ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৮ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

মাদরাসা শিক্ষাকে অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় চালু

ডয়সে ভেলের টকশোতে ড. সলিমুল্লাহ খান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম

অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান একজন প্রথিতযশা চিন্তাবিদ, দার্শনিক ও লেখক। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই পণ্ডিত দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে গণবুদ্ধিজীবী হিসেবে সর্বাধিত পরিচিত। তার রচনা ও বক্তৃতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজ, ডান-বাম-ইসলামী ধারার রাজনীতি, শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিশ্লেষণ মানুষকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি যেন একজন জীবন্ত ডিকশনারী। বর্তমানের বুদ্ধিজীবী সমাজের মতো দলবাজী নয় বরং কোদালকে কোদাল বলতে অভ্যস্ত ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করেই পৃথিবীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। বিশ্বের সেরা ইউরোপ, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আরবদের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার অনুসরণ করে গড়ে উঠেছে। গত ১২ জুন ডয়সে ভেলেতে এক টকশোতে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে শুধু অনুসরণ নয়; পশ্চাত্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় মাদরাসা শিক্ষার পদ্ধতি নকল করে শিক্ষা ক্যারিকুলাম প্রণয়ন করছে।

ডয়সে ভেলের ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ টকশো ড. সলিমুল্লাহ বলেন, এখন যে পশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিগ্রি দেয়া হয়, রীতিনীতি সবগুলো আরবদের কাছ থেকে ধার করা। ইউরোপের কোন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কারিকুলামে মাদরাসা শিক্ষা অনুসরণ করেনি? বলা যায়, মাদরাসার শিক্ষা পদ্ধতিকে তারা নকল করেছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ডিগ্রি দেয়া হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গ্রাজুয়েটদের মাথায় কালো ক্যাপ ও গাউন পড়েন সবগুলো মাদরাসার অনুকরণ। অনেকে মাদরাসার শিক্ষার দোষ দেন, তুচ্ছজ্ঞান করেন, মাদরাসা শিক্ষা অধঃপতনের কথা বলেন। কিন্তু মাদরাসা মানে তো কলেজ। তাদের দোষ ধরার আগে নিজের দিকে তাকান না কেন? ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠা হয়, তখন প্রথমে অ্যারাবিক, ফার্সিসহ তিনটি বিভাগ চালু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেগুলোর কিছু কিছু নাম বদল করে সম্প্রসারণ হয়েছে।

দেশে এখন মাদরাসাগুলোতে বাংলা ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয় না বলে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটেছে। কিন্তু মাদরাসার চেয়ে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান আরো নিচে নেমে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক শিক্ষার অর্জন কি? আমি মাদরাসা শিক্ষার সাফাই গাচ্ছি না, বাস্তবতা বলছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে একশ’ বছর আগে। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একশটি ভালো বই বের করতে পারেনি, গবেষণার কথা নাই বললাম। আমার বন্ধুরা বিদেশে লেখাপড়া করে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে বই লেখেন ইংরেজিতে। তারা বাংলায় ভালো বই লিখতে পারেন না কেন? তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বিসিএসের চাকরি পাওয়া যায়। সে জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব বেশি বলা হচ্ছে। কিন্তু এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে মাদরাসা শিক্ষার মান উন্নত।

ড. সলিমুল্লাহ বলেন, কেউ বলেন পৃথিবীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা ৮শ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফ্রান্সের প্যারিসে। কেউ বলেন, তারও দুশ’ বছর আগে ইতালিতে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা কি হঠাৎ করে শুরু হয়েছে? বাস্তবতা হলো তারও আগে মাদরাসা শিক্ষা চালু হয়েছে। তারই হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগওয়ারী শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছে মাদরাসায়।

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাবিদ ড. সলিমুল্লাহ খান প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমান সরকার এখন মডেল মসজিদ করছে, কিন্তু দেশে স্কুল করার প্রয়োজন কি ফুরিয়ে গেছে? সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ স্থাপনের চলমান প্রক্রিয়ার বিষয়ে ড. সলিমুল্লাহ খান আরো বলেন, আমি এটা বললে আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করবে। আপনি কি মসজিদ করার বিরোধিতা করছেন? তা আমি করছি না। প্রধানমন্ত্রী ৫০টি মসজিদের উদ্বোধন করলেন। খুব ভালো করলেন। আমি ধরে নিলাম। কিন্তু আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশু এখনো কত আছে?

দেশে একমুখী শিক্ষা চালু করার বিষয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, এখন আমাদের দেশে ২৫ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে। একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হলে সব ধরনের বিদেশি শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। কিন্ডারগার্টেনগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর কথা বলা হচ্ছে, আবার তিন বছরের বাচ্চাদের জন্য ব্রিটিশ শিক্ষা পদ্ধতিও চালু রাখা হয়েছে। বাংলার বদলে চার লাখ শিশু শিক্ষার্থীকে শুরুতেই ইংরেজি শেখানো হচ্ছে। এতে তারা না শিখছেন বাংলা না শিখছেন ইংরেজি। আমি ইংরেজি শিক্ষার বিরুদ্ধে নই; তবে আগে বাংলা ভাষা ভালো করে শিখতে হবে।

করোনাকালে ১৫ মাস ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকারি সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন কি না জানতে চাইলে ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহামারি’ ও ‘দেশের রাজনৈতিক মহামারির’ কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনাকে হালকাভাবে নিচ্ছে। কিন্তু ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আসার পর আবার লকডাউনে চলে গেল। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায় চলমান অবস্থার পেছনের ‘একটি হলো আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া মহামারি আর একটি হলো আমাদের রাজনৈতিক মহামারি’।

স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের বিষয়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, যে বিষয়ে আমার এখতিয়ার নেই, সে বিষয়ে আমি বলতে চাই না। (সংক্ষিপ্ত)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Adv Mohi Shamim ১৪ জুন, ২০২১, ১:২০ এএম says : 0
অসাধারণ আলোচনা। ভালো লেগেছে। এমন জ্ঞানী মানুষদের নীতি নির্ধারণী কাজে ব্যবহার হয় না‌। হলে দেশ আরো অনেকদূর এগোত।
Total Reply(0)
Shepon Shepon ১৪ জুন, ২০২১, ১:২০ এএম says : 0
রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি সব দিক থেকে স্যার সলিমুল্লাহ মতন সুন্দর ব্যাখ্যা উপমহাদেশে কেউ দিতে পারেনা
Total Reply(0)
Ahmad Mosahid ১৪ জুন, ২০২১, ১:২১ এএম says : 0
সলিমুল্লাহ খান এক পাল শিক্ষিত প্রাণীকে তাড়িয়ে নেয় সত্য সুন্দর আর বাস্তবতার দিকে, আধিপত্যের মুখোশ খুলে বলে দেয় এই কালো চেহারাটা বর্তমানের চাকচিক্যময় মুখোশের ভিতরের চেহারা। তাই মুখোশধারীর গাত্রদাহ হয়।
Total Reply(0)
Sheikh Hridoy Ahmed ১৪ জুন, ২০২১, ১:১৩ এএম says : 0
স্যালুট স্যার, প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য।
Total Reply(0)
Shahidul Alam ১৪ জুন, ২০২১, ১:১৮ এএম says : 0
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন তার কাছে অধিকাংশ মেসেজ নাকি আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার জন্য, অথচ করোনাকালেশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন কিনা জানতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জরিপ চালায় ডয়চে ভেলে৷ জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শতকরা ৭৬ভাগ জানান, এ সিদ্ধান্ত তারা সমর্থন করেন না আর বাকি ২৪ভাগ জানান তারা সমর্থন করেন৷
Total Reply(0)
Shohag Khan ১৪ জুন, ২০২১, ১:১৮ এএম says : 0
আমাদেরকে সরকার অনার্স মাস্টার্সের সার্টিফিকেট দেয়। কিন্তু আমার একটা ইংরেজি বাক্য তো পরের হিসাব, বাংলাই সঠিকভাবে লিখতে পারিনা। ১০ টা বছর অংক শিখলাম, কিন্তু আজও জানতে পারলাম না সেই অংকগুলোর প্রয়োগ কোথায় হয়। আধুনিক বিশ্বের ছেলে মেয়েরা যেখানে মহাকাশ গবেষণায় ব্যস্ত, সেখানে আমাদেরকে ব্যস্ত থাকতে হয় পাবজি, টিকটক নিয়ে।
Total Reply(0)
Naimur Nayem ১৪ জুন, ২০২১, ১:১৯ এএম says : 0
আমাদের দেশে জ্ঞানপাপী আর সরকারের দালালির ভিড়ে সঠিক শিক্ষা এবং আদর্শবান শিক্ষা হারিয়ে যাচ্ছে। সলিমুল্লাহ স্যারের থেকে অন্তত আমরা কিছু সঠিক ইতিহাস শুনতে পারি , স্যারের প্রতি দোয়া ও শুভকামনা রইলো।
Total Reply(0)
মুহাম্মদ হাসাইন ১৪ জুন, ২০২১, ৯:৫৯ এএম says : 0
স্যার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
Total Reply(0)
স্রোতের বিপরীতে চলা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে স্যার।
Total Reply(0)
Zayed Howlader ১৪ জুন, ২০২১, ৮:১৫ এএম says : 0
Ok
Total Reply(0)
Dadhack ১৪ জুন, ২০২১, ৫:৪১ পিএম says : 0
অতীতে মুসলিমরা পরাশক্তি ছিল মুসলিম ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার সবাই কোরআন এবং হাদীসে বিশেষজ্ঞ ছিল কোরআন হাদীস রিসার্স করেই তারা পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েছিল. দেশে হাজার হাজার মেধাবী ছেলেরা আছে তারা অনেক কিছু জিনিস উদ্ভাবন করেছে কিন্তু সরকার কখনো তাদেরকে সহায়তা কর নাই বিধায় তারা সবাই বিদেশে চলে গেছে এটাকে বলা হয় ব্রেইন ড্রেইন. কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন গবেষণা করতে. আমাদের দেশ যদি আজকে কোরআন দিয়ে শাসন করা হতো তবে আমাদের দেশ পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ হত. আমাদের দেশ শাসন করে আল্লাহ দ্রোহী ব্যক্তিরা সেজন্য আজ বাংলাদেশ এমন কোন অপরাধ সংঘটিত হয় না. সরকারও জঘন্য অপরাধ করে. জনগণ ও জঘন্য করে অপরাধ. মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই.
Total Reply(0)
মোস্তফা কামাল ১৫ জুন, ২০২১, ৪:১১ পিএম says : 0
সলিমুল্লাহ স্যার একজন আদর্শ শিক্ষাবিদ এবং উঁচু মানের মানুষ। দোয়া করি আল্লাহ উনাকে রহমত দিয়ে ভরপুর করে দেন।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন