ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৫ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

করোনায় মারা গেলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু

মোহাম্মদ আবদুল অদুদ | প্রকাশের সময় : ১৪ এপ্রিল, ২০২১, ৬:১৫ পিএম | আপডেট : ৬:১৭ পিএম, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কুমিল্লা-৫ এর সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তার একান্ত সচিব মাহবুব হোসেন ইনকিলাবকে জানিয়েছেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি একাধারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন। তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন।

জানা যায়, গত ১৫ মার্চ করোনা টেস্টের পরদিন (১৬ মার্চ) সকালে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি গত ১৬ মার্চ সকালে সিএমএইচে ভর্তি হন। এরপর তার করোনা পরীক্ষা করা হয়। গত ১ এপ্রিল করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৬ এপ্রিল তাকে ফের আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৫ মার্চ রাতে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থায় উন্নতি হওয়ায় ৩১ মার্চ কেবিনে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গতকাল হাসপাতালের লাইফসাপোর্টে স্থানান্তরিত করা হয়। আজ তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

সংক্ষিপ্ত জীবন : সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে পাঁচবার আওয়ামী লীগ সরকারে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি এলএলবি এবং বি.কম পাস করে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে (কমান্ডার হিসেবে) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৬-২০০১ সালে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯৬ সালে সংবিধান ও মানবতাবিরোধী কালো আইন ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিলের পক্ষে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। যার ফলশ্রুতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ উন্মোচিত হয় এবং পরবর্তীকালে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবর্গের আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। বাংলাদেশের বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থাকে আমূল সংস্কার ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আবদুল মতিন খসরু আইনমন্ত্রী থাকাকালীন বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড জুডিশিয়ারি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রজেক্ট নামে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। আইনজীবীদের কল্যাণে সর্বোত্তম সহায়তা প্রদান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অ্যানেক্স ভবন ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ভবন নির্মাণের সমুদয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়। হাইকোর্টের মূল ভবন ও পুরনো ভবনের মধ্যে যাতায়াত সুবিধার জন্য একটি গ্যাংওয়ে নির্মাণ এবং সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনসহ সারা বাংলাদেশের বিচারালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন।

তিনি দশম ও ১১তম জাতীয় সংসদে (২০১৭ সাল থেকে অদ্যাবধি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে আইনজীবীদের কল্যাণে নিরলস কাজ করেন। ২০১২ সালের ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে তিনি সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সালে পুনরায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। বার কাউন্সিলের সদস্য থাকাকালে তিনি আইনজীবীদের কল্যাণে ১৫ তলাবিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন।

গত ১২ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল মতিন খসরু। তিনি বিএনপি সমর্থক প্রার্থী ফজলুর রহমানকে পরাজিত করেন। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২১ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নবনির্বাচিত কমিটির কাছে সুপ্রিম কোর্ট বারের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। তবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকায় নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু অংশ নিতে পারেননি। তার মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫সহ আওয়ামী রাজনীতিতে এক শোকের ছায়া নেমে আসে। একই এলাকার সাবেক এমপি অধ্যাপক মো. ইউনূসের মৃত্যু হয় গত ২৭ মার্চ। তার মৃত্যুর ১৮ দিনের মাথায় বর্তমান এমপির মৃত্যুতে রাজনৈতিক শুণ্যতা বিরাজ করছে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
Mohammed Abdul Momen ১৪ এপ্রিল, ২০২১, ৬:৩৭ পিএম says : 1
সাবেক আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খুসরুর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচিছ।মহান আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত দান করুন এদোয়াই করি।
Total Reply(0)
Musleh Uddin ১৪ এপ্রিল, ২০২১, ৭:৩৫ পিএম says : 1
Late Mr. Abdul Motin Khosru, as a man he was unparallel,as a leader he was very kind, he was undoubtedly well behaved person. The people Cumilla lost their a most favorite guardian. Last month we lost Prof. Md. Younus he was also most respectable leader in the political field. We pray for them Allah bless them with Jannatul Ferdous. Ameen Md. Musleh uddin Basaboo Dhaka Bangladesh.
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন