শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩ আশ্বিন ১৪২৮, ১০ সফর ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

শক্তি প্রদর্শনেই তালেবান অবস্থানে মার্কিন বিমান হামলা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ জুলাই, ২০২১, ১২:০০ এএম

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকালে আফগানিস্তান জুড়ে তালেবানদের অগ্রগতিতে প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া হিসাবে মার্কিন সামরিক বিমান এ সপ্তাহে বিভ্রান্ত আফগান সরকারী বাহিনীর সমর্থনে বেশ কয়েকটি তালিবান অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।

কমপক্ষে একটি বিমান হামলা ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় মূল শহর কান্দাহারে তালেবান অবস্থানের ওপর। এর ফলে দখলের হুমকিতে থাকা শহরটির দিকে তালেবানদের অভিযানের গতি কমে গেছে। তালেবানরা এসব হামলাকে গত বছরের আমেরিকানদের সাথে প্রত্যাহারের চুক্তির ‘লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে এবং তারা অনির্ধারিত ‘পরিণতি’ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে। এটা ইঙ্গিত যে, বিমান হামলা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলেছে।
তালেবানদের অগ্রযাত্রার মাত্রা ও গতি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শীর্ষ মার্কিন সেনা ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তালেবানরা এখন আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানী এমনকি জাতীয় রাজধানী কাবুলকে হুমকি দেয়। এ গ্রুপটি মে মাসে আক্রমণাত্মক হামলা শুরু করার পর থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বিনা লড়াইয়ে দখল করে নিয়েছে দেশের ৪ শতাধিক জেলার অর্ধেকেরও বেশি।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সঙ্ঘটিত বিমান হামলা আমেরিকান উদ্বেগের মাত্রা এবং আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সমর্থনের ক্রমাগত প্রয়োজনীয়তার প্রতিফলন ঘটায় যেহেতু ওয়াশিংটন দেশে প্রায় ২০ বছরের যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করেছে। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল অস্টিন এস মিলার পদত্যাগ করার পর এটা ছিল এ জাতীয় প্রথম বিমান হামলা।

মার্কিন বাহিনীর অবশিষ্ট সদস্যদের ফিরিয়ে নেয়ার সময় কাছিয়ে আসায় আফগান বাহিনী তালেবানদের আক্রমণাত্মক হামলার মুখে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বড় শক্তি তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে তালেবানরা মনে করে যে, তারা যুদ্ধে জয়লাভ করছে, তাদের আলোচনায় কোনো উৎসাহ নেই।
শুক্রবার এমএসএনবিসি-কে সেক্রেটারি অফ স্টেট অফ অ্যান্টনি জে ব্লিংকেন বলেছেন ‘তালেবানরা যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সে সম্পর্কে আমাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে, ইঙ্গিত দেয় যে, তারা জোর করে দেশটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে’। ‘তবে সেটা যদি হয়, আফগানিস্তান একটি অচ্ছুৃত রাষ্ট্র হয়ে উঠবে’।

বুধবার, জয়েন্ট জেনারেল চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক এ. মিলি ‘সম্পূর্ণ আফগানিস্তান তালেবানদের দখল যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেন’। তিনি বলেন, আফগান সরকার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিদ্রোহীদের এখন ‘কৌশলগত অগ্রগতি’ রয়েছে।

পেন্টাগনের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী দিনে কান্দাহার ও অন্যান্য সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকা ঘিরে অতিরিক্ত বোমা হামলা চালানো হতে পারে। একজন কর্মকর্তা অপারেশনাল পরিকল্পনার বিবরণ দিতে বেনামে কথা বলেন, ‘আমরা যখন এবং যেখানে সম্ভব তা করে চলেছি এবং যখন যেখানে সম্ভব তা করার চেষ্টা করব’। সূত্র : দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন