তবুও তাদের কোষের টেলোমেরেসের দৈর্ঘ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের সেনসেন্ট কোষের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

তবে রোগীদের চাপযুক্ত অক্সিজেন চেম্বারে রেখে চিকিৎসা করা এই প্রথম নয়। হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি (এইচবিওটি) প্রায় এক শতাব্দী ধরে গভীর সমুদ্রে যাওয়া ডুবুরিদের এবং কার্বন মনো অক্সাইডে বিষক্রিয়াজনিত অসুস্থতাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। থেরাপিতে একটি চাপযুক্ত চেম্বারে বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয়া হয়। সেখানে শ্বাস নেয়ার মাধ্যমে রোগীর দেহে রক্ত এবং টিস্যুগুলো অক্সিজেন দিয়ে স্যাচুরেটেড হয়ে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে এটি শারীরবৃত্তীয় প্রভাবগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। পূর্ববর্তী গবেষণাগুলো দেখায় যে, এই প্রভাবগুলি মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করতে পারে এবং মনে রাখার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এ বিষয়ে তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাকলার স্কুল অফ মেডিসিনের অধ্যাপক ও গবেষণা সহকারী শায়ে ইফ্রাতি বলেন, ‘যেহেতু টেলোমেরেসের সংক্ষিপ্তকরণকে জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বার্ধক্যের মূল হিসাবে বিবেচনা করা হয়, তাই বহু ফার্মাকোলজিকাল গবেষণায় একে দীর্ঘায়িত্ব করার আশায় ব্যাপক অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এই অনন্য এইচবিওটি চিকিৎসার মাধ্যমে টেলোমেরেসের দৈর্ঘ্যের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি বোঝার ও তারুণ্য ধরে রাখার একটি নতুন ভিত্তি সরবরাহ করেছে।’

এইচবিওটি থেরাপি বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখার জন্য একটি অন্যতম বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে, একটি চাপযুক্ত চেম্বারে প্রতিদিন প্রচুর সময় ব্যয় করা অনেকের জন্যই যথেষ্ট কঠিন বিষয়। ফলে, এই ধারণার প্রতি অনেকেই অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। সূত্র: পপুলার মেকানিক্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন