ঢাকা, রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনা তুঙ্গে

প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের উরিতে হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা প্রায় তুঙ্গে উঠতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষম মহল। এরমধ্যে উভয় পক্ষ থেকে হামলা এবং যুদ্ধের হুমকিও শোনা যাচ্ছ। উরিতে সেনা সদর দফতরে পারিচালিত হামলার ব্যাপারে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ মন্ত্রণালয় মুখপাত্র নাফিজ জাকারিয়া জানিয়েছেন, ভারতে যে কোনো নাশকতা হলেই তাতে পাকিস্তানের মদত দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। আসলে কাশ্মীরি জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন থেকে বিশ্বের মনোযোগ বিনষ্ট করার জন্যই এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয় বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়া বলেছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই কাশ্মীরের উরিতে হামলার দায় পাকিস্তানের ওপরে চাপিয়ে দিচ্ছে ভারত। প্রমাণ কোথায়? কোনো তদন্তই হয়নি। তার আগেই ভারত পাকিস্তানের ওপর উরি হামলার দায় চাপানো হচ্ছে। গত রবিবার রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যের পরই তিনি এ মন্তব্য করেন। উরিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর গত রোববার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করে বলেছেন, পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র৷ তিনি এই হামলার জন্য প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচ- ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
তার এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে জাকারিয়া বলেন, অন্যান্য সব রাষ্ট্রেরও পাকিস্তানকে সেভাবেই দেখা উচিত। তিনি বলেন, ভারতে কোনো হামলা হলেই পাকিস্তানের দিকে আঙুল তোলে নয়াদিল্লি সরকার। উরি হামলার ব্যাপারে কোনো প্রকার তদন্ত হওয়ার আগেই ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাকিস্তান সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্য দিকে, ভারত দাবি করছে, জম্মু-কাশ্মীরের উরিতে জঙ্গি হামলার পিছনে রয়েছে জৈশ-ই-মহম্মদের হাত। দেশটির বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এমনই মনে করছে৷ ভারতের সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকেও একই কথা বলা হয়েছে। উরিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডিজিএমও রণবীর সিং বলেছেন, হামলা চালিয়েছে জৈশ-এ-মহাম্মদের জঙ্গিরা। নিহত জঙ্গিদের কাছে যেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে পাকিস্তানের ছাপ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। আর এহেন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় প্রপাগান্ডার জবাবে হামলার হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রস্তুত পাকিস্তান। দরকার হলে যাবতীয় অস্ত্রভা-ার ব্যবহার করতেও পিছপা হবো না।
অপর এক খবরে জানা যায়, কাশ্মীরের উরি সেনাক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলায় ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। ভারতীয় সূত্রের খবরে জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানভুক্ত আজাদ কাশ্মীরে কথিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে যাচ্ছে ভারত। গত রোববার সকালে হামলার খবর নয়া দিল্লিতে পৌঁছতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এরপর তিনি করণীয় নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, আইবি ও ‘র’ এর প্রধানরা। ছিলেন সেনার অপারেশনস শাখার প্রধানও। এতেই আশংকা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। আশংকা আরো বেড়েছে নরেন্দ্র মোদির টুইটে। টুইট বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, উরি সেনাক্যাম্পে হামলায় দোষী কাউকে ছাড়া হবে না। দুপুরে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে রাজনাথের বাড়িতে। তবে বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এদিকে, বৈঠকের পর টুইটারে এক বিবৃতি দেন রাজনাথ সিং। সুর্নিদিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে করতে রাখঢাক না করেই সারা বিশ্বের কাছে তিনি আবেদন জানান, পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র। একে বিচ্ছিন্ন করুন। তিনি বলেন, উরিতে হামলাকারীদের প্রচুর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তাদের কাছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্রও ছিল। ডন, দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, পার্স টুডে, আরটিএনএন, এনডিটিভি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
Khairul A Chowdhury. ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:৪৬ এএম says : 0
This is a dangerous phenomenon, because both the country holding nuclear arms. God forbid if, any party think that they are not going to win the war, they will not spare to use nuclear bomb. Which will create a havoc to their own country and also for the nearest countries and will be great human catastrophe. Before engaging in such dangerous path, they should seriously need to think the consequence. We hope sanity prevails among them.
Total Reply(0)
umar ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ৪:০২ পিএম says : 0
যুদ্ধ যদি বেধেই যায় তাহলে কি হবে? দুটি দেশ প্রায় জনমানবহীন সম্ভবত: প্রাগঐতিহাসিক যুগে ফিরে যাবে।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন