ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৮ আষাঢ় ১৪২৮, ১০ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

ইটভাটা মালিকের প্রতারণা

ফেনীতে গ্রাহকদের দেড় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা

ফেনী জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০২১, ১২:০১ এএম

ফেনীর ফুলগাজীতে দেড় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন এক ইটভাটা মালিক। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, কম দামে ইট বিক্রির লোভ দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম দেড় কোটি টাকা নিয়ে গা ডাকা দিয়েছেন উপজেলার বৈরাগপুরের নিউ পরফুল ব্রিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হাছান। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ইট দেয়ার কথা বলে তাদের ৬১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ও অর্ধশতাধিক শ্রমিকের মজুরির আরো প্রায় ১০ লাখ টাকা বকেয়া রেখে গত ২৩ মার্চ থেকে উধাও হয়ে যান তিনি।

জেলার পরশুরাম উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের এক ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতা জানান, আমি গত বছরের আগস্ট মাসে ২০ হাজার ইটের জন্য অগ্রিম এক লাখ দিয়েছি। ফুলগাজীর গোসাইপুর গ্রামের শামীম মজুমদার জানান, আমি কয়েক কিস্তিতে তাকে ৭ লাখ টাকা দিয়েছি। এরমধ্যে কিছু ইট নিয়েছি। এখনো বেশিরভাগ ইট বাকি। এরমধ্যে ভাটার মালিক পালিয়েছেন। এখন কীভাবে উদ্ধার করবো বুঝতে পারছি না। মাটি কাটার শ্রমিকদের সর্দার ছাদেক মাঝি জানান, আমরা সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। কেউ মাটি কাটি, কেউবা টানি। আমাদের মজুরি না দিয়ে পালিয়েছেন তিনি। অর্ধশতাধিক শ্রমিকের মজুরির টাকা বকেয়া। এখন কোনো কুলকিনারা পাচ্ছি না। মাটি কাটার শ্রমিক লালমনিরহাট জেলার শিমুল, আশিক, মিঠু, ফারুক ও সুমন জানান, ঈদে একসঙ্গে টাকা পাওয়ার আশায় তারা এতদিন কাজ করেছেন। তারা প্রত্যেকে ২০-২৫ হাজার টাকা করে মালিকের নিকট পাওনা। কিন্তু তাদের মজুরি না দিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। টাকার জন্য তারা বাড়িতেও যেতে পারছেন না। টাকা না পেলে এখানেও কি খেয়ে বাঁচবেন এমন প্রশ্ন তাদের।

ব্রিকসের ম্যানেজার সপ্তম সাহা জানান, প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে মালিক (এমডি) হাছান মাহমুদ পালিয়ে গেছে। এখন সব মানুষ তাকে খুঁজছেন। আমি কী করবো। আমিও তো এখানে চাকরি করছি। আমারো ৪ মাসের বেতন বাকি। এমডির নম্বরে ফোন করলে তার স্ত্রী ফোন ধরেন। এমডির কোনো খোঁজ খবর তার স্ত্রীও জানেন না।

ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার জানান, আমিও সরল বিশ্বাসে ইট কেনার জন্য ওই লোকটিকে বেশ কিছু টাকা দিয়েছি। লোকটাকে দেখে প্রতারক বলে মনে হতো না। মানুষ এখন আমার অফিসে এসে ধরণা দিচ্ছে। আমি ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকদেরকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। ফুলগাজী থানার ওসি কুতুব উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে অনেকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন