বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

মির্জাপুরে হাড়ভাঙ্গা চিকিৎসা কেন্দ্রে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০২১, ৭:১০ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দেওয়ান হাড়ভাঙ্গা চিকিৎসা কেন্দ্রে ইঞ্জেকশন দেয়ার পর তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সাজিদ মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার দৈনিক ইনকিলাব এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ হলে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডা. মাকসুদা খানমের নজরে আসে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বর্ণালী দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহমিদা বারেস ও সেনেটারী ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান।

শনিবার সকালে মির্জাপুর সদরের দেওয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন নার্স একটি ইঞ্জেকশন পুশ করার পর শিশু সাজিদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এদিকে শিশু সাজিদের মৃত্যুর বিষয়টি ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতাদের সহায়তায় শনিবার রাতে পাঁচ লাখ টাকায় রফা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রফা হওয়ার পর ময়না তদন্ত ছাড়াই রাত নয়টার দিকে থানা থেকে লাশ নিয়ে গেছে পরিবারের লোকজন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ রিজাউল হক দিপু জানান, পরিবারের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুরতহাল শেষে ওই শিশুর লাশ থানায় নিয়ে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনী ব্যবস্থা নিতে কোন রকম সহযোগীতা করেননি। এজন্য ময়না তদন্ত ছাড়াই রাত নয়টার পর ওই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাজিদ পার্শ্ববর্তী দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের সশীনারা গ্রামের জুয়েলের ছেলে। সে একই উপজেলার বিরকুসিয়া গ্রামে নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করত।
উল্লেখ, গত ৩ মার্চ বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে সাজিদের হাতের হাড় ভেঙ্গে যায়। ৪ মার্চ তাকে মির্জাপুর দেওয়ান হাসপতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে ডা. সোলাইমান হোসেন মেহেদী সাজিদের হাতে অস্ত্রপচার করেন। শনিবার সকালে হাসপাতালের কর্তব্যরত দুই নার্স সাজিদের শরীরে পরপর দুইটি ইঞ্জেকশন পুশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর সাজিদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ ঘটনার পর দেওয়ান হাসপাতালের ডাক্তার নার্স ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক দিপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সুরতহাল শেষে সাজিদের মরদেহ থানায় আনা হয়েছিলো। সুরতহাল রিপোর্টে পরিবারের পক্ষে কেউ স্বাক্ষর করেননি। এছাড়া আইনী ব্যবস্থা নিতে তারা কোন প্রকার লিখিত অভিযোগ দেয়নি। হাসপাতালটি ভূয়া বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে পরামর্শ করে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ডাক্তার বর্ণালী দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন