শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬ কার্তিক ১৪২৮, ১৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

চিকিৎসায় ৯০ ভাগ যক্ষ্মা রোগীই সুস্থ হচ্ছে

টিবি রোগে মৃত্যু কমেছে ৪৮ শতাংশ আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রতি বছর দেশে গড়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ টিবি রোগে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে কোভিডকালীন মহামারীতে অন্যান্য রোগের সাথে এই রোগের চিকিৎসাও স্বাস্থ্যখাতকে দিতে হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যখাত কোভিড, ডেঙ্গু চিকিৎসার পাশাপাশি যক্ষ্মা রোগেরও সঠিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগে প্রতি বছর গড়ে ৯০ ভাগ মানুষ পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছে।

জাহিদ মালেক বলেন, টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০০৪ সালে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় টিবি রোগে মৃত্যু এখন প্রায় ৪৮ শতাংশ কমে এসেছে। ৭০ হাজার থেকে কমে সে মৃত্যু এখন ২৮ হাজারে নেমে এসেছে। গতকাল রাজধানীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে অনুষ্ঠিত ওয়ানস্টপ টিবি সার্ভিস সেন্টার ও রিজিওনাল টিবি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি উদ্বোধনের পর আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে যক্ষ্মা রোগ কামিয়ে আনতে শনাক্তকরণ পরীক্ষা বাড়াতে হবে। আগে সংক্রমিত রোগে অসংখ্য মানুষ মারা যেতো। কিন্তু এখন করোনাসহ অন্যান্য রোগে এত প্রাণহানি হচ্ছে না। ‘যক্ষা হলে রক্ষা নাই’ এ কথা বলার এখন আর সুযোগ নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা ৯০ শতাংশ টিবি রোগী চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে সুস্থ করতে পেরেছি। টিবি খুবই খারাপ রোগ। টিবি রোগ শনাক্ত করার পর আমরা খুব ভালোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। টিবি প্রতিরোধে দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা, ওষুধ সরবরাহ, ফ্রি ল্যাবরেটরি সার্ভিস ও প্রয়োজনে আমরা বাড়ি গিয়েও মানুষকে সচেতন করছি। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও সংস্থাও এ নিয়ে কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, টিবি হাসপাতালে ওয়ান স্টপ সেন্টার ও আঞ্চলিক টিবি রেফারেন্স ষষ্ঠতম ল্যাবরেটরি সংযোজন টিবি নিয়ন্ত্রণে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। এর আগে দেশে এ রকম পাঁচটি ল্যাবে মানুষকে সেবা দেয়া হয়েছে। এসময় বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট ল্যাব স্থাপন বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর থেকে বলা হচ্ছিলো, ল্যাব খোলা আকাশের নিচে স্থাপন করতে। ল্যাব তো আকাশের নিচে স্থাপন করা যায় না। আমরা গিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরেই জায়গা দেখিয়ে এসেছি যাতে ওখানেই পিসিআর ল্যাব বসানো হয়। আশা করি, যে জায়গা দেখিয়ে এসেছি সে জায়গায়ই ল্যাব বসানো হবে। পরে যদি বড় জায়গা লাগে তারও ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওয়ান স্টপ টিবি সার্ভিস সেন্টার প্রমাণ করে এই সরকার রোগীকেন্দ্রিক সেবা প্রদানে কতটা আন্তরিক। আমরা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও রোগীকেন্দ্রিক যক্ষ্মার সেবা সম্প্রসারণ করবো। সরকার যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যা ২০৩০ সালের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও অবদান রাখবে। এছাড়াও যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

সভায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, এই অসাধারণ ওয়ান স্টপ টিবি সার্ভিস সেন্টারের দ্বার উন্মোচন করতে পেরে ও যারা যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়েও এর বিরুদ্ধে নিয়মিত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তাঁদের জীবন রক্ষায় অবদান রাখতে পেরে আমরা আনন্দিত। বাংলাদেশের মানুষদের স্বাস্থ্যকর ও উন্নত জীবনের জন্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যে সমন্বিত প্রচেষ্টা এই সেন্টারটি তারই স্মারক।
সভায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, আগে বলা হতো যার হয় যক্ষ্মা, তার নেই রক্ষা। এখন আর সেই কথাটি প্রচলিত নেই। এখন সময় মতো চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা রোগ পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।

সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, বাংলাদেশ সরকার যক্ষ্মা নির্মূলে এবং যক্ষ্মা চিকিৎসা, নির্ণয় ও প্রায়গিক গবেষণায় ওয়ান স্টপ টিবি সার্ভিস সেন্টারকে ‘সেন্টার অব এক্সসেলেন্স’ পরিণত করার ক্ষেত্রে কতটা বদ্ধপরিকর।
ইউএসএআইডি’র ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর র‌্যান্ডি আলী বলেন, সব ধরনের যক্ষ্মা, বিশেষ করে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ¥ার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যক্ষ¥ার বিস্তার রোধ ও বাংলাদেশীদের জীবন রক্ষায় এর ভূমিকা অপরিসীম হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন আইসিডিডিআর,বি’র ডা. তাহমিড আহমেদ, এমবিডিসি’র পরিচালক এবং টিবি ল্যাপরোসি’র লাইন ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. মো. শামসুল ইসলাম, শ্যামলী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আবু রায়হান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বিগত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র যক্ষ¥া নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়নের বেশি অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে ও যক্ষ্মার দ্রুত পরীক্ষায় ৭২টি জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়েছে যাতে যক্ষ্মা শনাক্তের ও চিকিৎসার হার বাড়ে এবং যক্ষ্মা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন