রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২২ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বিনোদন প্রতিদিন

ইউটিউবে ভিউ সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে কমে যাচ্ছে মানসম্পন্ন নাটক

বিনোদন রিপোর্ট: | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২১, ১২:০১ এএম

বর্তমানে একটি নাটকের দর্শক দেখল কি দেখল না তা নির্ভর করছে ইউটিউব চ্যানেলে কত ভিউ হলো তার উপর। নাটকটি মানসম্পন্ন না হলেও ভিউ সংখ্যাই এর দর্শকপ্রিয়তা নির্ণয় করছে। যে নাটকের যত বেশি ভিউ হচ্ছে সেটিকেই সেরা হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে নির্মাতা, প্রযোজক ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মানের দিকে খেয়াল না করে ভিউয়ের পেছনে ছুটছেন। এতে নাটকের ঐতিহ্য হারাচ্ছে দেশীয় নাটক। সাধারণত একটি নাটক পুরো না দেখলেও তা ভিউ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে নাটকের মান বিচার করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে চটুল গল্পের ভাঁড়ামোপূর্ণ নাটকের সংখ্যা বেশি। বিগত দুই বছরে সর্বাধিক ভিউয়ের বেশিরভাগ নাটকের গল্প দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। অনেক নির্মাতা মনে করেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কেউ কেউ সম্ভাব্য ভাইরাল গল্পের বাইরে কাজ করতে আগ্রহ দেখান না। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোও সেই ধরনের গল্পের নাটকগুলোর বেশি প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে গল্পনির্ভর নাটকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ভাল গল্পের নাটকগুলো প্রচারণার অভাবে দর্শকের চোখে পড়ছে কম। বেশির ভাগ টিভি চ্যানেলে নাটকের প্রিভিউ কমিটি না থাকায় নাটক নির্বাচন করছে মার্কেটিং বিভাগ। তারা গল্পনির্ভর নাটকের চেয়ে কাটতির কথা মাথায় রেখে সম্ভাব্য ভিউসর্বস্ব নাটকগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে জানা যায়। নির্মাতা ও অভিনেতা সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, এখন নাটক চলে গেছে চ্যানেলের মার্কেটিং বিভাগ ও এজেন্সির হাতে। তারাই নাটকের গল্প ও শিল্পী নির্ধারণ করে দেয়। কি ধরনের গল্পে কাজ করতে হবে এবং কোন কোন শিল্পীকে নিতে হবে তা নির্বাচন করে চ্যানেলের মার্কেটিং বিভাগ ও এজেন্সিগুলো। যার কারণে অনেক সময় নির্মাতারা নিজেদের পছন্দের গল্পে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার এটিও সত্যি এই সময়ের অনেক তারকা ভালো ভিউ হতে পারে এমন গল্পের নাটকগুলোতেই বেশি কাজ করছেন। যে নাটকের বেশি ভিউ হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেটিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর শিল্প মান কেমন হবে কিংবা দর্শকদের মনে দাগ কাটবে কিনা তা তাদের কাছে বিবেচ্য নয়। অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ বলেন, নাটকের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও মান কখনো এক হতে পারে না। এই সময়ের অনেক শিল্পীর ফলোয়ার বেশি। একইসঙ্গে তাদের নাটকে ভিউ ভালো হচ্ছে। কিন্তু তাদের মানস¤পন্ন কাজের সংখ্যা কম। আমি অনেক নাটক দেখি। কিন্তু অমার কাছে বেশির ভাগ নাটক একইরকম মনে হয়। আমি মনে করি, দর্শক যেহেতু তাদের পছন্দ করছেন তাদের উচিত গল্পনির্ভর নাটকের দিকে মনোযোগ দেয়া। তাদের ফলোয়ারদের কাজে লাগানো উচিৎ। একটি চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রধান বলেন, এই সময়ে টিভিতে নাটক প্রচারের পর সেটি চলে যাচ্ছে ইউটিউবে। এখানে বিভিন্ন শ্রেণির দর্শক আছে। তবে বেশির ভাগ দর্শক আজকাল কমেডি নাটক দেখতে পছন্দ করে। তবে আমাদের উচিত দর্শকদের জোর করে না হাসিয়ে গল্পের মাধ্যমে হাসানো। আমাদের নাটকের নিজস্বতা আছে। আমাদের প্রয়োজন আমাদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা। নাটক সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সময়ে কোটি ভিউর নাটকের দর্শকের বেশির ভাগ তরুণ। এরা শিল্পের চেয়ে হাসি-তামাশাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশির ভাগ কমেডি নাটকের ক্লিপ প্রমোট করা হচ্ছে। দর্শক ক্লিপ দেখে আগ্রহী হয়ে সেসব নাটক দেখছে। তবে নাট্যবোদ্ধাদের মতে, দর্শককে নাটক উপহার দেয়ার বিষয়টি নির্মাতা ও প্রযোজকদের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। তার যদি ভিউয়ের কথা বিবেচনা না করে ভাল গল্পের ম্যাসেজ নির্ভর নাটক নির্মাণ করে ইউটিউবে দেন, তাহলে দর্শকও ধীরে ধীরে এসব নাটক দেখা শুরু করবে। মোট কথা, দর্শকের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সস্তা গল্পের ভাঁড়ামোপূর্ণ নাটক দিয়ে ভিউ বাড়িয়ে ব্যবসায়িক চিন্তা বাদ দিতে হবে। আমাদের নাটকের ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। কারণ, ইউটিউবের মাধ্যমে সারাবিশ্বে আমাদের নাটক ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ভাল গল্পের নাটক না হলে আমাদের নাটক সম্পর্কে বিশ্বে মন্দ ধারণা সৃষ্টি হতে পারে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন