সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

বিপন্ন পৃথিবী রক্ষায় বিজিএমইএ’র বৃক্ষরোপণ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ আগস্ট, ২০২১, ৭:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি কম গ্রীন হাউজ গ্যাস নিঃসরনকারী দেশ যা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। যদিও বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকিগ্রস্থ দেশ। ক্রমবর্ধমান কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তার ভয়াবহ পরিনতি থেকে কেউ বাঁচতে পারবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোন ভৌগলিক সীমারেখায় আবদ্ধ থাকে না। তাই আমরা যতই কম কার্বন নিঃসরণ করি না কেনো এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।

তৈরি পোশাক শিল্পখাত শুধুমাত্র যে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, তা নয়। বরং, একই সাথে শিল্পটি যেন টেকসই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিকাশ লাভ করে, সে ব্যাপারেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), পোশাক শিল্পের মুখপাত্র সংগঠন, পোশাক খাতে উৎপাদনের পরিবেশগত প্রভাব কমাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশকে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক সবুজ কারখানার আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সবুজ শিল্পায়নে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বিজিএমইএ ‘২০২১ ইউএসজিবিসি লিডারশীড এ্যাওয়ার্ড’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে। বিজিএমইএ জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উদ্যোগ, ‘ফ্যাশন ইন্ডাষ্ট্রি চার্টার ফর ক্লাইমেট একশন’ এর সাথে যুক্ত হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে জিএইচজি (গ্রীন হাউজ গ্যাস) নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বিজিএমইএ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ প্রচারণা শুরু করেছে। জাতির পিতা সমৃদ্ধশালী ও সবুজ বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং স্বাধীনতার পরপরই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর সূচনা করেছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসার অনেক পূর্বেই তিনি পরিবেশ রক্ষায় গাছের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে যারা নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিজিএমইএ আগষ্ট মাসে বৃক্ষরোপণ প্রচারণা শুরু করেছে। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান গত ১৫ আগষ্ট বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দসহ গাজীপুরের স্প্যারো অ্যাপারেলস কারখানায় গাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর সূচনা ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সবুজায়নে আপামর জনগণকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার জন্য বিজিএমইএ সভাপতি চট্রগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় বৃক্ষরোপণ করেন। উত্তরায় নবনির্মিত বিজিএমইএ এর প্রধান কার্যালয়ে গাছ লাগানোর মাধ্যমে এই কর্মসূচী শেষ হয়।

বিজিএমইএ এর প্রধান কার্যালয় শিল্পের প্রধান সংস্থা হিসেবে পোশাক শিল্পে সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করবে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিজিএমইএ এর অনুকূলে জমি বরাদ্দ দেয়ার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। উত্তরাস্থ বিজিএমইএ এর প্রধান কার্যালয়টি একটি নান্দনিক সবুজ ভবনে রূপ দেয়ার জন্য বিজিএমইএ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ’র নব নির্মিত প্রধান কার্যালয় “বিজিএমইএ কমপ্লেক্স” কে একটি সার্টিফায়েড সবুজ স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিজিএমইএ কমপ্লেক্সকে USGB কর্তৃক সার্টিফাইড CLEED (লিডারশীপ ইন এনার্জি এন্ড এনভাইরনমেন্টাল ডিজাইন) স্থাপনা হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। এই ভবনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আলো (এনার্জি সেভিং লাইট), বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে রাখা, সৌর বিদ্যুৎ, জ্বালানী সাশ্রয়ী পানি-ভিত্তিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্যুয়েরেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) থাকবে। দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ডাবল-গ্লেজড গ্লাস (double-glazed glass) থাকবে। ভবনে পানি ব্যবস্থাপনায় পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা (water-efficient fixtures) থাকবে। এতে এফএসসি সার্টিফাইড কাঠের ফার্নিচার, পরিবেশবান্ধব ভিওসি-ফ্রি পেইন্ট ব্যবহৃত হবে।

আমরা আশা করছি, আমাদের নতুন সবুজ স্থাপনা, বিজিএমইএ এর প্রধান কার্যালয়টি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পূর্ণভাবে চালু হবে, যখন সমগ্র দেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে। বিজিএমইএ এর প্রধান কার্যালয়টি উত্তরায় অবস্থিত হওয়ার জন্য বিজিএমইএ আনন্দিত। কারণ, বহুল প্রত্যাশিত দেশের প্রথম মেট্রোরেলের শুরুর ষ্টেশনও উত্তরায় অবস্থিত।

বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করার। ষড়যন্ত্রকারীরা তার সেই স্বপ্নকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য তাঁকে হত্যা করতে পারলেও তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে। ঘাতকেরা ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করতে সমর্থ হলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। শোককে শক্তিতে পরিণত করে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন আজ তারই সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাস্তব রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

পোশাক শিল্প প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মতো সোনার বাংলা গড়তে শিল্প তার অবদান অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন