ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮, ২৪ রমজান ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ইউরেশিয়া-আফ্রিকার ভূ-রাজনীতি সম্পর্কে অন্ধ ওয়াশিংটন

আমেরিকার ক্ষমতা বিভ্রম ৪

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম

ইউরেশিয়ান মহাদেশের বিস্তৃত উপকূলরেখা টহল দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন ভূমধ্যসাগরে পারমাণবিক অস্ত্র সজ্জিত সাবমেরিন এবং বিমানবাহী নৌযান সজ্জিত ৬ষ্ঠ নৌবহর এবং ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশাল ৭ম নৌবহর মোতায়েন করে। পরবর্তী ৪০ বছর ধরে ওয়াশিংটনের গোপন স্নায়ূ যুদ্ধের অস্ত্র কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইএ ইউরেশিয়ার সীমানা জুড়ে তার বৃহত্তম এবং দীর্ঘতম গোপন যুদ্ধগুলো সংঘটিত করেছে।

চীন-সোভিয়েত বøকে যে কোনো ধরনের দুর্বলতার জন্য নিরলসভাবে তদন্ত করা সিআইএ ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে তিব্বত এবং দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে একাধিক ছোট আক্রমণ চালিয়েছিল। তারা ১৯৬০-এর দশকে স্থানীয় হামং গ্রামবাসীদের মধ্য থেকে ৩০ হাজার শক্তিশালী যোদ্ধার একটি বাহিনী জড়ো করে লাওসে একটি গোপন যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল এবং ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে রেড আর্মির বিরুদ্ধে বহু মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিশাল একটি গোপন যুদ্ধ শুরু করে।

সেই চার দশকে ইউরেশিয়ার সীমান্ত জুড়ে সংঘটিত আমেরিকার একমাত্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ একইভাবে সাম্যবাদী চীনের আধিপত্য ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ৩৮তম প্যারালালে উত্তর কোরিয়ান এবং চীনা বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে আটকানোর ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার ফলে কোরিয়ান উপদ্বীপে প্রায় ৪০ হাজার আমেরিকানের (এবং অগণিত কোরিয়ান মৃত্যু ঘটে।

১৯৬২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামকে বিভক্ত করা ১৭তম প্যারালালের দক্ষিণে সাম্যবাদীদের বিস্তার বন্ধের ব্যর্থ প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ৫৮ হাজার আমেরিকান সেনা (এবং কয়েক মিলিয়ন ভিয়েতনামিজ, লাওসিয়ান এবং কম্বোডিয়ান) মারা গিয়েছিল। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর (চীন যেমন একটি কমিউনিস্ট পার্টি চালিত পুঁজিবাদী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল) আমেরিকা ইউরোশীয় মহাদেশে ৭শ’রও বেশি ঘাঁটি গেড়ে বিশ্ব মোড়ল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ইউরেশিয়াতে দেশটি পরস্পরের সাথে যোগাযোগ, নেভিগেশন এবং গুপ্তচরবৃত্তির জন্য একটি উপগ্রহ ব্যবস্থার সাথে একত্রে যুক্ত ১ হাজার ৭শ’ ৬ যুদ্ধ বিমান, ১ হাজারেরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১৫টি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সামরিক বাহিনী, এবং ৬শ’ যুদ্ধ জাহাজের একটি নৌবহর মোতায়েন করে।

২০০১ সালের পর তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী বিশ^যুদ্ধ আসলে ইউরেশিয়ার কিনারায় এর আগের স্নায়ূ যুদ্ধের মতোই সংঘটিত হয়েছিল। আফগানিস্তান এবং ইরাকের আক্রমণ ছাড়াও, মার্কিন বিমান বাহিনী এবং সিআইএ এক দশকের মধ্যেই সিসিলির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে গুয়াম দ্বীপের অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি পর্যন্ত অঞ্চলটিকে সহিংস বাহিনী এবং আক্রমণকারী ড্রোনগুলি মোতায়েনের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সন্ত্রস্ত করে রাখে।

এবং তবুও কখনও সমাপ্ত না হওয়া এসব দ্ব›দ্বকে ইউরেশিয়াকে ‘ধারণ’ বা বাধা প্রদান এবং আধিপত্য বিস্তার করার জন্য আমেরিকার পুরানো সামরিক সূত্রটি দৃশ্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছিল। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বযুদ্ধ প্রমাণ করে দেয় যে, এসব ব্যর্থতা কিছু ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনের সুয়েজ খাল বিপর্যয়ের একটানা দীর্ঘ সংস্করণ।

সর্বোপরি, এটি লক্ষণীয় যে, ১৯৫০-এর দশকের ব্রিটেনের মতোই ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রজন্মের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারকরাও একইভাবে বৈশ্বিক আধিপত্য লাভের ভূ-রাজনীতিতে বেইজিংয়ের বৃহৎ অর্থনৈতিক উত্তোরণের এই অঞ্চল (ইউরেশিয়া ও সংলগ্ন আফ্রিকা) বিষয়ে অন্ধ। সূত্র : দ্য নেশন। (চলবে)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (3)
বদরুল সজিব ১ এপ্রিল, ২০২১, ১:১২ এএম says : 0
অমেরিকার মোড়লীপনার শেষ হওয়া উচিত।
Total Reply(0)
মিরাজ আলী ১ এপ্রিল, ২০২১, ১:১৩ এএম says : 0
ওয়াশিংটনের বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।
Total Reply(0)
রফিকুল ইসলাম ১ এপ্রিল, ২০২১, ১:১৩ এএম says : 0
ইউরেশিয়া্ ও আফ্রিকার ভূ-রাজনীতি অবশ্যই জানতে হবে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন