ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮, ২৩ রমজান ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

‌লকডাউন ধনীবান্ধব, দরিদ্রবান্ধব নয়

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ এপ্রিল, ২০২১, ১০:৪৪ এএম

অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেছেন, লকডাউন ধনীবান্ধব, দরিদ্রবান্ধব নয়। সরাসরি খাদ্য সহায়তা দিয়ে অতি দরিদ্রদের হয়তো বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু ছোট ছোট শিল্প উদ্যোগগুলো ধ্বংস হলে সেগুলো পুনরায় গড়ে তোলা কঠিন হবে। আর মধ্যবিত্তের অবস্থা তো আরও নাজুক।

বুধবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।


সেখানে তিনি লিখেছেন, আমার এই কথাগুলো হয়তো অনেকের পছন্দ হবে না, তাও বললাম। করোনার প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ১০ থেকে ১৫ বাকি ৮৫ ভাগ সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু দারিদ্র্যের কশাঘাতে অপুষ্টির শিকার হলে ধুকে ধুকে মরতে হবে অনেককে।

লকডাউন দিলে মৃত্যু ঝুঁকি কমানোর শান্তিতে থাকে সচ্ছল মানুষ। কিন্তু ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভোগা মানুষদের জন্য লকডাউন কোনো শান্তির বার্তা আনে না। বরং তারা করোনার ঝুঁকি নিতে রাজি, কিন্তু আশু ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগতে রাজি নয়।

লকডাউনে সচ্ছল ধনী মানুষ তার বড় বাসায় সোশ্যাল ডিসটেন্স মানতে পারবে, কিন্তু ঝুঁপড়ি ঘরে থাকা মানুষগুলো লকডাউনে একে অন্যের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হয় দিনের বেশিরভাগ সময়।

লকডাউনে কল-কারখানা খোলা রাখার অনুমতি যারা নিতে পেরেছে তারাই আবার প্রণোদনার অর্থ বেশি আদায় করতে পেরেছে। আর লকডাউনে যাদের কল-কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে এদের বেশিরভাগই বঞ্চিত হয়েছে কোন রকম প্রণোদনা পেতে।

তিনি আরও লিখেছেন, ধনী দেশগুলোর পক্ষে লকডাউন কার্যকর করা সম্ভব, কিন্তু স্বল্পআয়ের দেশে লকডাউন কার্যকর করা কঠিন। তাই স্বল্পোন্নত দেশে লকডাউন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো যাবে না।

করোনার কারণে শিক্ষায় যে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য তৈরি হয়েছে তাতে ভবিষ্যৎ আয়-বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

জীবন-জীবিকার সমন্বয়ে বাঁচতে হলে ভাবতে হবে, এখনই নিতে হবে অন্তত এক বছরের সার্বিক পরিকল্পনা। নয়তো বারবার লকডাউনের অপচয়ে পড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির বোঝা বাড়বে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (15)
Dewan Jamal Abu Naser ২১ এপ্রিল, ২০২১, ১:৫৩ পিএম says : 0
Arrange at least two times free food for all helpless people & then think to give all out lock down in Bangladesh.
Total Reply(0)
Shahidul Islam ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১০:২৬ এএম says : 0
খুব সুন্দর ও সমপোযোগী লেখা।
Total Reply(0)
Humayun kabir ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০৮ পিএম says : 0
শতভাগ যুগোপযোগী বাণী ❤
Total Reply(0)
আনছারুল ইসলাম ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১০:০৮ এএম says : 0
আপু আপনি যথার্থ বলেছেন। আমি একমত আপনার কথায়
Total Reply(0)
Sharna Sarmin ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১:৩০ পিএম says : 0
খুব সুন্দর ও যথার্থ কথা
Total Reply(0)
কাজী শরীফ ২২ এপ্রিল, ২০২১, ২:৪১ পিএম says : 0
সময়ের সেরা মন্তব্য
Total Reply(0)
Md Mudassir Alam ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৫:২৯ পিএম says : 0
গরীব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কথা চিন্তা করে লকডাউনে কর্মহীন মানুষের জন্য প্রনোদনা বিষয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করা দরকার।
Total Reply(0)
আব্দুল মান্নান ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৩:০১ পিএম says : 0
অনেক সুন্দর বলেছেন ম্যাডাম কথাগুলো ১০০% সত্য
Total Reply(0)
zahidul monowar ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৪:৪৪ পিএম says : 0
Apu kotha gulo sotti valo legeche.. amra feel kori ei lockdown bed side gula.
Total Reply(0)
Md Mudassir Alam ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৫:২৯ পিএম says : 0
গরীব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কথা চিন্তা করে লকডাউনে কর্মহীন মানুষের জন্য প্রনোদনা বিষয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করা দরকার।
Total Reply(0)
ড. মো. নাজমুল কবির চৌধুরী ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৪:৩০ পিএম says : 0
সরল মনের এ লিখাটি ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির মঙ্গল কামনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু অনেকগুলো জায়গায় যৌক্তিকভাবে আপনার সাথে একমত হতে পারছি না। ১. “লকডাউন ধনীবান্ধব, দরিদ্রবান্ধব নয়।” আমি মনে করি লকডাউন কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না- তাই লকডাউন ধনীবান্ধব! তা ও সম্ভব নয়। ২. “কিন্তু ছোট ছোট শিল্প উদ্যোগগুলো ধ্বংস হলে সেগুলো পুনরায় গড়ে তোলা কঠিন হবে।” তা সত্যি তবে আমাদের মনে রাখতে হবে সবার আগে মানুষের (সকল ধরনের উদ্যোক্তারাসহ) জীবন। ছোট ছোট শিল্প উদ্যোগগুলো ধ্বংস হলে সেগুলো পুনরায় গড়ে তোলা কঠিন হবে কিন্তু কাজটি সম্ভব বরং ছোট ছোট শিল্প উদ্যোক্তার জীবন ধ্বংস হলে তা কোনভাবেই ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়! ৩.“করোনার প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ১০ থেকে ১৫ বাকি ৮৫ ভাগ সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু দারিদ্র্যের কশাঘাতে অপুষ্টির শিকার হলে ধুকে ধুকে মরতে হবে অনেককে।” এখানে দেখুন এই যে আপনি বলছেন মৃত্যুর হার ১০ থেকে ১৫ এটি কিন্তু লকডাউনের ফল লকডাউন না হলে এই মৃত্যুহার ৮৫% হতো না তার গ্যরান্টি কে দেবে অন্তত দুনিয়ার কোন চিকিৎসক বা বিজ্ঞানী বা অর্থনীতিবিদ তা পারবে না। তাই লকডাউন না দিয়ে আমাদেরকে করোনার প্রাদুর্ভাবে এখনই মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর কথা চিন্তা না করে ভবিষ্যত মৃত্যু তথা দারিদ্র্যের কশাঘাতে অপুষ্টির শিকার হলে ধুকে ধুকে মরবে তা বিবেচনা কতটুকু সমীচীন? ৪. “লকডাউনে সচ্ছল ধনী মানুষ তার বড় বাসায় সোশ্যাল ডিসটেন্স মানতে পারবে, কিন্তু ঝুঁপড়ি ঘরে থাকা মানুষগুলো লকডাউনে একে অন্যের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হয় দিনের বেশিরভাগ সময়।” এটিও আমার বোধগম্য নয় কারণ কার্যকর লকডাউন হলে ধনী-গরীব কাউকেই নিজ বাসায় সোশ্যাল ডিসটেন্স মানার প্রয়োজন হবে না! কারণ লকডাউনে সকলেরই ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কম। লকডাউন মানে তো সকলেই ঘরে থাকবে এবং এতে ভাইরাস আক্রমনের চেইন বাধাগ্রস্থ হয় এবং কম সংখ্যক (জনগোষ্ঠি) আক্রান্ত হবে এবং এরপরও যারা আক্রান্ত হবে তাদেরকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। ৫. “লকডাউনে কল-কারখানা খোলা রাখার অনুমতি যারা নিতে পেরেছে তারাই আবার প্রণোদনার অর্থ বেশি আদায় করতে পেরেছে। আর লকডাউনে যাদের কল-কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে এদের বেশিরভাগই বঞ্চিত হয়েছে কোন রকম প্রণোদনা পেতে।” এখানে আমি একমত বরং এটি কারো ব্যক্তিগত অসততার সাথেই বেশি সম্পর্কিত। ৬. “করোনার কারণে শিক্ষায় যে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য তৈরি হয়েছে তাতে ভবিষ্যৎ আয়-বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।” এখানে আমার মতামত হলো ভবিষ্যৎ আয়-বৈষম্য আরও বাড়বেই। ৭. “জীবন-জীবিকার সমন্বযয়ে বাঁচতে হলে ভাবতে হবে, এখনই নিতে হবে অন্তত এক বছরের সার্বিক পরিকল্পনা। নয়তো বারবার লকডাউনের অপচয়ে পড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির বোঝা বাড়বে। ” এখানেও আমি বলব এ ভাইরাসের প্রভাব এক-দুই বছরে শেষ হবে না তাই আমাদেরকে এক বছরের সার্বিক পরিকল্পনা না করে অন্তত ৫ বছরের পরিকল্পনা করতে হবে।
Total Reply(0)
jumel ahmed ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ৩:২১ পিএম says : 0
আপনি যথার্তই বলেছেন। তবে লকডাউন কারো জন্যই ভাল না। দেশের জন্য ও না। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের মানুষ যেখানে ক্ষুধার জ্বালায় দু মোটো ভাত খেতে পায় না, সেখানে লকডাউন দেওয়াটা কত টুকু যুক্তিসঙ্গত। হকার, দিনমজুর, ঠেলা চালক,রিক্সা চালক এদের পেট চলবে কি ভাবে? সরকারকে এদের দায়ভার যথাযত মেনে নিয়ে লকডাউন দিতে হবে।
Total Reply(0)
Hasan Khan ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ১২:৪২ এএম says : 0
ধন্যবাদ। এখন নীতি নির্ধারকরা অনুধাবন করতে পারলে রক্ষা হয়।
Total Reply(0)
Hasan Khan ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ১২:৪৩ এএম says : 0
ধন্যবাদ। এখন নীতি নির্ধারকরা অনুধাবন করতে পারলে রক্ষা হয়।
Total Reply(0)
মোঃআনোয়ার পারভেজ শামিম ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ১০:১৩ এএম says : 0
গরীব মানুষ আসলেই অসহায়।এই অসহায় জনসাধারণ তথা নিম্ন আয়ের মানুষ পরিশ্রম করতে করতে স্ট্রং ইমিউনিটি অর্জন করে।ফলে তারা এ্যাটাক কম হয়।ফলে মৃত্যু ঝুঁকি তাদের কম।এই এক দেড় বছরে গরীব মানুষ করোনায় কয় জন মারা গেছে আমার জানা নেই।তবে আমার এলাকায় আমি দেখিনি। আর বড় বড় শিল্প কারখানা গার্মেন্টস শিল্পের মালিক তথা ধনিক শ্রেণির মানুষেরা সারাজীবন ব্যাবসা করেও একমাস বা দুইমাস কারখানা বন্ধ রাখতে পারে না।তাতে তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দিতে গেলে সরকারের প্রনোদনা লাগে।তো সারাজীবন এই শ্রমিক কর্মকর্তা কর্মচারীদের দ্বারা তারা যা আয় করেছে তা কোথায় গেলো? একমাস বা দুইমাস যদি বসিয়ে বেতন দিতে না পারে তো এমন বড়লোক কোন কাজে লাগলো।? সব কিছুই পড়ে থাকবে। কারন কাফনের কোন পকেট থাকে না।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন