ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ০২ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

স্বাধীনতা স্মৃতিচিহ্ন মুছে জিয়া শিশু পার্ক তৈরির সময় বুদ্ধিজীবীরা চুপ ছিলেন-নানক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ মে, ২০২১, ৪:১১ পিএম

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে স্মৃতি তুলে ধরার জন্যই এক বিশাল প্রকল্প নেয়া হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, যখন জিয়াউর রহমান শিশু পার্ক তৈরি করে স্মৃতিচিহ্নগুলি মুছে ফেলল তখন কিন্তু পরিবেশবাদী বা বুদ্ধিজীবীরা সেদিন বিরোধীতা করে করে নাই। এটি দুঃখজনক এবং দুভার্গ্যজনক।

শনিবার (৮ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ কমিটি উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাব কর্মচারী ইউনিয়ন ও ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির কর্মচারীদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, পাকিস্তানি আমলের রেসকোর্স ময়দান, সেই রেসকোর্স একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার মধ্য দিয়ে সেদিন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মুজিব তার স্বদেশে ফিরে এসে তার জন্মভ’মিতে ফিরে এসে সেই উদ্যানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্যাত করলেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ করলেন।
তিনি আরও বলেন, আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন সেই স্থলটি এবং শক্তিশালি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করার পর তাদের স্যারেন্ডার যেখানে হয়েছিল আনুষ্ঠানিকভাবে সেই জায়গাটি নষ্ট করা করে দিয়েছিলেন?
‘‘সেদিন জোর করে ক্ষমতা দখলকারী, বন্দুকের নল দিয়ে জোর করে ক্ষমতাদখলকারী জিয়াউর রহমান সাহেবই তো সেদিন ওই শিশু পার্ক করার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলি মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নানক বলেন, ‘‘আজকে সেই জায়গাটিতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে সেই স্মৃতি তুলে ধরার জন্যই, তুলে রাখার জন্যই সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
‘‘‘সেই বিশাল প্রকল্পে জলাধার রয়েছে, ঐতিহাসিক যে ভাষণ যে জায়গায় যে মঞ্চ থেকে দিয়েছিলেন, সেই মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, যে জায়গায় স্যারেন্ডার হয়েছে, সেই স্যারেন্ডারকৃত স্থানটিকে সংরক্ষণ করা এবং সমগ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি ছোট্ট শিশু ঢুকলে সে তার স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস; এই গেট থেকে ঢুকে ওই যে গিট দিয়ে বেরোবে, সেরকম একটি বিশাল প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
‘‘কিন্তু যখন ওই শিশু পার্ক তৈরি করে যখন স্মৃতিচিহ্নগুলি মুছে ফেলা হল তখন কিন্তু পরিবেশবাদীদেরকে দেখা গেল না? পরিবেশবাদীরা বা বুদ্ধিজীবীরা কিন্তু সেদিন বিরোধীতা করল না? প্রতিবাদ করল না, এটি দুঃখজনক এবং দুভার্গ্যজনক।”
অসহায় দুঃস্থ মানুষের মাঝে সহায়তার এগিয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আসুন, সমস্ত্র ধনীক শ্রেণীর মানুষেরা, অর্থশালী মানুষেরা মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। আপনার যাকাত দিয়ে দুস্থ গরীব মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। মানুষ তো মানুষের তরে। মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসুন।
ত্রান ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমুতুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবদুল জলিল ভুঁইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন