ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৯ আষাঢ় ১৪২৮, ১১ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সীমান্ত হত্যা অভিন্ন নদী সমস্যার সমাধান চান মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ মার্চ, ২০২১, ৪:২৫ পিএম

বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নত করতে হলে ভারতে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীগুলোর হিস্যাসহ অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা বরাবরই বলে এসছি, বাংলাদেশের সাথে আরো উন্নত করতে হলে ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর হিস্যার মীমাংসা হওয়া উচিত, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হওয়া উচিত। কানেকটিভিটিতে আমার কী লাভ হচ্ছে সেটা জনগণের কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে হলি ফ্যামেলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে দেখার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, সীমান্তে হত্যা অবিলম্বে বন্ধ হউক। পৃথিবীর কোনো দেশে এই ধরনের ঘটনা আছে কিনা আমরা জানি না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের এতো বন্ধুত্ব সরকার বলেন, এটুকু সমাধান করতে পারেন না।

তিনি বলেন, তিস্তা নদীর চুক্তি হচ্ছে না, ফেনী নদীর পানি একতরফাভাবে নিয়ে গেছে। সেতুও তৈরি হচ্ছে কানেকটিভিটিতে। অথচ আমাদের মৌলিক সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমরা এখনো প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশ সরকার আমাদের দাবিগুলোকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে আমাদের কোটি কোটি মানুষের সমস্যার সমাধান করবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী এখানে কী সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে আসছেন নাকী পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভার নির্বাচনী প্রচারণা করতে আসছেন এ বিষয় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, পশ্চিম বাংলার পত্রিকাগুলো, ভারতের পত্রিকা, আমাদের দেশের পত্রিকাগুলোতে সেই ধরনের ইঙ্গিতই আমরা পাচ্ছি। মূলত তার (নরেন্দ্র মোদী) এই ভিজিটের মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে সেই সমস্ত মন্দিরগুলো পরিদর্শন করছেন যেই সমস্ত মন্দিরগুলোতে তাদের যে অনুসারী রয়েছে, তাদের যে ভোট পশ্চিম বাংলায় রয়েছে সেই ভোটের জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। এটা পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে ৫০ বছর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক যে অধিকার তা হারিয়ে ফেলেছি, আমরা আমাদের মানুষের অধিকারগুলো হারিয়ে ফেলেছি। এখানে যে পরিস্থিতিতে সরকার দেশ পরিচালনা করছেন সেই কোনো মতেই গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়, সংবিধানকে তারা সংরক্ষণ করছেন না, এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সর্ব্যেভৗমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

সরকার জনগণকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই সূবর্ণ জয়ন্তীর যে অনুষ্ঠানগুলো তারা করছে এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো অবস্থান নেই। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোরও কোনো অবস্থান নেই। শুধুমাত্র বিদেশী মেহমানদের নিয়ে এসে এখানে দেখানো হচ্ছে, বলানো হচ্ছে যে, আপনার উন্নয়নের লৌহরী বয়ে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারত, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটারের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের প্রতিবেশী চারটি বন্ধু দেশ এসে গেছেন। তাদের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এবং আগামী ২৬ মার্চ আমাদের বন্ধু দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসবেন। আমরা সমসময়ই বিদেশী বন্ধুদের স্বাগত জানাই এবং সূবর্ণ জয়ন্তীতেও তাদেরকে স্বাগত জানাবো।

দলের কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, দুভার্গ্যক্রমে গত ১৭ তারিখ থেকে সূবর্ণ জয়ন্তী ও বর্ষ পালন করার কারণ দেখিয়ে এবং বিদেশী মেহমানরা আসবেন সেই কারণ দেখিয়ে আমাদের কর্মসূচিগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানুষের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করা হয়েছে।

করোনা সংক্রামণ প্রসঙ্গ মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতালগুলোতে বেড নাই। এতোদিন ধরে কী করলেন বেড নেই কেনো? কখন থেকে আমরা বলছিলাম। সেই বেড তো তারা যোগাড় করতে পারেননি। চিকিৎসা ঠিক মতো দিতে পারেন না। জনগণের সমস্যা বাড়ছে, করোনা মারাত্মক হারে বেড়ে গেছে, আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। আমাদের অনেক নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন, অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই করোনা উদ্ভুত পরিস্থিতি সরকার মোকাবিলা করতে সক্ষম হচ্ছে না কারণ তাদের তো লক্ষ্য একটাই কখন কোত্থেকে তারা চুরি করবে। প্রত্যেকটা বিষয় যখন দুর্নীতি করতে চায় তখন তো সমাধান করা সম্ভব না। এ সময়ে দক্ষিণ বিএনপিসাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন