মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সম্পাদকীয়

আদর্শ রাজনীতির পরিচয়

ড. মো. কামরুজ্জামান | প্রকাশের সময় : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

রাজনীতি একটি বহুমুখী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ রাজ্য বা রাষ্ট্রপরিচালনার কৌশল। গ্রিক শব্দ ‘পলিটিকোস’ থেকে ইংরেজিতে ‘পলিটিক্স’। বাংলায় যাকে আমরা রাজনীতি বলে থাকি। এর অর্থ হলো প্রজাদের মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার নিয়ম-নীতি, যা ঐক্যমতের ভিত্তিতে দেশনায়ক রাজনীতিবিদগণ গ্রহণ করে থাকেন। আর এর সহজ এবং ছোট্ট অর্থ হলো, সমাজসেবা। এটা বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও কার্যকর পন্থা হচ্ছে একটি সংগঠন। অর্থাৎ রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে ঐ সেবাটা নিশ্চিত করা অধিকতর সহজ। রাষ্ট্রের মূলনীতি অনুযায়ী রাজনীতি মূলত নগর ও সমাজ পরিচালনার এক অহিংস পদ্ধতি। একাডেমিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সরকারবিষয়ক বিজ্ঞান হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে। রাজা, রাষ্ট্র ও সরকারবিষয়ক কর্মকান্ডের সাথে এটি জড়িত। রাজনীতির একাডেমিক অধ্যয়নকে বিজ্ঞানও বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে এটি নেগেটিভ অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

রাজনীতি একটি মহৎ কাজ। আবেগ এখানে মূল্যহীন। প্রাচীন গ্রিসে রাজনীতি বলতে নগররাষ্ট্র ও তার শাসন ব্যবস্থার বস্তুগত ও দর্শনগত অধ্যয়নকে বোঝাত। সাধারণ অর্থে রাজনীতি বলতে সেসব নীতিমালাকে বলা হয়, যা অনুসরণের মাধ্যমে একটি জাতি বা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, যাকে বলা হয় দেশের মূল চালিকাশক্তি, যার মাধ্যমে দেশকে নির্মাণ করা যায়। দেশের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা যায়। সংকীর্ণ অর্থে, রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাদখলের লড়াই এবং কৌশলকে রাজনীতি বলে, যার মধ্যে ন্যায়নীতিবিবর্জিত লড়াইও অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে ন্যায়নীতিবিবর্জিত উপায়ে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা লাভকেও মানুষ রাজনীতি মনে করে থাকেন। এটা এখন আর ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। পরিবার, গ্রাম ও সমাজে এটা প্রবেশ করেছে। বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে রাজনীতির মহড়া। আইন-আদালত, অফিস ও ব্যাংক-বীমাও জড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে। খেলার মাঠ, সমিতি ও সংঘের ভিতরেও বিস্তার লাভ করেছে এটা। জালের মতো এটা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম-শহরের অলি-গলিতে।

অ্যারিস্টোটলের মতে, রাজনীতি হলো নগর-রাষ্ট্র পরিচালনা ও নাগরিক সম্পর্কিত জ্ঞান বা শৃঙ্খলা। সুতরাং একটি দেশের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র, নির্বাচন বিভাগ ইত্যাদির মধ্যে একাডেমিক ও প্রায়োগিক রাজনীতি বিদ্যমান রয়েছে। তার মতে, রাষ্ট্রের সাথে রাজনীতি পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সুতরাং যেদিন থেকে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে সেদিন থেকেই রাজনীতির উৎপত্তি হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, রাজনীতি হলো সমাজের বৈধ শৃংখলারক্ষাকারী কিংবা পরিবর্তন আনায়নকারী ব্যবস্থা।

রাজনীতির উল্লেখিত সংজ্ঞা পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, রাজনীতি অতি পবিত্র এক শব্দ। যা মানুষের সার্বিক জীবন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন। রাজনীতি ছাড়া কোনো দেশ, সমাজ ও সংঘ পরিচালিত হতে পারে না। কিন্তু বর্তমানে এটি একটি নেগেটিভ অর্থবোধক শব্দে রূপান্তর লাভ করেছে। বিশ্বমোড়লদের ক্ষমতা দখলের অনৈতিক বাসনা এটিকে দূষিত করেছে। জবরদখল, দেশদখল ও নীতিহীনতা রাজনীতিকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। দাঙ্গাবাজি আর ধান্দাবাজির কারণে রাজনীতি কলুষিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে তাই এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে আলাপচারিতায় একে অপরকে প্রায়শই বলতে শোনা যায়, ‘আমার সাথে রাজনীতি করিস না’, ‘আমি রাজনীতি পছন্দ করি না’ ইত্যাদি। রাজনীতিবিদদের অনৈতিক চতুরতা রাজনীতিকে নিন্দিত করেছে। রাজনীতিকদের কুরুচিপূর্ণ ভাষাও এটিকে মন্দ নীতিতে চিত্রিত করেছে। কিছু কিছু রাজনীতিবিদের শব্দচয়ন তাদের মনুষ্যত্ব ও রুচিবোধকে নেতিবাচক অর্থে প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে নব্বইয়ের পরে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ অসুস্থ রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। ক্রমান্বয়ে এটা লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তদুপরি এটি দুর্বৃত্তায়িত হয়েছে বললেও অত্যুক্তি হবে না।

বাংলাদেশের মূল ধারার বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা অনৈতিক ক্ষমতাবলে বলিয়ান। রাজনীতির স্রষ্টার চেয়ে রাজনীতির প্রয়োগকারীরা এখন অধিক ক্ষমতাশালী। শাস্ত্রে বর্ণিত রাষ্ট্রনীতির বাইরে প্রচলিত রাষ্ট্রনীতির শক্তিতে তারা অনেকগুণ প্রভাবশালী। এসব প্রভাবশালীরাই রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারক। তাদের ক্ষমতার দাপটে দলের সজ্জন হিসেবে পরিচিত নিষ্ঠাবান নেতারা দলে এবং দেশে উপেক্ষিত। মূল ধারার রাজনীতির প্রভাব ছাত্র রাজনীতিকেও এখন দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। জাতীয় রাজনীতিতে যুদ্ধাংদেহী পরিস্থিতি এদেশে বেশী পুরনো না হলেও একেবারে নতুনও নয়। ছাত্র রাজনীতিকে ব্যবহারের ইতিহাসও প্রায় তিন যুগের কাছাকাছি। বৃহত্তম সকল রাজনৈতিক দল তাদের পেশিশক্তি বৃদ্ধির জন্য রাজপথ দখলে রাখার চেষ্টা চালায়। আর এ দখলদারিত্বে ছাত্রশক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে নব্বই সাল থেকে। দলীয় সিদ্ধান্তকে জাতীয় সিদ্ধান্তে রূপদান করার চেষ্টাও এ দেশে নতুন নয়। এক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতি লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি তারাও রাজপথে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। বিনিময়ে তারা পেয়েছে বাহবা ও হাততালি। তাদের আবেগপূর্ণ তারুণ্য এ বাহবায় সিক্ত ও পুলকিত হয়েছে।

শাস্ত্রীয় রাজনীতি রাস্তায় নেমে আসার ফলে কোমলমতি ছাত্ররা অর্থনৈতিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছে। অনৈতিক এ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে ছাত্ররা তখন ছাত্রস্বার্থ বাদ দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতিতে মনোযোগ দেয়া শুরু করেছে। ক্লাস ও লেখাপড়ায় তারা অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। অল্প বয়সেই সম্পদের মোহ তাদেরকে নেশাগ্রস্ত করেছে। বৃহত্তম রাজনৈতিক নেতাদের অর্থ ও ক্ষমতার জৌলুস তাদেরকে লোভী করে তুলেছে। বড় নেতা হবার ধান্দা তাদের মাথা নষ্ট করে ফেলেছে। তারা তখন ভাবতে শুরু করেছে, লেখাপড়া করে আর কীই-বা হবে? একটা সরকারি চাকরি করে কয় টাকা আয় করা যাবে? ব্যাস! ওখানেই শেষ। এ বয়স থেকেই সে হয়ে পড়ে রাজপথের সাহসী সৈনিক। ক্লাস ও পরীক্ষায় সে হয়ে পড়ে অনিয়মিত। তার অ্যাসাইনমেন্ট ও টিউটোরিয়ালের কোনো খবর সে আর রাখে না। চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়ও পরীক্ষার হলে সে অনুপস্থিত থাকে। সে কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়। সে তখন কোনো গত্যন্তর না পেয়ে অতি রাজনৈতিক হয়ে যায়। একজন আদর্শ শিক্ষকের কাছে রাজনীতিবিদ একজন ছাত্র অথর্বছাত্র হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে। দলীয় কারণে শিক্ষক ছাত্রকে বাহ্যিকভাবে ভালবাসলেও ভিতরে ভিতরে তাকে ভীষণ অপছন্দ করে। ছাত্রটি তখন হতাশায় জর্জরিত হয়ে পড়ে। চারদিকে সে অন্ধকার দেখতে পায়। ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পরে তাস ও গাঁজার আসরে মগ্ন হয়। হল দখল ও রুম দখলে ব্যস্ত থাকে সারাক্ষণ। বই-খাতার বদলে হাতে তুলে নেয় চাপাতি, রামদা, হকিস্টিক এবং আগ্নেয়াস্ত্র। ফলে হলগুলোতে আবাসিক শিক্ষকের পরিবর্তে এসব নেতারাই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। হলে সিট পাওয়া, না পাওয়া নির্ভর করে এসব ছাত্রনেতাদের মর্জির উপর। হলের প্রভোস্ট ও হাউসটিউটরগণ তাদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েন। তারা ঠুটোজগন্নাথে পরিণত হন। প্রশাসনিক আইন তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে। যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে জাতি-রাষ্ট্রের উপর।

ছাত্ররাজনীতি তাই মাস্তানিনীতিতে পরিণত হয়। আর এ মাস্তানির নিষ্ঠুর শিকার হয় নিরীহ-মেধাবী সাধারণ ছাত্রছাত্রী। ফলে দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয় সৃজনশীল গবেষক। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বের হয় আবিষ্কারক। তারা বিশ্বকে উপহার দেয় সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী নানা সৃষ্টিশীল নির্দেশনা। তার বিপরীতে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ থেকে উপহার পায় একজন বিসিএস ক্যাডার। তিনি হতে পারেন দেশের বড় মাপের দাপুটে একজন আমলা। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ উঁচুমানের জ্ঞান-গবেষণায় তাই অনেক পিছিয়ে। দেশের আমলা, কামলা ও রাজনীতিবিদদের দাপটের কারণে তারুণ্যের কাছে রাজনীতি এখন তাই গুরুত্বহীন। মেধাবী, ধার্মিক ও ভদ্র পরিবারের সন্তানেরা তাই রাজনীতিকে অপছন্দ করে। ফলে ইতোমধ্যে দেশে একটি রাজনীতিবিমুখ সেন্টিমেন্ট গড়ে উঠেছে। জিজ্ঞেস করলে অনেকে বলে ওঠেন, ‘আমি রাজনীতি করি না’; I hate politics.

নীতিভ্রষ্টতা আর আদর্শহীনতা রাজনীতিকে এখন পেটনীতিতে রূপান্তর করেছে। ফলে জন্ম নিয়েছে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মতো অনেক রাজনীতিবিদ। শহরের অলিতে-গলিতে আর গ্রামের আনাচে-কানাচে গ্যাং কালচারও এই অসুস্থ রাজনীতিরই ফসল। সত্যিকারের সম্ভ্রান্ত মানুষদেরকে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান রাজনীতি। নিরীহ তরুণ-তরুণী এ নীতিকে তাই এখন এড়িয়ে চলে। অথচ, রাজা ও রাষ্ট্রবিষয়ক কাজ যুগশ্রেষ্ঠনীতি হিসেবে পরিচিত। মহৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে উপমহাদেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল গঠনের ইতিহাস অতি পুরনো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বঞ্চিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা। আর লক্ষ্য ছিল সমাজ পরিবর্তন ও বিপ্লব। প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থার জায়গায় ভিন্ন এক সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল তাদের একমাত্র প্রয়াস। আর এ লক্ষ্য অর্জনে তাদেরকে ব্যয় করতে হয়েছিল নিজ পকেটের টাকা। তাকে ব্যয় করতে হয়েছিল অনেক মেধা, সময় ও শ্রম। কাক্সিক্ষত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পূরণে সর্বপ্রথম তারাই ছিলেন ঐ আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তারা গঠন করেছিলেন কাক্সিক্ষত আদর্শে নিবেদিত সুবিশাল একদল কর্মীবাহিনী। আর এ দলের নেতা হিসেবে তারা ছিলেন গতিশীল ও দূরদর্শী। সমসাময়িক সকল বিষয় সম্পর্কে ছিলেন তারা পূর্ণ সচেতন। ভিন্ন আদর্শ মোকাবেলা করার জন্য নেতাদের ছিল চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার ক্ষমতা। রাজনীতিবিদকে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ার বিষয়টি ছিল ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ। এটা ছিল নেতার জন্য এক অগ্নি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায়ও তারা ছিলেন পরীক্ষিত সফল নেতা। সামান্যতেই তারা ভেঙে পড়তেন না। চরম সংকট মুহূর্তেও তারা ছিলেন অটল-অবিচল। তাদের ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা। আর এসব দলের কর্মীরা ছিল নির্ভীক, সাহসী ও ধৈর্যশীল। দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
তারা জানতেন, নেতৃত্বের লোভ দলকে ধ্বংস করে দেয়। তারা জানতেন, অনৈতিক সকল লালসা ও লাইফস্টাইলের বাসনা দলকে নিঃশেষ করে ফেলে। তাই তারা সহজ সরল জীবনযাপনের মাধ্যমে দলকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়েছেন। তারা ক্ষমতালোভী আর নির্বাচনমুখী না হয়ে গণমুখী কর্মকান্ডে বিশেষভাবে আত্মনিয়োগ করেছেন। তারা শুধু জনগণের অধিকার, চাহিদা ও স্বাধিকারের জন্য কাজ করেছেন। বড় লোকের সন্তান এ আন্দোলন করতে গিয়ে গরিব হয়েছেন। জেল খেটেছেন, জরিমানা দিয়েছেন। দিতে হয়েছে রক্ত। ব্যক্তিস্বার্থে কখনো তারা রাজনীতি করেননি। ক্ষমতায় না থেকেও তারা ছিলেন প্রবল ক্ষমতার অধিকারী। স্রষ্টায় বিশ্বাস, কর্মে নিষ্ঠা ও জনগণের সমর্থন ছিল তাদের পাথেয়। জনগণ ছিল তাদের পাহারাদার। বাংলাদেশে এক্ষেত্রে জ্বলন্ত উদাহরণ হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের জনগণই ছিল তার বড় শক্তি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন তাকে পরবর্তীতে এ দেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল। একটি আদর্শ রাজনৈতিক দল তাই ভোটের জন্য রাজনীতি করে না। তারা শুধু নির্বাচনমুখী না হয়ে গণমুখী হয়। ক্ষমতায় যাওয়া তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে না। উদ্দেশ্য থাকে জনগণের সেবা। আর এ সমর্থন যাচাই করতেই একটি আদর্শ রাজনৈতিক দল শুধুমাত্র ভোটে অংশগ্রহণ করে থাকে।
লেখক: অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন