ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কুরবানির গরুতে জমে উঠছে কুমিল্লার হাটগুলো

প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : ছোট-বড় ট্রাকে করে গরু আসছে হাটে। কোরবানির গরুতে কুমিল্লার হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত রোববার থেকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও ষোল উপজেলায় জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেয়া অন্তত আড়াইশ’ স্থানে কোরবানির গরু, ছাগল, মহিষ বিক্রির হাট পর্যায়ক্রমে বসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার নগরীর চকবাজার হাটসহ বেশ ক’টি স্থানে  কোরবানির গরু, ছাগল বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। হাটে দালালের প্রভাব রয়েছে। ইজারাদাররা ক্রেতাদের দালাল থেকে সতর্ক থাকতে মাইকে পরামর্শ দিচ্ছেন। হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর প্রভাব নেই বললেই চলে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এবার কুমিল্লার কোরবানিদাতারা দেশীয় গরুতেই ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন।    
কুমিল্লার ষোল উপজেলায় প্রায় ৮৩ হাজার প্রকৃত খামারি, খ-কালীন ও পারিবারিক পর্যায়ের পালনকারী বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা এবং মৌসুমি ব্যবসায়ী বা বেপারীদের হাত ধরে উত্তরাঞ্চল থেকে আনা প্রায় চার লাখেরও বেশি গরু এবারের কোরবানির পশুর হাটে স্থান পাবে। এবার হাটগুলোতে গরু সঙ্কট দেখা দেবে না বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা। গতকাল বৃহস্পতিবার চকবাজার, ফকিরহাট, চান্দিনাসহ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় ট্রাকে করে গরু এসে ভর্তি হয়ে গেছে হাট। আবার আশপাশের গ্রামের গৃহস্থরা হেঁটেও গরু নিয়ে আসছেন হাটে। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার গতবারের চেয়ে দাম বাড়বে না। তবে হাটে পর্যাপ্ত গরু উঠলে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। এদিকে অনেক ক্রেতাই গতবার ঈদের দুই-একদিন আগে গরু সঙ্কটের ভয়ে আগেভাগে গরু কিনতে হাটে নেমেছেন। এ ধরনের ক্রেতারা দুপুরের দিকে অনেকটা বেশি দামেই গতকাল গরু কিনেছেন। তবে বিকেলের পর হাটে গরুর দর অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। ইজারাদাররা মাইকে ঘোষণা দিয়ে ক্রেতাদের আশ্বস্ত করছেন ‘এবার গরু সঙ্কট থাকবে না, সম্মানিত ক্রেতারা গরু আসছে, গরু আসবে, ভয়ের কারণ নেই, আপনার পছন্দের গরু কিনে নিতে পারবেন।’ কুমিল্লা নগরীর ও উপজেলার হাটগুলোতে গতকাল পাবনা, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রাজশাহী, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে আগত সিন্ধি, ফিজিয়ান, শাহীওয়াল, সুরমা, নেপালিসহ উন্নতজাতের দেশী গরু উঠেছে। সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু আনার সুযোগ না থাকায় এবার কুমিল্লার সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলার মধ্যে আদর্শ সদর, বুড়িচং, সদর দক্ষিণ, ব্রাক্ষণপাড়া ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হাটগুলো ভারতীয় গরুশূন্য।  
কুমিল্লার আড়াইশ’ হাটের মধ্যে উল্লেখযোগ্যেগুলো হচ্ছে- সদরের চকবাজার, বিবির বাজার, গোলাবাড়ি, কালীরবাজার হাই স্কুল মাঠ, চাঁনপুর গোমতীর বাঁধ, মুন্সিরহাট, বাজগড্ডা ও শিবেরবাজার। সদর দক্ষিণের বাগমারা, সুয়াগঞ্জ বাজার, চাঙ্গিনিবাজার, আশ্রাফপুরের করিম স্কুল ও নেওড়া। চৌদ্দগ্রামের মিরশান্নি, চৌদ্দগ্রাম বাজার, একতা বাজার, দেড়কোটা বাজার, মুন্সিরহাট ও চিওড়া বাজার। বরুড়ার ফকির বাজার, বরুড়া বাজার ও চ-িমুড়া বাজার। চান্দিনার এতবারপুর, চান্দিনা বাজার, শ্রীমন্তপুর বাজার, মাধাইয়া বাজার, রসুলপুর, মহিচাইল, নবাবপুর ও রামমোহনপুর। বুড়িচংয়ে নিমসার কাবিলা বাজার, ময়নামতিবাজার, কংশনগর, বানাসুয়া, ফকিরবাজার ও শংকুচাইল। ব্রাহ্মণপাড়ায় ব্রাহ্মণপাড়া বাজার, সাহেবাবাদ, শশীদল ও বাগরাবাজার। নাঙ্গলকোটে হেসাখাল বাজার, বাগড্ডা বাজার, নাঙ্গলকোট বাজার ও যুক্তিখোলা বাজার। মনোহরগঞ্জে পুমগাঁও, দৈয়ারা বাজার ও মনোহরগঞ্জ বাজার। মুরাদনগরে রামচন্দ্রপুর বাজার, যাত্রাপুর, গাজীর হাট ও টংকিবাজার। দেবিদ্বারে পৌর হাই স্কুল মাঠ, পুরানবাজার এবং দাউদকান্দিতে ইলিয়টগঞ্জ ও গৌরীপুর বাজারে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন