ঢাকা, রোববার, ১৬ মে ২০২১, ০২ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৩ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

ডুমুরিয়ায় খুরা রোগে শতাধিক গরুর মৃত্যু

খুলনা ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০৩ এএম

খুলনার ডুমুরিয়ায় গত চার সপ্তাহে খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক গরু মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে আরও তিন শতাধিক। খামারিদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের দাবি, খুরা রোগে সম্প্রতি মাত্র ১২টি গরু মারা গেছে। আর বেশকিছু গরু আক্রান্ত হয়েছে। তবে গরুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ত্রæটি ছিল না।
সদরের গোলনা গ্রামের খামারি খান অহিদুল ইসলাম জানান, তিন সপ্তাহ আগে খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তার হাইব্রিড জাতের ৩টি গাভি, একটি বড় বকনা ও ৪টি বাছুর মারা গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকার। উপজেলার পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম গাজীর ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাভি মারা গেছে। ডুমুরিয়া আইতলা এলাকার শংকর প্রসাদ রাহার ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু মারা গেছে।

আরাজী ডুমুরিয়া নারায়ণ পালের একটি গাভি ও একটি বকনা বাছুর, গুটুদিয়া গ্রামের হাফিজ খানের একটি গাভি এবং উপজেলার খলশি গ্রামের ওহিদুল ইসলামের দুটি গাভি মারা গেছে। একইভাবে খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নে, ধামালিয়া, খর্নিয়া, ভান্ডারপাড়া, রুদাঘারা ও রংপুর ইউনিয়ন এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গত চার সপ্তাহে শতাধিক গরু খুরা রোগে মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়েছে আরো তিন শতাধিক।

গরুর খামারি খান ওহিদুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম গাজী জানান, খুরা রোগের লক্ষণ হচ্ছে, প্রথমে গরুর গায়ে তাপমাত্রা প্রচন্ড বৃদ্ধি পায়, মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে, গরুর মুখে ও খুরে ঘা দেখা দেয়। ফলে আক্রান্ত গরু কোনো খাদ্য খেতে পারে না। এরপর অল্প দিনের মধ্যে ওই গরু মারা যায়। সে ক্ষেত্রে খুরা রোগ প্রতিরোধে গরুকে নিয়মিত ভ্যাকসিন দিতে হয়। প্রাণিসম্পদ অফিসে ভ্যাকসিন সঙ্কটের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শত চেষ্টার পরও আক্রান্ত গরুগুলো বাঁচানো সম্ভব হয়নি। খামারি শংকর প্রসাদ রাহা জানান, প্রাণিসম্পদ অফিসে ভ্যাকসিন পাওয়া মুশকিল। গরুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অফিসের চিকিৎসকদের অনীহা রয়েছে। বারবার তাদের ডেকেও পাওয়া যায় না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা সুলতানা জানান, মূলত খুরা রোগের চিকিৎসা নেই। আগে থেকে গরুর খুরা রোগের ভ্যাকসিন দিতে হয়। গরুর বা ছাগলের কোনো সমস্যা হলে চিকিৎক না ডেকে খামারিরা নিজেই চিকিৎকসা দেন। খামারিদের অভিযোগ সঠিক নয়। এ ছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলাটি প্রায় একটি জেলার সমান। প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের অফিসে জনবল অপ্রতুল।

ডুমুরিয়া প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্যমতে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে ১ হাজার ২৫২টি হাইব্রিড জাতের গরুর খামার রয়েছে। হাইব্রিড ও দেশি জাতের গরুর সংখ্যা এখানে ১ লাখ ৯০ হাজার। প্রতিদিন এ উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হয়, যা ডুমুরিয়ার চাহিদা মিটিয়ে খুলনা ও যশোর জেলা শহরে বিভিন্ন কোম্পানি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারে বিক্রি হয়ে থাকে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন