বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা দেয়ার দায়িত্ব তালেবানের

দিল্লিতে সউদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

সউদী আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ তার প্রথম ভারত সফরে বলেছেন, আফগানিস্তানে স্থিতিশীল অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা তালেবানদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কৃত ওয়াদা তাদের পূর্ণ করতে হবে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে তাদের দেশে শিকড় গাড়তে দেয়া হবে না।

গত রোববার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে সাক্ষাতের পর প্রিন্স ফয়সাল বলেন, ‘তালেবানরা এখন কাবুলে দায়িত্বে আছে। আফগান জনগণের প্রতি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আফগানিস্তানের জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং অন্যান্য কাঠামো প্রদান করতে পারে এমন সরকার প্রদান করার জন্য তাদের একটি দায়িত্ব রয়েছে। এবং একমাত্র উপায় যা আমি অর্জন করতে পারি, তা হল, অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এবং তাদের সমাজের সকল সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে। ‘এর বাইরে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নিরাপত্তার ব্যাপারে এবং কোন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে শিকড় ছাড়তে না দেওয়ার ব্যাপারে। এবং অবশ্যই, আমাদের তাদের সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধ রাখার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ নিয়ে একটি সমন্বিত পন্থা গ্রহণ করবে’।

এটি আফগানিস্তানে তালিবানদের দখল নিয়ে সউদী অবস্থানের প্রথম স্পষ্ট বক্তব্য, যা ১৯৯০-এর দশকে তালেবানদের প্রথম শাসনের সময় যেখানে ছিল তার থেকে একেবারে ভিন্ন অবস্থান। অবস্থানে সউদী আরবের বোধগম্য পরিবর্তন আসে যখন তালিবান-২ এই অঞ্চলে সউদী আরবের ভূ -রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার, তুরস্ক এবং ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখিয়েছে। এটা স্পষ্ট ছিল যে, তালেবান তাদের উদ্বোধনে তুরস্ক, কাতার, ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়া এবং চীনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু ১৯৯০-এর দশকে তাদের প্রধান সমর্থক সউদী আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বাদ দেয়।

প্রিন্স ফয়সালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জয়শঙ্কর টুইট করেছেন, ‘সউদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ বৈঠক। আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্তম্ভগুলোতে আমাদের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আফগানিস্তান, উপসাগর এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ে খুব দরকারী মত বিনিময়।

বৈঠকের একটি এমইএ রিডআউটে বলা হয়েছে, দুই নেতা ‘আফগানিস্তানের উন্নয়ন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। তারা জাতিসংঘ, জি-২০ এবং জিসিসির মতো বহুপাক্ষিক ফোরামে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, সউদী আরব এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আমাদের জন্য সমালোচনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, একটি প্রধান অগ্রাধিকার’ তার এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ‘নিশ্চিত করা ... সম্পর্কের গতি অব্যাহত রাখা’। তিনি বলেন, সউদী আরব এবং ভারত ব্যাপকভাবে ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে, কিন্তু এমনকি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও’ ঐক্যবদ্ধ।

ইরান এবং পরমাণু আলোচনার সম্ভাব্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, প্রিন্স ফয়সাল বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেবল বেসামরিক কাজে ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়ার পথ খুঁজে পাই। সেক্ষেত্রে, আমরা মনে করি যে, জেসিপিওএ’র কাছে ফিরে যাওয়া যথেষ্ট নয়। আমাদের একটি শক্তিশালী, দীর্ঘ চুক্তিতে প্রত্যাবর্তন প্রয়োজন এবং আমরা আশা করি যে, ইরানিরা দেখবে যে একটি স্থিতিশীল অঞ্চলের দিকে পথ এবং তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্কের মাধ্যমে আমাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি কোনো হুমকি নয়।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সউদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ মন্তব্য করেছেন যে, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান উদ্বেগজনক। গতকাল সোমবার তার ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রিন্স ফয়সাল বলেন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদা, আইএস ও তালেবানের প্রত্যাবর্তন ও পুনরুত্থান একটি বাস্তবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ একটি উদ্বেগের বিষয়। তালেবান এখন অঙ্গীকার করছে, সন্ত্রাসবাদের জন্য আফগান ভূখণ্ড ব্যবহৃত হবে না।’

আফগানিস্তানে তালেবানের প্রথম মেয়াদে দলটির সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া তিন দেশের মধ্যে একটি ছিল সউদী আরব। তবে এবার তাদের সঙ্গে রিয়াদের কোনও যোগাযোগ নেই বলে জানান প্রিন্স ফয়সাল। দলটির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে রিয়াদ আরও অপেক্ষো করবে বলে জানান তিনি।
সউদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা দেখতে চাই। সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা চাই। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে এটি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং আমরা একমত হয়েছি।’
তিন দিনের সফরে শনিবার দিল্লি পৌঁছান সউদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আফগানিস্তান ইস্যুতে আলোচনার জন্যই তার এ সফর। এর অংশ হিসেবে গত রোববার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন তিনি।

ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে আলাপকালে ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে রিয়াদের আগ্রহের কথাও জানান সউদী মন্ত্রী। কাশ্মির প্রসঙ্গে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, এটি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। তাদের পরস্পরের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা উচিত। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া টুডে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
Alben Khan ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৫২ এএম says : 0
আলহামদুলিল্লাহ এরকম যদি সারা বিশ্বে কোরআনের আইন চালু থাকত পৃথিবীতে শান্তিময় হতোমারামারি-কাটাকাটি খুনাখুনি হতো না কে গরিব কে বড়লোক হিংসা থাকত না
Total Reply(0)
Rashel Khan ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৫২ এএম says : 0
ইনশাআল্লাহ সারা বিশ্বে ইসলামি খেলাফত আবার শুরু হোক এই কামনা রইলো
Total Reply(0)
Mohammad Ashrafull Islam ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৫৩ এএম says : 0
প্রত্যেক দেশের সংস্কৃতি ভিন্ন ভিন্ন । আর আফগানিস্তানের মানুষের কালসার হল ইসলামি পোশাক পরিধান করা।এটা তাদের কাছে স্বাভাবিক। যদিও আমাদের কাছে কঠিন মনে হচ্ছে।
Total Reply(0)
Md. Sobuj Ali ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৫৩ এএম says : 0
আলহামদুলিল্লাহ... বেচে থাক্তেই নিজ চোখে আল্লাহর আইন জমিনে দেখে গেলাম... আহ আল্লাহর জান্নাতে মনে হয় কত সুন্দর আইন হবে....
Total Reply(0)
মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:২৯ এএম says : 0
সত্য বলার এবং উচিত কথা বলবেন সেই সাহস নেই,মন্ত্রীর কি ভাবে বলবে,(লারকি দিয়ে ওচকে পাগল বানাকে দিয়া মন্ত্রী জি লারকি দেখে বহু খুষ হয় গিয়া,এ তো আরবিদের নিশা হে ভাই।
Total Reply(0)
মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৩৯ এএম says : 0
সত্য বলার এবং উচিত কথা বলবেন সেই সাহস নেই,মন্ত্রীর কি ভাবে বলবে,(লারকি দিয়ে ওচকে পাগল বানাকে দিয়া মন্ত্রী জি লারকি দেখে বহু খুষ হয় গিয়া,এ তো আরবিদের নিশা হে ভাই।
Total Reply(0)
Assad ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:৪১ এএম says : 0
Do you talk about Kashmir problem ?
Total Reply(0)
Monjur Rashed ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:২০ এএম says : 0
Saudi foreign policy is strictly regulated by USA. Day by day, Saudi Arabia is becoming an American Colony.
Total Reply(0)
habib ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:০৩ এএম says : 0
India and Israel is a state of terrorist country. this 2 nation are frequently killing raping and destroyed Palestine and Kashmir Muslim home. did OIC take any necessary action against India and Israel ?
Total Reply(0)
Dadhack ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:১২ পিএম says : 0
যে তেলের টাকাগুলো তোমরা জুয়া খেলে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার হারো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিয়ে তোমরা রাজপ্রসাদ কেন ইওর কেন এগুলো বিক্রি করে আফগানিস্তানকে পয়সা দাও আফগানিস্তানের পয়সা নাই আফগানিস্তানের আগের সরকার খেয়ে ফেলেছে আমেরিকান বর্বর সরকার আফগানিস্তানের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন