ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৮ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

মসজিদ মাদরাসার টাকা যায় কই-১

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম

মসজিদ মাদরাসার টাকা যায় কই? এ প্রশ্নটি সাধারণত তারাই বেশি করেন, যারা নিজেরা টাকা পয়সা দেন না। যাদের টাকা পয়সা মসজিদ মাদরাসায় খুব একটা আসে না। যারা মসজিদ মাদরাসায় টাকা পয়সা দেন তারা এসব টাকা কোথায় যায় তা জেনেই দেন। তাছাড়া, মসজিদ মাদরাসা যাদের দানে চলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই এসব চালান। কাছ থেকে সব দেখেন জানেন এবং নিজেরা চাঁদা তুলে এসবের বাড়তি প্রয়োজনও পূরণ করেন। এভাবেই লাখো মসজিদ নির্মিত হয়েছে। দেশে এখনো সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছ্বতা রয়েছে মসজিদ মাদরাসার হিসাবে নিকাশেই।

যুগ যুগ ধরে এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ নিজের কষ্টার্জিত অর্থ সম্পদ ও মূল্যবান সম্পত্তি দিয়ে মুসলিম সমাজের জন্য জামাতে নামাজ, কোরআন শিক্ষা ও দীনি তালিমের ব্যবস্থা করে আসছেন। এসবের প্রতিষ্ঠা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সাথেও সমাজের সর্বাপেক্ষা আস্থাভাজন আমানতদার ব্যক্তিরা জড়িত। যে জন্য ক্রমান্বয়ে আজ বাংলাদেশের ছোট বড় মসজিদ ও নামাজখানার সংখ্যা চার লাখের ওপরে গিয়ে পৌঁছেছে। এসবই সাধারণ জনগণের দান সহায়তায় নির্মিত হয় এবং সারাজীবন সচল থাকে।

স্থাপিত মসজিদের নিয়মিত ব্যয়ের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ, মাইক, পরিচ্ছন্নতা, মেনটেইনেন্স, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও কর্মীদের বেতন ভাতা শামিল। এসব ব্যয় দানবাক্স, নামাজ পরবর্তী বাক্স চালনা, নামাজিদের মাসিক চাঁদা, এককালীন দান ইত্যাদি থেকে আসে। প্রায় মসজিদেই যখন তখন কমিটির দায়িত্বশীলেরা আয় ব্যয়ের হিসাব মুসল্লিদের জানিয়ে দিতে সক্ষম। অনেক মসজিদে সাপ্তাহিক আয় ব্যয়ের হিসাব প্রতি সপ্তাহে এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

জনগণের দান মসজিদের দায়িত্বশীলদের কাছে আমানত। দান যথাযথ জায়গায় খরচ না করলে বা তার সঠিক ব্যবহার না হলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আমানতদারিতাকে আল্লাহতায়ালা মুমিনের অন্যতম গুণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এরা সেই লোক যারা আমানতের প্রতি লক্ষ্য রাখে এবং স্বীয় অঙ্গীকার হেফাজত করে।’ (সূরা আল মুমিনুন : ৮)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানত তার মালিককে যথাযথভাবে প্রত্যর্পণ কর।’ (সূরা নিসা : ৫৮)।

শহরের বিখ্যাত ও বড় বড় মসজিদ ছাড়া সাধারণ লাখো মসজিদ ধর্মপ্রাণ মানুষের ত্যাগ সাধনা ও কষ্টের বিনিময়ে চলে। বিশেষ করে মসজিদ সংশ্লিষ্ট লোকজন মসজিদের কাজ ও খেদমতকে পেশা হিসাবে না দেখে, দেখেন আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যম হিসাবে। নিজেকে এ কর্মক্ষেত্রে আবদ্ধ রাখার বিনিময়ে, তারা জীবিকার জন্য খুবই নগণ্য সম্মানী পান ঠিকই কিন্তু বর্তমান বাজারে এর আর্থিক মূল্য মোটেও উল্লেখযোগ্য না।

হাজারো মসজিদ এমন আছে যেখানে একবছরেও ইমাম মুয়াজ্জিন খাদেমগণ নির্ধারিত সম্মানীটুকু পান না। বাকি বকেয়া ও ভেঙে ভেঙে সামান্য কিছু নেয়ার ওপরই সন্তুষ্ট থেকে দীনি কাজ চালু রাখেন। নিজের পার্থিব চাওয়া পাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে মসজিদ আবাদ রাখার দায়িত্বটুকু নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।
একই কথা মাদরাসার ব্যাপারেও বলতে হয়। সামান্য সম্মানীর বিনিময়ে হাজারো আলেম হাফেজ ও কারী সাহেবগণ সমাজের মানুষকে ইসলামী জীবন যাপনের উপযোগী জ্ঞান ও শিক্ষা দান করে থাকেন। প্র্যাকটিসিং মুসলিম হওয়ার জন্য এই শিক্ষার বিকল্প নেই। লাখো শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে আবারো আলেম হাফেজ ইমাম হয়। দেশের ইসলামী অঙ্গনের লাখো কর্মশক্তি মাদরাসা থেকেই তৈরি হয়ে আসে।

অতীত কাল থেকে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ নিজেদের অর্থ সম্পত্তি দিয়ে ইসলামী শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা ও চর্চার এ ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছেন। সমাজের সুবধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিরাট এক অংশ মাদরাসায় বিনা পয়সায় থাকা খাওয়া বইপত্র পোষাক ও চিকিৎসাও পেয়ে থাকে। দেশে বহু কওমী মাদরাসা আছে যেখানে যথারীতি লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানা রয়েছে। কোনো কোনো মাদরাসায় ৫/৭ হাজার শিক্ষার্থীও আবাসিক হলে থেকে ফ্রি খানার সুবিধা পাচ্ছে।

মধ্যমানের মাদরাসায়ও ৩/৪ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন তিনবেলা রান্নাবান্না করতে হয়। মাসে শত শত মন চাল ডাল লাগে। এসবই মানুষের সাধারণ চাঁদা, দান খয়রাত, জাকাত সদকা থেকে আসে। বহু বিত্তবান ব্যবসায়ী আছেন যারা সবসময় মাদরাসার খোঁজ খবর রাখেন। এতিম ও অসহায়রা না খেয়ে থাকবে তা তারা মেনে নিতে পারেন না। যত চাল ডাল প্রয়োজন দিয়ে থাকেন। অনেকে টাকা পয়সা দেন। কারণ এতিম মিসকিন ও অভাবি মানুষকে সাহায্য করা ইসলামের বিধান। বিশেষ করে দীনি ইলম অন্বেষী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা মানে ইসলামী সমাজ ও সংস্কৃতি বিকাশে ভূমিকা রাখা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (14)
Ahmad Mosahid ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩১ এএম says : 0
দান-সাদকা উত্তম ইবাদত। দুনিয়ার কল্যাণ ও পরকালের মুক্তি দান-সাদকার বিকল্প নেই। হায়াত লাভ গোনাহ মাফের অন্যতম ইবাদত এটি। শান্তি ও কল্যাণকর যে কোনো কাজই হতে পারে সৃষ্টির জন্য অনন্য দান।
Total Reply(0)
Ahmad Mosahid ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩১ এএম says : 0
দান-সাদকা উত্তম ইবাদত। দুনিয়ার কল্যাণ ও পরকালের মুক্তি দান-সাদকার বিকল্প নেই। হায়াত লাভ গোনাহ মাফের অন্যতম ইবাদত এটি। শান্তি ও কল্যাণকর যে কোনো কাজই হতে পারে সৃষ্টির জন্য অনন্য দান।
Total Reply(0)
Ahmad Mosahid ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩১ এএম says : 0
দান-সাদকা উত্তম ইবাদত। দুনিয়ার কল্যাণ ও পরকালের মুক্তি দান-সাদকার বিকল্প নেই। হায়াত লাভ গোনাহ মাফের অন্যতম ইবাদত এটি। শান্তি ও কল্যাণকর যে কোনো কাজই হতে পারে সৃষ্টির জন্য অনন্য দান।
Total Reply(0)
সাইফ আহমেদ ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩১ এএম says : 0
মসজিদে একটি কুরআন মাজিদের পাণ্ডুলিপি রেখে দিন। যখনই মসজিদে যাবেন, নিজে কুরআন মাজিদ পড়বেন; নিজে না পড়লেও যে কেউ তা পড়বে; তাতেও মিলবে সাদকায়ে জারিয়ার সাওয়াব।
Total Reply(0)
মোঃ নাজমুল ইসলাম ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩৩ এএম says : 0
উসমান ইবনু আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর নির্মাণ করবেন।’
Total Reply(0)
মেঘদূত পারভেজ ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩৩ এএম says : 0
মসজিদ হলো ইমানের ইস্পাতকঠিন দূর্গ। তাওহিদের বাণী প্রচারের কেন্দ্র। মসজিদ হলো সেই বিদ্যালয়, যেখান থেকে গড়ে উঠেছিলেন এই উম্মাহর প্রথম প্রজন্ম। মসজিদই ছিল সেকালে জ্ঞানচর্চার সর্বোচ্চ কেন্দ্র। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতের পর মদিনায় এসে সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন।
Total Reply(0)
সোয়েব আহমেদ ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩৫ এএম says : 0
আমাদের গ্রামে দেখেছি ‍যারা িএই ধরনের প্রশ্ন করত তারা কেউ দান করতেন না। প্রকাশ্যে সমাজে এই ধরনের প্রশ্ন তুলে ফেতনা বাধানোর চেস্টা করতেন। এরা হলো শয়তানেরই জাত ভাই।
Total Reply(0)
নোমান মাহমুদ ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩৫ এএম says : 0
যারা আল্লাহর পথে প্রকৃতভাবে দান করে তারা কখনও এই ধরনের ফালতু প্রশ্ন তুলে না। তারা ভালো ভাবেই জেনে দান করেন।
Total Reply(0)
নূরুজ্জামান নূর ১৪ জুন, ২০২১, ১:৩৬ এএম says : 0
মাদরাসায় বহু শিক্ষক নামে মাত্র বেতন দিয়ে বছরের পর বছর পড়াচ্ছেন। ওথচ তিনি কোনো জেনারেল স্কুলে পড়ালে মাসে মাসে ভালো টাকা আয় করতে পারতেন। তবুও এই ত্যাগী মানুষদের কটাক্ষ করে কিছু বলা উচিত নয়।
Total Reply(0)
Moinuddin ১৪ জুন, ২০২১, ৯:২২ এএম says : 0
বিশ্ব ছুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও ইনসানিয়াত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিস্বব্যবস্থার আহবায়ক ইমাম হায়াত বলেন আমরা মানবতায় বিশ্বাসী তথা সব মানুষের সার্বজনীন রাষ্ট্র ও মুক্ত বিশ্বে বিশ্বাসী দুনিয়ার নিপীড়িত মানুষগণ সার্বজনীন মানবতার রাজনীতির রূপরেখায় সঠিক পথে সঠিক লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হলেই মানবতা ধ্বংসাত্মক অপশক্তির অপরাজনীতি দূর হয়ে যাবে এবং মুক্ত মানবতার শান্তিময় জ্ঞানময় নতুন বিশ্ব তৈরি হবে, যা ব্যতীত জীবন ও দুনিয়া কেবল মিথ্যা-মূর্খতা-জুলুম-খুন-সন্ত্রাস-বর্বরতা-স্বৈর-দস্যুতা পরাধীনতার আঁধারে বিণাশ হতে থাকবে। সূর্যোদয় ব্যতীত যেমন রাত পোহাবে না তেমনি মানবতার রাজনীতি ও মানবতার রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার বিশ্ব ব্যতীত মানবতার উদ্ধার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তি কখনও আসবে না। বিশ্ব ছুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও ইনসানিয়াত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার আহ্বায়ক ইমাম হায়াত এর অনুমোদনক্রমে ইনসানিয়াত পার্টি, বাংলাদেশ Humanity Party, Bangladesh।
Total Reply(0)
এরশাদুল ইসলাম ১৪ জুন, ২০২১, ১০:৩২ এএম says : 0
আলহামদুলিল্লাহ খুব সুন্দর লেখা।
Total Reply(0)
N Islam ১৪ জুন, ২০২১, ১২:১২ পিএম says : 0
উবায়দুর রহমান খান নদভী সাহেবের মতো জ্ঞানী মানুষের সাথে দ্বিমত করার কিছু নেই । কিন্তু ইদানিং কিছু মসজিদে বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় জুম্মার নামাজের খুৎবা বন্ধ করে রেখে আধা-ঘন্টা / ৪৫ মিনিট ধরে মসজিদের অবকাঠামো নির্মানের কথা বলে যেভাবে সাহায্য সংগ্রহের কসরত চলে, মূল নামাজের পরিবেশই নষ্ট হয়ে যায় এবং এই কাজগুলি বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে, কিন্তু মসজিদের অবকাঠামোর কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনা । ঢাকা শহরের একটি মসজিদেও এই কাজ চলে আসছে কয়েক বছর ধরে, কেউ চাইলে জুম্মার নামাজে যেয়ে দেখে আসতে পারেন (মিরপুর ১ নম্বর মোড় থেকে টেকনিক্যাল মোড়ের দিকে যেতে হাতের বাঁয়ে পড়বে, সম্ভবতঃ গণপূর্তের কোন আবাসিক এলাকায়, কুয়েত মসজিদের বিপরীতে ) । দেশের কোন কোন জায়গায় পেশী-জীবিরা মসজিদের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে, যারা নিয়মিত নামাজও পড়েনা । এছাড়া সরকারী খাস জমি দখলের উদ্দশ্যে, রাস্তার সম্প্রসারন ঠেকাতে এদেশে হাজারও মসজিদ গড়ে উঠেছে, এমন কি নদীর ভিতরেও । এসব মসজিদ কখনওই আলীম-উলমারা নন, সংশ্লিষ্ট এলাকার সন্ত্রাসী-দখলবাজরা প্রতিষ্ঠা করে । যদিও মদ্রাসা থেকে ইসলামী শিক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নামমাত্র সম্মানীতে এসব মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আর ইসলামবিদ্বেষীরা সব দায়-দায়িত্ব তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়, দখলবাজরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় ।
Total Reply(0)
প্রবাসী-একজন ১৪ জুন, ২০২১, ৫:০৬ এএম says : 0
মসজিদ-মাদ্রাসার টাকা কোথায় যায়? বেশির ভাগ সময়ে এটা একটা অবান্তর প্রশ্ন; কিন্তু এ প্রশ্ন কখনো কখনো সঙ্গত কারণেই উঠে থাকে। আপনি যদি কোনো মসজিদের ইমামকে রেসিং কার চালাতে দেখেন; কিংবা ডিজেনিল্যান্ডে স্বপরিবাবারে বেড়াতে দেখেন, তাহলে ইমাম সাহেবের টাকার উৎস সম্পর্কে আপনার কিছু প্রশ্ন আসতেই পারে। বিশ্বের কয়েকটি দেশে বসবাসের কারণে বেশ কিছু ইসলামিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উদ্দ্যোক্তা এবং খেদমতকারীদের সাথে মেলামেশার সুযোগ আমার হয়েছে। প্রায় তিরিশ বছর আগে আমি আমেরিকার একটি সুন্দর মসজিদে রমজান মাসে জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। নামাজের পরে মসজিদের ইমাম সাহেব এবং কয়েকজন বাক্স হাতে নিয়ে জাকাত, ফিতরা এবং সাদাকা তুলছিলেন। বাক্সগুলোর কোনোটিতেই কোনো লেবেল না থাকায় আমি ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, জাকাতের বাক্স কোনটি? তিনি বললেন, আপনি যে কোনো একটিতে দিতে পারেন। আমি বললাম, তা কী করে হয়? আপনি সবকিছু মিলিয়ে ফেলছেন। আমেরিকান ইমাম সাহেব চড়া গলায় আমাকে বললেন, মসজিদের দেখভাল করতে অনেক টাকা লাগে, ওটা কি আকাশ থেকে পড়বে। ওই মসজিদে আর কোনোদিন আমি যাইনি, আর আমার সঙ্গে নেয়া টাকাগুলো অন্য একটি মসজিদে দিয়ে দিয়েছিলাম।
Total Reply(0)
আরিফ ১৪ জুন, ২০২১, ৮:১৫ এএম says : 0
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাংবাদিক জনাব ওবায়দুর রহমান খান নদভী সাহেবকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ সময় উপযোগী প্রবন্ধ লিখার জন্য।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন