মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমলো

তিন শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে প্রবাসীদের বন্ডের মুনাফার হার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমালো সরকার। সঞ্চয়পত্রে যাদের ১৫ লাখ টাকার ওপরে বিনিয়োগ আছে তাদের মুনাফার হার দুই শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের নিয়মেই তারা মুনাফা পাবেন। গতকাল মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এ হার কার্যকর হবে। আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি পুনঃবিনিয়োগ করলে তখন নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয়ের জন্য নতুন এ মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। প্রজ্ঞাপন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যারা সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ৯ শতাংশ হারে। পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে এত দিন ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা দেয়া হতো। এখন এ সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এ হার হবে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। পাঁচ বছর মেয়াদি এ সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এখন এ সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার সাড়ে ৭ শতাংশ। এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে তিন বছর মেয়াদি হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে হবে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সর্বশেষ ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়। ওই সুদহারই এত দিন বহাল ছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। বাজেটের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি।

প্রবাসীদের বন্ডের মুনাফাও কমেছে
প্রবাসীদের বন্ডের মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্রের মতো প্রবাসীদের বন্ডে যাদের ১৫ লাখ টাকার ওপরে বিনিয়োগ আছে তাদের মুনাফার হার কমানো হয়েছে। যারা নতুন করে বিনিয়োগ করবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এ হার কার্যকর হবে। আগের কেনা বন্ডে মেয়াদ পূর্তি না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী হারে মুনাফা পাবেন প্রবাসীরা। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন বন্ডের মুনাফার হার কমানো হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা ডলারে তিনটি ক্যাটাগরির বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। এগুলো হলোÑ ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড। এসব বন্ড বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস, দেশি ব্যাংকের বিদেশি শাখা ও বাংলাদেশ ব্যাংকে শাখায় পাওয়া যায়। এসব বন্ডের বিপরীতে দেশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন প্রবাসীরা। বিনিয়োগ করা অর্থ চাইলে আবার বিদেশেও ফেরত নেয়া যায়। এসব বন্ডে বিনিয়োগ করে সিআইপি সুবিধার পাশাপাশি আয়ে করমুক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব প্রবাসী নতুন করে বন্ড কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এ হার কার্যকর হবে। আগের কেনা প্রবাসী বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আগের হারে মুনাফা পাবেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যায় ১২ শতাংশ। এখন থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার হবে ১১ শতাংশ। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ শতাংশ। আর ৫০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার হবে ৯ শতাংশ। ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড তিন বছর মেয়াদি। এই বন্ডে বিনিয়োগে মুনাফার হার পরিবর্তন করা হয়নি। বর্তমানে এই বন্ডে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার সাড়ে ৭ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডেরও মুনাফার হার পরিবর্তন করা হয়নি। মেয়াদ শেষে এ বন্ডের মুনাফার হার ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
মোঃ বাহার উল্লাহ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:৩৬ এএম says : 0
গরীব এবং মধ্যবিওের মাথায় লাঠি পড়ার মত।দেশের এখন অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো। সরকার ইচ্ছে করলে মুনাফার হার আগের চেয়ে অনেক বাড়াতে পারে
Total Reply(0)
Badhan Mistry ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:০০ এএম says : 0
সব কিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী! শুধুই মুনাফার হার নিম্নমুখী! বাহ্ বা না দিয়ে পারা যায়?!
Total Reply(0)
Mainul Arif ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৫৮ এএম says : 0
হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়, সেই দিকে কোন পদক্ষেপ নাই, কিন্তু মধ্যবিত্তের কয়েক লাখ টাকার উপর সরকারের ............ দৃষ্টি পড়েছে!!!???? আফসোস, বড়ই আফসোস
Total Reply(0)
Rifaz Ahmed Ruman ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৫৭ এএম says : 0
বিশেষ করে পেনশনার সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমিয়ে সরকার নিজের ভোট নিজেই হারানোর রাস্তা বের করলো। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বঃগতিতে বয়স্ক মানুষেরা কোথায় বেশি হারে মুনাফা পাবেন, তা তো নয়ই, উলটো কমিয়ে দিয়ে সরকার বোঝাতে চায়ছেই যে এদের কোনো দরকার নেই আর।
Total Reply(0)
মোহাম্মদ রমিজ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৫৭ এএম says : 0
মাটির ব্যাংকে টাকা রাখুন, চিন্তা মুক্ত থাকুন।
Total Reply(0)
Qaium Sheikh ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৫৫ এএম says : 0
যারা বৃদ্ধ, শারীরিকভাবে অক্ষম, ভিন্ন ধর্মাবলম্বি, যারা ব্যাবসা বোঝে না, তারা কোথায় যাবে। এমনিতেই দেশে কর্মসংস্থান নেই। প্রতি বছরই মুদ্রা স্ফীতির হার বাড়ছে। দুর্নিতীবাজরা দেশের টাকা বাহিরে পাচার করছে। ফলে শিল্প কারখানা, ব্যবসা বানিজ্য ইত্যাদি নাই বললেই চলে। দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি যেখানে লাগামহীন ঘোড়ার মত দৌড়াচ্ছে। সেখানে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অবিবেচ্য।
Total Reply(0)
Sarker Shofiqur Rahim ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৫৯ এএম says : 0
মধ্য বিত্ত পরিবার গুলো এমনিতেই ধ্বংসের পথে। শেষ পর্যন্ত মধ্য বিত্ত পরিবারের পকেটে হাত দিল সরকার।
Total Reply(0)
SHAHIDUL ALAM ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:২৫ এএম says : 0
এ সরকার বা দেশ যে কে চালাচ্ছে এটাই বুজ্জতে পারতেছি না। বিভিন্ন মাল্টি পারপাছ, ই ই বিজিনিসের কাছে ধরা খেয়ে মধ্য বিত্তরা এমনিতে দিশে হারা। তার মধ্যে যদি গরিবের সঞ্চিত টাকা কেটে নিয়ে বাজেটের ঘাটতি পুরন করতে হয় তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশের মধ্যেবিত্তদের অবস্থা রুহিংগাদের চেয়েও খারাপ।
Total Reply(0)
Shanto ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:৩৭ পিএম says : 0
এটি সরকারের ........... চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের নিদর্শন!!! যারা এই দেশের সাধারণ মানুষের রক্ত শোষণ করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের উপার্জন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করছে আর সাধারন মানুষকে শোষণ করার নানা রকম পন্থা উদ্ভাবন করছে।
Total Reply(0)
পজন ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:৪৭ পিএম says : 0
দেশে এসে এখন ভার বয়সে জন্ম দেওয়া নিজের ৩ টি ছোট্ট বাচ্চা এদের লালন পালন করা আর মৃতুর জন্য অপেক্ষ্যা করা, একমাত্র ভরসা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ৷ সেই সঞ্চয়পত্রের এখন এই চরম অবস্তা মেনে নিতে হচ্চে কস্ট, প্রবাসে গিয়ে আমার সুন্দর জীবন হলো নস্ট, আসলে শুধু আমার বেলায় প্রবাস শব্দের অর্থ মনে হয় কস্ট ৷ হায়রে প্রবাস ! হায়রে পজন ! প্রবাস জীবন নস্ট ৷
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন