ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৮ আষাঢ় ১৪২৮, ১০ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

মহানগর

রাজধানীতে ভেজাল ট্যাং তৈরির কারখানায় অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হলেও নেই ল্যাব, কেমিস্ট এমনকি টেকনিশিয়ানও। এক রকম হাওয়ার ওপর চলছিল শাওন কনজ্যুমার ফুড প্রডাক্ট লিমিটেড। তৈরি করা হচ্ছিল একশর বেশি বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয়, ট্যাং, সফট ড্রিংক। যার অনেকগুলো তৈরির অনুমোদন নেই। আর অবৈধভাবে তৈরি ও বাজারজাতকরণে ব্যবহৃত কাঁচামালও মজুদ করা হয় নোংরা পরিবেশে, টয়লেটে।

গতকাল সকাল সোয়া ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত ভেজাল ট্যাং, মেয়াদোত্তীর্ণ সফট ড্রিংক বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর মাতুয়াইলের শাওন কনজ্যুমার ফুড প্রডাক্ট লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এসব অভিযোগ ও সত্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কফিল উদ্দিনকে (৪০) পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ের তিন মাসের জেল দিয়েছেন র‌্যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে র‌্যাব-১০ এর সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।
অভিযান শেষে ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, মাতুয়াইলের খান বাড়ি চৌরাস্তা, পূর্ব গোবিন্দপুরে শাওন কনজ্যুমার ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড অবস্থিত। এখানে লোকচক্ষুর আড়ালে ভেজাল ট্যাং তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ সফট ড্রিংক বিক্রি করা হচ্ছে। কমপক্ষে একশর বেশি লিক্যুইড খাদ্যপণ্য তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু নেই কোনো লাইসেন্স। আবার অবৈধভাবে খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য আমদানি করা হয়েছে কাঁচামাল। সেই কাঁচামাল লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে মজুদ করা হয়েছে টয়লেটে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ল্যাব নেই, কেমিস্ট, টেকনিশিয়ান নেই। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে, কিন্তু ফের একই ভেজাল ব্যবসায় নেমেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিপুল পরিমাণ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রং, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য, মেয়াদোত্তীর্ণ গ্লুকোজ, মেয়াদোত্তীর্ণ লেভেলবিহীন ফ্লেভার জব্দ করা হয়েছে। টয়লেটে খাদ্যদ্রব্য মজুদ অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী অপরাধ। আবার তৈরি করা অনেক পণ্যের অনুমোদন নেই।
ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, জেল-জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে যে, এক মাসের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সব বৈধতা অর্জন করতে হবে। ল্যাব, টেকনিশিয়ান, কেমিস্ট নিয়োগ করতে হবে। যদি এক মাসের মধ্যে তা না করেন তাহলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হবে। নিয়মিত মামলা দেয়া হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন