বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতার নামান্তর : টিআইবি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০২১, ৫:৫৫ পিএম

প্রস্তাবনায় না থাকার পরও অর্থবিলে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতার নামান্তর বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সাথে অপ্রদর্শিত অর্থের মোড়কে কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ বহাল করে অর্থবিল ২০২১ পাসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বুধবার (৩০ জুন) এক বিবৃতিতে টিআইবির পক্ষ থেকে এসব কথা জানানো হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা নিয়ে সরকার এবার রীতিমতো অশুভ চালাকির আশ্রয় নিয়েছে। কেননা ন্যায্যতা ও ন্যায়নিষ্ঠতার নামে অর্থমন্ত্রী যে বিষয়টি প্রথমে বিবেচনা করেননি, তা কোন নৈতিকতার বিচারে চূড়ান্তভাবে রেখে দিলেন, সে ব্যাখ্যা তিনি অর্থবিল পাসের সময়ও দেননি। তিনি আরও বলেন, ‘বিতর্ক ও সমালোচনা এড়াতেই সুযোগটি প্রাথমিকভাবে বাজেটে কোথাও রাখা হয়নি। যদিও বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় শুরু থেকেই ছিল। এটি শুধু বাজেট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি বরং সরকারের মাঝে জবাবদিহির সংস্কৃতি ক্রমেই বিলুপ্ত হওয়ার ইঙ্গিতও বহন করে। সরকারের এই পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ অঙ্গীকারকে পদদলিত করছে।’

পাস হওয়া অর্থবিলে তালিকাভুক্ত শেয়ার, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটসহ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ, নগদ টাকা, ব্যাংক ডিপোজিটের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করতে ২৫ শতাংশ হারে কর এবং মোট করের ওপর ৫ শতাংশ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই হার ছিল ১০ শতাংশ। এছাড়া, অঞ্চলভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ও জরিমানা দিয়ে জমি, ভবন, এপার্টমেন্ট কিনেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘কর ও জরিমানা ধার্য করে সরকার যে বার্তাই দিতে চাক না কেনো, এর ফলে যে অনৈতিকতা ও দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করল তার বিনিময় মূল্য কোনোভাবেই তুলনীয় হতে পারে না। এতে সাময়িকভাবে কিঞ্চিৎ বেশি কর পাবার সুযোগ তৈরি হলেও বিপরীতে দুর্নীতিগ্রস্ত স্বার্থান্বেষী শক্তির কাছে সরকারের যে নৈতিক পরাজয় ঘটলো, তা সত্যিই শঙ্কিত হবার মতো। সরকারের এই অবস্থান বৈষম্যমূলক, দুর্নীতি সহায়ক ও সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা কখনো কাম্য হতে পারে না।

নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে এমন সুযোগ আগে থেকে রাখা হলেও এর মাধ্যমে কতো অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে কিংবা আদৌও হয়েছে কি না তার কোনো হিসাব সরকার কখনো প্রকাশ করেনি। সরকার একদিকে কালো টাকার মালিকদের নতুন করে কালো টাকা তৈরির আইনি গ্যারান্টি দিচ্ছে, অন্যদিকে সৎ নাগরিকদের প্রলোভিত করছে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হতে। তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি বললেও ভুল হবে না যে দেশে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ উচ্চমাত্রা পেতে যাচ্ছে। এটি সত্যিই চরম হতাশার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন