ঢাকা সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৫ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সাড়ে তিন বছরে সূচক সর্বোচ্চ অবস্থানে

শেয়ারবাজার : দিনভর আলোচনায় ইনকিলাবের সংবাদ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম

দিনভর দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দৈনিক ইনকিলাবের প্রধান সংবাদ ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ কার্যকর, পুঁজিবাজারে আবার অনিশ্চয়তা’ শীর্ষক সংবাদটি। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে আসা গ্রাহকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর শেয়ারবাজারে কিছুটা আস্থা ফিরেছে। আর এই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) জারিকৃত কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮ বর্ণিত নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি গঠনসহ এই কোডের অন্যান্য নির্দেশনা বাতিল বাতিল করে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর বিধান অনুযায়ী চালানোর। একই সঙ্গে কোম্পানির পরিপালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক জারিকৃত নির্দেশনা ব্যতীত অন্যকিছু ব্যাংক কোম্পানির পরিপালনের সুযোগ নেই।

ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা যায় গ্রাহকদের মধ্যে। অনেকের মতে, নিজেদের কাজ সঠিকভাবে না করে বিএসইসি’র কাজে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আর্থিকখাতের নাজুক পরিস্থিরি মধ্যে একমাত্র আশার আলো শেয়ারবাজারে যাতে কোনভাবে অযাচিত হস্তক্ষেপ না করা হয়। এটা হলে আবারও বাজারের প্রতি মানুষের অনীহা আসবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের আর যাওয়ার পথ থাকবে না। তবে অনেকের মতে, দুই আইনের মধ্যে যদি সমস্যা দেখা দেয় তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এভাবে হুট করে মন চাইলো অন্য আইন বাতিল করে দিলাম এটা ঠিক নয়। কেউ কেউ বলেছেন, শেয়ারবাজার ভালো যাচ্ছে। এটা অনেকের ভালো লাগছে না। শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে তাই এই সময়ে এ ধরনের উদ্ভট চিন্তা করছে। তদারিক প্রতিষ্ঠান হয়েও ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার ও নানা অনিয়মে জর্জরিত দেশের ব্যাংকিং খাতের এসব রোধে কিছুই করতে পারছে না। অথচ শেয়ারাবাজারে ছড়ি ঘোড়ানের চেষ্টা।

এদিকে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নতুন সার্কিট ব্রেকারের (দাম কমা বা বাড়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা) নিয়ম চালু করায় গত রোববার লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিলেও, তা কাটতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আতঙ্ক কাটিয়ে ওই দিন লেনদেনের শেষের দিকেই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে শেয়ারবাজার। আর গতকাল শেয়ারবাজারের মূল্যসূচকে রীতিমতো উল্লম্ফন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন বছর বা ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারির পর প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। এর সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক ক্রান্তিকালে ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়েছিল। সেই সময়ের জন্য সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। এতে অনেক বিনিয়োগকারী বড় লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তটিও সঠিক সময়ে নেয়া হয়েছে। তারা বলছেন, ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অপশন বেড়ে যাবে। যার ফলে লেনদেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি সার্বিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গত বছর দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নামে। শেয়ারবাজারের পতন ঠেকাতে গত বছরের ১৯ মার্চ সেই সময়ের কমিশন প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বেধে দিয়ে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেয়। তবে প্রায় এক বছর ধরে শেয়ারবাজার ভালো অবস্থানে থাকায় গত বৃহস্পতিবার ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সেই সঙ্গে সার্কিট ব্রেকারের নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়।

এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দেয়। ফলে গত রোববার লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। তবে লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কও কেটে যেতে থাকে। ফলে লেনদেনের শেষ দিকে পতন কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসে।

আর গতকাল লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে প্রথম মিনিটের লেনদেনেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও বাড়তে থাকে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ১২৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারির পর সূচকটি সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে আসল। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি সূচকটি ছয় হাজার ১২৭ পয়েন্টে ছিল।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে অপর দুই সূচকে। এর মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ২২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যসূচকে বড় উত্থানের পাশাপাশি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৯টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৪৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় এক হাজার ৮৩৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ২০৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
টাকার অংকে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১১১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের ৬৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৬০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ফিড।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৭৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ৩০৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৬টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দিয়ে বিএসইসি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের চয়েজ বাড়বে। এর ফলে লেনদেনের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আর সার্বিক শেয়ারবাজার সম্পর্কে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি মনে করে সার্বিকভাবে বর্তমান শেয়ারবাজার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খুবই উপযুক্ত। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সার্বিক বিষয় ভালো করে ক্ষতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।##

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন