ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ক্যারিয়ার

লাভজনক উপার্জন মাধ্যম সাইবার ক্যাফে

প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নুরুল ইসলাম

তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। মানব জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে এটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া তথা কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ছাড়া আমরা এখন প্রায় অচল। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এখনও এগুলো সকলের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠেনি। তাই কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের প্রয়োজন আছে কিন্তু যাদের নিজেদের এগুলো নেই, তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে নিজে আয়ের একটি রাস্তা খুঁজে পেতেই বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যাত্রা শুরু সাইবার ক্যাফের। বর্তমান সময়ে সাইবার ক্যাফ একটি লাভজনক আয়ের উৎস হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যেই এই ব্যবসার প্রতি বেশি ঝোঁক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সাইবার ক্যাফের নানা দিক সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারণে এই ব্যবসা শুরু করার সাহস পাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ ব্যবসা শুরু করেও লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে সতর্কতার সাথে বুঝে শুনে ব্যবসা করতে পারলে এর মাধ্যমে ভালো আয় করা সম্ভব।

প্রথমে যা যা করতে হবে
সাইবার ক্যাফের ব্যবসা শুরু করতে হলে যে জিনিসটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাহলো তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক জ্ঞান। এটা না থাকলে সাইবার ক্যাফে ব্যবসা চালানো কঠিন। এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং মোটকথা কম্পিউটারের বেসিক জানা থাকা চাই। প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ফরম পূরণ এবং কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের ওপর মোটামুটি ধারণাও থাকতে হবে। চাইলে কোনো প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এরপরে সাইবার ক্যাফের জন্য এমন একটি স্থান বেছে নিতে হবে যেখানে শিক্ষিত শ্রেণির মানুষদের অবাধ বিচরণ, বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের। হতে পারে এটা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে, মেইন রোডসংলগ্ন স্থানে কিংবা কোন আবাসিক এলাকায়। তবে যেখানেই স্থাপন করুন না কেন, সাইবার ক্যাফের সাজসজ্জাটা হওয়া চাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয়। একটু ব্যতিক্রমধর্মী হলেও মন্দ হয় না। মনে রাখতে হবে আগে দর্শনার্থী তারপর গুণবিচারি। তাই আপনার সাইবার ক্যাফেটি অবশ্যই সুন্দর ডেকোরেশনের হতে হবে। সেক্ষেত্রে একটু বেশি টাকা খরচ করলেই কম্পিউটারের টেবিলটি হতে পারে সকলের চাইতে আলাদা। সেটিই অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আবার চেয়ারগুলোও নিতে পারেন ব্যতিক্রম ডিজাইনের। আর ছোট ছোট দুয়েকটি ফ্লাওয়ার ভাস কিংবা এরকম দুয়েকটি শোপিস আপনার ক্যাফের পরিবেশকে পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে।

প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র
ছোট্ট পরিসরে ৫/৬টি কম্পিউটার নিয়ে সাইবার ক্যাফে শুরু করা যায়। প্রতিটি কম্পিউটারের সঙ্গে একটি করে চেয়ার, টেবিল ও ডেস্ক দিতে হবে। রাখতে হবে ওয়েবক্যাম, সিডি-রাইটার, স্ক্যানার ও প্রিন্টার। তবে সবার আগে নিতে হবে ইন্টারনেট সংযোগ। কারণ ইন্টারনেটের ক্ষমতার ওপর ব্যবহারকারীদের চাহিদা এবং তাদের সন্তুষ্টি অনেকটা নির্ভরশীল। ইন্টারনেট ধীরগতির হলে স্বাভাবিকভাবেই এখানে আগতরা আগ্রহ হারাবে। তাই ইন্টারনেট যেন উচ্চগতির এবং কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের হয়।

খরচাপাতি
কম্পিউটার, স্পেস ভাড়া ও অন্যান্য খরচসহ প্রাথমিকভাবে ছোট আকারে এই ব্যবসা শুরু করতে হলে মোট ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার মতো প্রয়োজন হবে। ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি সাইবার ক্যাফেতে রাখতে পারেন ছোটখাটো তথ্যপ্রযুক্তি সামগ্রী যেমন পেনড্রাইভ, ব্ল্যাঙ্ক ডিস্ক, হার্ডডিস্ক, অ্যান্টি ভাইরাস, হেডফোন, মাউস, কিবোর্ড, কার্ড রিডার, মডেম, দরকারি সফটওয়্যার ইত্যাদি। মূলধন ও পরিসর বেশি হলে নাটক, সিনেমা ও গেমসের সিডিও রাখতে পারেন।

সেবাসমূহ
স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, চাকরি ফরম পূরণ, বিভিন্ন ফলাফল দেখা, অনলাইনে টেন্ডার জমা, পাসপোর্ট, ভিসা আবেদন ফরম পূরণসহ ইন্টারনেটভিত্তিক প্রায় সব ধরনের সেবা দেয়া যেতে পারে। আর প্রিন্টিং, স্ক্যানিং বা উইন্ডোজ সেটআপের মতো কাজ তো আছেই। তবে বেশিরভাগ মুনাফা আসে সাধারণত ইন্টারনেট ব্রাউজিং সেবা থেকে।

আয় রোজগার
ছোট আকারে শুরু করলে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা যায়। সাইবার ক্যাফের অবস্থান ভালো হলে এবং ঠিকঠাক গ্রাহকসেবা দিতে পারলে আয়ের পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। ব্যবসা প্রসারের ক্ষেত্রে মূলধন বা কম্পিউটারের সংখ্যার চেয়ে সেবার মান বেশি ভূমিকা রেখে থাকে।

সাবধানতা
অনেকেই আছে যারা সাইবার ক্যাফের কম্পিউটার ব্যবহার করে হ্যাকিং, ই-মেইলে হুমকি দেওয়াসহ অনেক অবৈধ কাজ করে থাকে। তাই সাইবার ক্যাফেতে যারা আসবে তাদের নাম, ঠিকানাসহ কে কোন কম্পিউটারে কখন কাজ করছে তার তালিকা রাখুন। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করে অনেকেই কম্পিউটারের বারোটা বাজিয়ে দেয়। এ জন্য সাধারণ ব্যবহাকারীদের জন্য এমন একটি ইউজার একাউন্ট তৈরি করে দিতে হবে যার মাধ্যমে কেবল কম্পিউটারের ফাইলপত্র পড়া যাবে কিন্তু পরিবর্তন, সংযোগ কিংবা পরিবর্ধন করা যাবে না। এছাড়া মাঝে মাঝে সাইবার ক্যাফেতে আগত ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ সুযোগ পেলে কম্পিউটারের কেসিং খুলে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ হাতিয়ে নেয়। সেক্ষেত্রে অনেক কেসিং পাওয়া যায় যেগুলোতে তালা লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
জাহাঈীর মোললা ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:১৮ পিএম says : 0
সবিনয়অনুরুদরহিল আমিএকজন সাদারন উদ্যোক্তা হিসাবে সাইবারক্যফে ওয়াইফাই ব্যাবসা করিতেচাই কিন্তু কিবাবে তহার অনুমদন পাবকিনা জানিনা আমার জেলা শরীয়াতপুর থনা সখিপুর ইউনিয়ন দক্ষিন তারাবুনিয়া ব্যাবসার লাইসেন্স কিভাবে পাইতে পারি আপনাদের সহজগিতা কামনা করিছ।
Total Reply(0)
জাহাঈীর মোললা ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:১৬ পিএম says : 0
সবিনয়অনুরুদরহিল আমিএকজন সাদারন উদ্যোক্তা হিসাবে সাইবারক্যফে ওয়াইফাই ব্যাবসা করিতেচাই কিন্তু কিবাবে তহার অনুমদন পাবকিনা জানিনা আমার জেলা শরীয়াতপুর থনা সখিপুর ইউনিয়ন দক্ষিন তারাবুনিয়া ব্যাবসার লাইসেন্স কিভাবে পাইতে পারি আপনাদের সহজগিতা কামনা করিছ।
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন