রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২২ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ ও তুরস্ক সম্পর্ক

প্রতিরক্ষা খাতে চুক্তি

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০২১, ১২:০০ এএম

দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তুরস্ক থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। সামনের দিনে তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদন এবং দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা খাতে ব্যাপক প্রশিক্ষণ বিষয়ে দুই সরকারের মধ্যে আলাপ-আলোচনাও চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতের সম্পর্কের এই উন্নয়ন ইতিবাচক, যা সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ভবিষ্যতে এর সূত্র ধরেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

তুরস্কের আঙ্কারায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে গত ২৯ জুন একটি নতুন চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, তুরস্কের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম কিনবে বাংলাদেশ। চুক্তির সেই অনুষ্ঠানে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুসদ মান্নান ও ডিফেন্স অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাশেদ ইকবালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান ভূরাজনীতি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের একাধিক উৎস রাখতে চায়। এরই অংশ হিসেবে তুরস্কের সঙ্গে এই চুক্তি করা হয়েছে। সামনের দিনে এমন আরও একাধিক দেশের সঙ্গেও এই চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট ক্যাভুসলো গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় দুই দিনের সফরে আসেন। ওই সফরে মেভলুট ক্যাভুসলো ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে দেখা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইওয়ান এরদোগানের বার্তা পৌঁছে দেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট ক্যাভুসলো ওই সময় ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ এখন এশিয়ার রাইজিং স্টার। এশিয়া নীতিতে বাংলাদেশ তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অত্যন্ত অল্প সময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক খাতে যে উন্নতি করেছে, তা প্রশংসনীয়। তুরস্কের বড় বড় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিতে চায়। তিনি বলেন, সামরিক খাতে তুরস্ক তার প্রয়োজনীয় ৭৫ শতাংশ নিজেরাই উৎপাদন করে, যা মানসম্মত এবং টেকসই। বাংলাদেশকে এই খাতে সহযোগিতা করতে চায় তুরস্ক। প্রয়োজনে এই খাতের প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথভাবে উৎপাদনে যেতে আগ্রহী তুরস্ক।

এ প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে তুরস্কের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে অগ্রগতি প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের অনেক বিদেশি অংশীদাররা খুশি হবে না। কিন্তু তাদের খুশি রেখেই তুরস্কের সঙ্গে আমাদের এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তুরস্ক একমাত্র দেশ, যাদের ওপর আমরা ভরসা রাখতে পারি, যারা বিপদের সময় এগিয়ে আসতে পারে।

সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তুরস্ক এরই মধ্যে আমাদের যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও উন্নয়নে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক ড্রোন প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনের যুদ্ধÑ পরিস্থিতিতে ড্রোন অস্ত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে, ড্রোন ঘুরে বেড়াবে আর তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে অফিসে বসে। তিনি বলেন, আজ থেকে ২১ বছর আগে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সফর দলের সদস্য হিসেবে আমি তুরস্ক ভ্রমণ করেছি। তখনই দেখেছি যে তারা আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার তৈরি করছে, তখনই তারা ছোট আকারে প্লেন তৈরি করেছে। এক সময়ে তারা ফাইটার জেট তৈরি করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, তুরস্ক খুবই ভালো উৎস। তুরস্ক আমাদের সামরিক সরঞ্জামের উৎসের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে আমরা যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং উন্নয়নে অংশ নিতে পারি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Dr.Abdur Rahman ৬ জুলাই, ২০২১, ১০:৩৯ এএম says : 0
সুখবর
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন