মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সবাই জরুরি বলে বের হলে রাষ্ট্র অসহায় হয়ে পড়ে : আইজিপি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২১, ৫:৩৮ পিএম

ফাইল ছবি


পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, আজকে গুলশানে অনেক ট্রাফিক। প্রত্যেকে জরুরি কাজের কথা বলে বের হচ্ছে। প্রত্যেকের জরুরি কাজ। প্রত্যেকে জরুরি কাজের কথা বলে যদি ১৬-১৮ কোটি মানুষ রাস্তায় বের হয়, তাহলে আমরা (পুলিশ) ও রাষ্ট্র অসহায় হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে আপনাকে সতর্ক হতে হবে। আমরা সবাই মিলে কিন্তু রাষ্ট্র। দয়া করে কেউ বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবেন না।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি আয়োজিত লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্রদের মধ্যে খাবার ও নগদ ৫০০ টাকা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, অনেকের বাসায় থাকতে ভালো লাগে না, বিরক্ত লাগে। বাসায় বিরক্ত লাগে বলে বাহিরে বের হচ্ছেন। অনেকে আবার লকডাউন কেমন হচ্ছে তা দেখার জন্য বের হচ্ছেন। দয়া করে এই কাজগুলো করবেন না। আসেন আমরা সবাই মিলে দেশটাকে নিরাপদ করি। আমরা নিজেরা বের হব আক্রান্ত হব এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আক্রমণ করব এটা ঠিক নয়।

বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনার সেকেন্ড ওয়েভের স্থায়ীত্ব নির্ভর করে আমাদের প্রত্যেকের আচরণের ওপর। দুই সপ্তাহ বাসায় বসে থাকা খুব বেশিকিছু না, যদি এর জন্য আমরা আগামী ৫০ বছর পর্যন্ত ভালো থাকতে পারি। দয়া করে রাস্তাঘাটে ভিড় করবেন না। জরুরি কাজ একটু কমান। এই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘায়িত করব কি না সেই সিদ্ধান্ত আমাদের।

এ সময় আইজিপি হাসপাতালের আইসিউ নিয়ে বলেন, আইসিউ বানালেই কিন্তু আইসিউ চালানো যায় না। আইসিউ এর জন্য বিশেষায়িত ডাক্তার নার্স দরকার। বিশেষায়িত মেডিকেল স্টাফ দরকার। আপনি চাইলে আইসিউ বেড কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনি চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে স্টাফ বানাতে পারবেন না। সম্ভব হলে হসপিটালগুলোতে অক্সিজেন ট্যাংক বসিয়ে লাইন করে দেওয়া উচিত। তাতে করে একটা ট্যাংক থেকে অনেক রোগী অক্সিজেন নিতে পারবে। আমরা আমাদের হসপিটালে সেটা করেছি। এক সময় আমাদের আইসিউ ছিল ১০টি। যেটি এখন ৫০-এ উন্নীত করেছি। তার বাইরেও আমরা প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে লাইন দিয়ে অক্সিজেন দিয়েছি। যেটাতে অনেক কম খরচ হয়। আপদকালীন সময়ে সাশ্রয় হয়।

তিনি বলেন, ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। এই শহরে কয়েক কোটি লোকের বাস। এর বাইরেও ঢাকার বাইরের আশেপাশের এলাকা থেকে কাজের জন্য অনেকেই ঢাকায় আসেন। এই শহরে বৈশ্বিক ধনী লোক থেকে শুরু করে বস্তিবাসী রয়েছেন। সবাই মিলেই আমরা করোনা অতিমারির দুর্যোগ মোকাবিলা করছি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সেসময় খালি হাতে দুর্ধর্ষ পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছি আমরা। কারণ আমাদের জাতিগত ঐক্য ছিল। এই করোনা দুর্যোগও আমরা মোকাবিলা করতে পারব। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং আমাদের জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে। যে যেখানে আছি, সেখান থেকে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন এই লকডাউনে যেন কোনো পরিবার কষ্টে না থাকে। এছাড়াও আমরা আশা করব যারা সচ্ছল আছেন, তারা নিজেদের সাধ্যমত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

করোনা দুর্যোগে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, ঢাকা শহরে দুই কোটি মানুষ বসবাস করে। প্রতিটি পরিবারে পাঁচ জন করে সদস্য থাকলে সারা ঢাকায় ৪০ লাখ পরিবার বসবাস করে। যদি ৪০ লাখ পরিবার এক প্লেট করে ভাত দেন তাহলে আপনারা ৪০ লাখ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবেন। এক প্লেট ভাত দেওয়া তেমন সমস্যা না। প্রত্যেকটা পরিবার চাইলেই তা পারে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের দিনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের রাষ্ট্রীয় কর্তব্য, ধর্মীয় কর্তব্য। এই ধরনের কাজে যদি সহযোগিতা লাগে তাহলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী আপনাদের সঙ্গে আছে। যদি আপনি সাহায্য করতে চান কিন্তু আপনার সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে, আমাদের বলবেন আমরা পৌঁছে দেব আপনার পক্ষ থেকে। আসুন আমরা হাতে হাত ধরে কাজ করি এবং এই দুর্যোগ অতিক্রম করি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা করোনা মোকাবিলা করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী এক কোটি লোকের জন্য সাহায্যের উদ্যোগ নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো.হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
আব্দুল্লাহ ৮ জুলাই, ২০২১, ৬:৩২ পিএম says : 0
পেট সবারই আছে।
Total Reply(0)
আব্দুল্লাহ ৮ জুলাই, ২০২১, ৬:৩৬ পিএম says : 0
অনুগ্রহকরে vaccination নিশ্চিত করুন। শুধু lockdown দিয়ে করোনা দূর হবে না।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন