ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৮ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বোঝা কৃষকের ঘাড়ে

জয়পুরহাট জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম

জয়পুরহাটে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জয়পুরহাটে চলতি রবি মৌসুমে জমিতে ব্লক প্রদর্শনীর মাধ্যমে হাইব্রিড বোরো ধান সমলয়ে চাষাবাদ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রকল্পে কৃষকর যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা তার বেশী ভাগই তারা পাননি। ফলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে লোকসানের বোঝা উঠছে কৃষকের ঘাড়ে।

এই প্রকল্পের সুফলভোগী ৬৭ জন কৃষকের বেশিভাগ কৃষকই নিজের টাকায় সেচ কাজ, পরিচর্যা, মাড়াই করতে হয়েছে। অথচ এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ বপন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপন, বালাইনাশক, সার ও কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান মাড়াই ও ঝাড়াই করে দেওয়া কথা রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষকদের বোরো উৎপানে কোন খরচ লাগবে না। শুধু তারা তাদের জমির উৎপাদিত ফসল ঘরে নেবেন এমনটি সরকারি নিয়ম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চলতি মৌসুমে জয়পুরহাট সদর উপজেলার হিচমি-কোমরগ্রাম ফসলি মাঠের ৫০ একর জমিতে এই প্রকল্প হাতে নেয়। ৬৭ জন কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী। কৃষি মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পে ১৪ লাখ সতেরো হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই প্রকল্পের ১০-১৫ জন সুফলভোগী কৃষক জানান, প্রকল্পে ৫০ একর জমির কথা বলা হলেও বাস্তবে ১৪০ থেকে ১৪২ বিঘা জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তারা বোরো মৌসুমে জিরাশাইল ও কাটারিভোগ জাতের ধান চাষ করতেন। এতে তারা বাজারে ধানের ভালো দাম পেতেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের লোকজন তাদের হাইব্রিড জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। সরকারিভাবে ধানচাষের জমি প্রস্তুতসহ ধান মাড়াই পযন্ত যাবতীয় আনুসাঙ্গিক উপকরণ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে দেয়া হবে। কিন্তু সমলয়ে ধান চাষে খরচ তাদের নিজেদের করতে হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিজেরাই শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই করেছে। তারা বলেন, সমলয়ে হাইব্রিড জাতের ধান প্রতি বিঘা গড়ে ২৫ মণ করে ফলন পাওয়া গেছে। বাজারে এই ধানের দাম খুবই কম। আমরা জিরাশাইল ও কাটারিভোগ জাতের ধান চাষ না করে লোকসানের মুখে পড়েছি।
কোমরগ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, সমলয়ে চার বিঘা জমিতে হাইব্রিড ধান রোপন করেছি। চার বিঘা জমিতে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৩৫ টাকার সহায়তা পেয়েছি। সেচকাজ ও পরিচর্যা টাকাসহ বাকি খরচ তারা দেননি নিজের টাকাতেই করেছি। কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান মাড়াই ও ঝাড়াই করে দেয়ার কথা থাকলেও তারা কিছুই করেনি। তিনি বলেন, যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেই পরিমাণ টাকা খরচও হয়নি। আবার ৫০ একর জমিতে সমলয় চাষাবাদে কথা বলা হয়েছ। অথচ চার থেকে পাঁচ একর জমি কম রয়েছে। সেগুলোর খরচ দেখানো হয়েছে। কৃষক দিল মোহাম্মদ বলেন, আমরা জিরাশাইল ও কাটারিভোগ জাতের ধান রোপন করতাম। এতে ভালো দাম পেতাম। কৃষি সম্প্রসারণের কথায় হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় গড়ে ২৫ মণ ফলন হয়েছে। বাজারে এ ধানের দাম সাড়ে সাতশ থেকে আটশ টাকা। জিরাশাইল ও ক্যাটারিভোগ ধান প্রতি বিঘায় ২৫ ফলন হয়েছে। জিরাশাইল ও কাটারিভোগ ধান প্রতি মণ সাড়ে নয়শ থেকে হাজার পঞ্চাশ টাকা। হাইব্রিড ধান চাষ করে তুলনামূলক লোকসান হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে বিনামূল্যে সব উপকরণ দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স ম মেফতাহুল বারি বলেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলার একটি মাঠে দেড়শ বিঘা জমিতে সমলয়ে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। ধানচাষের জমিপ্রস্তুত থেকে মাড়াই-ঝাড়াই পর্যন্ত সকল খরচ কৃষি অফিসের দেয়ার কথা। তবে এ প্রকল্পে যদি কোন প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন