সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫ আশ্বিন ১৪২৮, ১২ সফর ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ডিএনডিতে প্রজেক্টে ব্যয় ১৩০০শ কোটি টাকা:কৃত্রিম বন্যার পানিতে ভাসছে ২০ লাখ মানুষ

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০২১, ১২:৩৮ পিএম

ডিএনডির জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টের কাজ চলমান থাকার পরেও কেন এই দুর্ভোগ- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরদারির অভাবেই ভোগান্তিতে পড়েছেন ডিএনডিবাসী। ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। এর আগে, প্রথম ধাপে ২০১৬ সালে একনেকের সভায় ডিএনডি প্রকল্পের জন্য ৫৫৮ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে ডিএনডি এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম সংশোধনীতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এর পরও কেন এই অবস্থা। এ প্রকল্পটি সেনাবাহিনীকে দেয়ায় কার্যত স্থানীয় জণপ্রতিনিধি, প্রশাসন কেউই মুখ খুলতে চায় না। প্রশ্ন করলেই তারা সাফ জানিয়ে দেন প্রকল্প বাস্তাবায়ন কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ফলে এ প্রকল্পটি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজালের। পরিস্কার কোন তথ্যই পাওয়া যায় না।
সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারের এত বিশাল অংকের টাকা ব্যয়ের পরও তারা ডিএনডিবাসিদের কাছে কোন জবাব দিতে পারছেন না। প্রতিনিয়তই মানুষের দুর্ভোগের কারণে তারা এখন বিব্রত। তাদের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে নেমে এসেছে এখন শুন্যের কোঠায়। মানুষ এখন রাস্তাঘাটে দাড়িয়ে তাদের গালিগালাজ করছেন।
গত বছরও জুনের মাঝামাঝি ভারিবর্ষণের কারণে ডিএনডি এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। ওই সময় স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের অনুরোধে ডিএনডি মেগা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবির কর্মকর্তারা সেকেন্ডে ৪ হাজার লিটার পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি শক্তিশালী পাম্প চালু করে পানি নিষ্কাশন শুরু করেন। মূলত মেগা প্রকল্পের আওতায় যে ৭টি পাম্প ক্রয় করা হয়েছিল সেগুলো স্বয়ংক্রিয় হলেও পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে গত বছরের ১৯ জুন ম্যানুয়ালি জেনারেটরের মাধ্যমে চালু করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই ডিএনডির পানিবন্দি অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটেছিল।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, গত বছর যে প্রক্রিয়া দূর্ভোগ কিছুটা হলেও সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর কেন আগাম প্রস্তুতি নেয়া হলো না? এ প্রশ্ন এখন ডিএনডিবাসীদের মুখে মুখে ঘুরে ফিরছে।

গত কয়েক দিনের ভারিবর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ডিএনডিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ কৃত্রিম বন্যা। এ অসহনীয় দুর্ভোগ ও ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে একদিকে চলছে হাহাকার অন্যদিকে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।
ডবে আছে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠসহ সব কিছুই। এমন চিত্র প্রায় ২০ লাখ মানুষের আবাসস্থল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অভ্যন্তরের। এখানকার বাসিন্দাদের বাস্তব অবস্থা যেন আরও বেশি ভয়ঙ্কর।
অনেকে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন ডাইংয়ের কেমিক্যাল মিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকে বাঁচতে কিংবা পানিতে সুয়ারেজের লাইন ও রান্নাঘরের চুলা ডুবে যাওয়ার কারণে। ঘরে-বাইরে সব জায়গাতেই শুধু পানি, কোথাও কোমর সমান আবার কোথাও শোবার ঘরের খাট ছুঁই ছুঁই। সেখানে বাথরুম ডুবে থাকায় পয়নিষ্কাষনে বর্জ্য ভাসছে পানিতে।
জলাবদ্ধতায় সীমাহীন দূভোর্গে রয়েছেন, সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল, পাইনাদী নতুন মহল্লা, ধনুহাজী রোড, পাগলাবাড়ি, মিজমিজি, বাতানপাড়া, কদমতলী, কান্দাপাড়া, সাহেবপাড়া, সানারপাড়, নিমাইকাশারী, পাঠানটুলি, গোদনাইল, ধনকুন্ডা, জালকুড়ি, তালতলা, আদর্শনগর, বাঘমারা, মৌচাক, ঢাকার ডেমরা, শনিরআখড়া, কুতুবখালি, ফতুল্লার ভুইগড়, দেলপাড়া, লালপুর, পৌষাপুকুর, সস্তাপুর, লালখাঁ, ওয়াপদারপুল, উত্তর মাসদাইর, তুষারধারা, লামাপাড়া, রামারবাগ, নয়ামাটি, কুতুবপুর, পাগলা চীতাশাল এলাকায় অধিবাসিরা। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

সিংহভাগ এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় বদ্ধ পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।
বর্তমানে শিমরাইলের পাম্প হাউসের পুরনো ৪টি পাম্পের মধ্যে ৩টি পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। একটি পাম্প দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট।
এ ব্যাপারে ডিএনডি প্রজেক্টের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো নিষ্কাশনের শাখা খালগুলো সংস্কার করার পর আবার ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরে ফেলা। অনেক স্থানে আমরা খাল পুনরুদ্ধার করেছি, নতুন খাল খনন করেছি। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই সেগুলো আবার ময়লা দিয়ে স্থানীয় লোকজন ভরে ফেলেন। ফলে শাখা খাল দিয়ে মূল ক্যানেলে পানি আসতে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

ডিএনডি প্রকল্পের আওতাধীন ডিএনডির নিজস্ব জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৪০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে; যা উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক আইনি জটিলতা রয়েছে। পাশাপাশি তিতাস, ডিপিডিসিসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ভূ-গর্ভস্থ পাইপ লাইনগুলোও সরানো হয়নি, ফলে আমরা অনেক স্থানেই অবকাঠামোগত কাজ করতে পারছি না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন