ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৪ আষাঢ় ১৪২৮, ০৬ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

অবকাঠামোতে চীনকে ছুঁতে চায় বাইডেন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ মার্চ, ২০২১, ১২:০২ এএম

একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অবকাঠামো। অবকাঠামো খাত যত মজবুত হবে, দেশের অর্থনীতিও তত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর এ খাতে দেশ এবং দেশের বাইরে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় রাজত্ব করছে চীন। এক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় অবকাঠামো খাতে চীনকে ধরতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এটি আগামী কয়েক দশকে চীনের বিরুদ্ধে তার দেশকে প্রতিযোগিতায় ধরে রাখবে। খবর বøুমবার্গ। গত মাসে বাইডেন আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, যদি আমরা সামনে অগ্রসর না হই, তবে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে। এজন্য আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারা অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের একটি বিশদ পরিকল্পনা দেবেন। এটির পরিমাণ হতে পারে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত তিনজন বøুমবার্গকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এটিকে অবকাঠামো ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দীর্ঘকাল ধরে থমকে থাকা দেশটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একটি সূত্র বলেছে, নতুন বিবরণে দেখা গেছে বাইডেন প্রশাসন তথাকথিত পরিবেশবান্ধব সবুজ ব্যয়ের জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের দিকে নজর দিচ্ছে। যদিও বাইডেন যা করার পরিকল্পনা করছেন, তার সব হলেও অবকাঠামো খাতে চীনকে ধরা সহজ হবে না। কারণ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এ দুই দেশের অবকাঠামো খাতে ব্যয় পরিকল্পনায় এখনো বিস্তর পার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দিক থেকেই অবকাঠামোগত ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। অথচ চীন বছরের পর বছর ধরে এ খাতে এগিয়ে চলছে। গত মাসে শি জিনপিংয়ের সরকার দেশের পরিবহন নেটওয়ার্কের জন্য ১৫ বছরের একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এটি ২০২০ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কিলোমিটার থেকে চীনের রেল নেটওয়ার্ক ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় দুই লাখ কিলোমিটারে বিস্তৃত করবে। এ দূরত্ব নিরক্ষরেখাকে পাঁচবারেরও বেশিবার প্রদক্ষিণ করার জন্য যথেষ্ট। গত বছর বেইজিং অবকাঠামো খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করেছে। পাশাপাশি দেশটি আরো ১৬২টি নতুন বেসামরিক বিমানবন্দর তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝির পর থেকে ডেনভার ইন্টারন্যাশনাল নামে কেবল একটি বড় বিমানবন্দর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি রেলের ক্ষেত্রে সা¤প্রতিক সময়ে দেশটি দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মধ্যে ‘গেটওয়ে’ রেল সুড়ঙ্গ তৈরি করেছে। এর বাইরে দেশটির অবকাঠামো খাতে চোখে পড়ার মতো আর কোনো বৃহৎ বিনিয়োগ নেই। অথচ চীনের অবকাঠামোগত প্রচেষ্টা কেবল দেশের গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রেসিডেন্ট জিনপিং ২০১৩ সালে তথাকথিত বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। এরপর বেইজিং শ্রীলংকা থেকে গ্রিস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ে জ্বালানি প্লান্ট, রেলপথ, সড়ক, বন্দর ও অন্যান্য প্রকল্প তৈরি করেছে কিংবা তৈরির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। ২০১৮ সালে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি জানিয়েছিল, এ প্রচেষ্টায় মোট ব্যয় ২০২৭ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দিকে বিনিয়োগ শুরু করেছিল। তবে এর বেশির ভাগই এখন পুরনো ও জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের ২০২১ সালের ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক রাস্তাগুলোর ৪৩ শতাংশই খারাপ কিংবা মাঝারি মানের অবস্থায় রয়েছে। দেশের ৬ লাখ ১৭ হাজার সেতুর মধ্যে ৪২ শতাংশই অন্তত ৫০ বছর বয়সী। এর মধ্যে আবার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ সেতু কাঠামোগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো জোনাথন হিলম্যান গত মাসে লিখেছিলেন, অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশকের দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করতে পারে, যেখানে সামরিক শক্তির চেয়ে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি বেশি না হলেও সমগুরুত্বপূর্ণ। ক্ষয়িষ্ণু অবকাঠামো দিয়ে এ প্রতিযোগিতার শুরুটা ভাঙা গোড়ালি নিয়ে ম্যারাথনে দাঁড়ানোর মতো। বøুমবার্গ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন