ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী বিশ্ব

ভারতকে ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করবে পাকিস্তান : নওয়াজ

কাশ্মীর সংকট জিইয়ে রেখে দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়

প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : কাশ্মীর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হবার আশঙ্কাকে বিশ্ব নেতারা উপেক্ষা করছেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণদানকালে তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বিপুল অস্ত্রভা-ার গড়ে তুলছে। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব কিছু পাকিস্তান করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দুই চির-বৈরী দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে গত সপ্তাহের সশস্ত্র হামলায় ১৮ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর। ভারত এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারে এমন জল্পনা চলছে পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলোতে। এরকম আশঙ্কা থেকে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দেশটির উত্তরাঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
নওয়াজ শরীফ বলেন, তার দেশ ভারতের সঙ্গে সংঘাতের অবসান চায়। তবে কাশ্মীর সংকট জিইয়ে রেখে দুই দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সবকিছুর পরও ভারতের সঙ্গে শর্তহীন সংলাপে পাকিস্তান তৈরি রয়েছে। গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে বিতর্কে অংশ নিয়ে নওয়াজ অভিযোগ করেন, ৫ লাখেরও বেশি সেনা দিয়ে ভারত জোর করে কাশ্মীর দখল করে রেখেছে। তারা সেখানে নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে উল্লেখ করে নওয়াজ আরও বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করেছে কাশ্মীরের তরুণরা। ভাষণে দিল্লি-ইসলামাবাদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে এইসব মন্তব্য করেন তিনি। খবরে বলা হয়, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের উরির সেনাছাউনিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা যখন চরমে ঠিক সেই সময় এমন মন্তব্য করলেন নওয়াজ শরীফ। নওয়াজ বলেন, সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার গন্তব্য হতে পারে না। পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে শান্তি চায়। তবে কাশ্মীর সংকটের নিরসন ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ভারি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক কাশ্মীরের উরিতে লাইন অব কন্ট্রোলের নিকটে সামরিক বাহিনীর একটি প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই হামলায় ১৮ সেনা সদস্য ও ৪ হামলাকারী নিহত হন। এখন পর্যন্ত কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই সন্দেহ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে চলতি বছরের প্রথমদিকে পাঞ্জাবের পাঠানপকোটে ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্যও ওই সশস্ত্র সংগঠনটিকে দায়ী করেছিল ভারত। কাশ্মীরের সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ভারত যখন পাকিস্তানকে দায়ী করছে, পাকিস্তান তখন তা নাকচ করে পাল্টা অভিযোগ আনে ভারতের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের অভিযোগ, কাশ্মীরে তীব্র সহিংস গণবিক্ষোভ থেকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করছে ভারত। এই সমস্যার সমাধানে ইসলামাবাদ সর্বতভাবে তৈরি রয়েছে বলে জাতিসংঘ ভাষণে জানিয়েছেন নওয়াজ। বক্তৃতায় কাশ্মীর প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নওয়াজ। সেখানে মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে ভারতের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। একইসাথে রাজবন্দীদের মুক্তি এবং দ্রুততার সঙ্গে সেনা প্রত্যাহারও দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
এমন এক প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কে চলা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নওয়াজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান ঐ এলাকায় কৌশলগত স্থিতাবস্থা আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। পাকিস্তান ভারতের সাথে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আলোচনায় বসার মত অগ্রহণযোগ্য শর্ত ভারত নিয়ে আসছে তিনি অভিযোগ করেন। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের প্রধান শিকার বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। ডন, বিবিসি, রয়টার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
মুসা ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:৫০ এএম says : 3
সব দেখে মনে হচ্ছে এটা false flag attack , পাকিস্তানের উপর দোষ চাপানোর জন্যে এটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র , একটা বিশেষ শক্তিশালী সংঘটনের এজেন্টদের কাজ, পাকিস্তান ও তাদের পারমানবিক অস্ত্র দখলে নিলে বা তা ধংস করতে পারলে একে একে সব মুসলিম দেশকে অনায়াসেই তারা ধংস করতে পারবে, সুতরাং প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা আন্তর্জাতিক ............দের ব্যাপারে সাবধান হউন
Total Reply(0)
mohmmod sarwar ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:৫৬ পিএম says : 2
ভারত হল ... দেশ ওদের ........
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন