শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ০৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

খেলাধুলা

আইপিএলের তিন ম্যাচ থেকে বাংলাদেশ কি শিক্ষা পেল?

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:২৫ এএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলে গতকাল পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ২ রানের রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। ম্যাচটিতে চার ওভার বল করে ৩০ রান দিয়ে কোন উইকেট পাননি মোস্তাফিজ। তবে নিজের শেষ ওভারে ও দলীয় ১৯তম ওভারে তিনি মাত্র চার রান দেন।
ম্যাচটিতে ১৮৫ রান করে রাজস্থান। জবাবে চার উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করতে সমর্থ হয় পাঞ্জাব। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচটিতে দুই দলের ইনিংস মিলিয়ে ১৪টি উইকেটের মধ্যে ১৩টি পেয়েছেন পেসাররা। একটি মাত্র উইকেট পেয়েছেন স্পিনার। মোস্তাফিজ উইকেট না পেলেও স্পোর্টিং পিচে তিনি যে কতটা কার্যকর তা ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও চেন্নাইয়ের ম্যাচ হয়। এ ম্যাচে মু্ম্বাইয়ের বোলাররা ১৫৬ রানে চেন্নাইয়ের ছয়টি উইকেট তুলে নেন। এর মধ্যে দুটি করে উইকেট পান ট্রেন্ট বোল্ট, জাসপ্রিত বুমরাহ ও অ্যাডাম মিলনে। তিনজনই পেসার। অপরদিে চেন্নাইয়ে পেসার দীপক চাহার দুইটি, জস হ্যাজেলউড একটি, শার্দুল ঠাকুর একটি ও ডোয়াইন ব্রাভো তিনটি উইকেট পান। চেন্নাইয়ের দুই স্পিনার মঈন আলী ও রবিন্দ্র জাদেজা উইকেটের মুখ দেখেননি।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর আবুধাবিতে কলকাতা মুখোমুখি হয় ব্যাঙ্গালুরুর। সে ম্যাচে কলকাতার পেসার ভরুণ চক্রবর্তী তিনটি, প্রসিদ্ধ কৃষ্ঞা একটি, লুকি ফার্গুসন দুইটি ও আন্দ্রে রাসেল তিন উইকেট নিয়ে ব্যাঙ্গালুরুকে ধসিয়ে দেন। কলকাতার একমাত্র স্পিনার সুনীল নারিন কোন উইকেট পাননি। অপরদিকে ব্যাঙ্গালুরুর যুবেন্দ্র চাহাল ভাগ্যজোরে কলকাতার একমাত্র উইকেটটি নেন।

সস্থিত হওয়া আইপিএলের তিনটি ম্যাচ পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে পেসাররাই এগিয়ে আছেন। এমনকি একমাত্র চেন্নাই বাদে সবাই বোলিং আক্রমণ সাজিয়েছে পেসারদের নিয়ে। আরব আমিরাতের পিচের কথা চিন্তা করে বা দেখেই পেসার নিয়ে দল সাজাতে হয়েছে দলগুলোর।

এই আরব আমিরাতে অক্টোবর মাস থেকে হবে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে রান কেমন হতে পারে, পিচ কেমন হতে পারে তা বোঝা যাচ্ছে আইপিএলের মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত যা বোঝা গেছে পিচ হবে স্পোর্টিং আর পেসাররা সহায়তা পাবেন, স্পিনারদের সাফল্য পাওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।

এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের শেষ দশটি ম্যাচের দিকে তাকালে দেখা যায় স্লো উইকেট বানিয়ে স্পিনারদের উপরই ভরসা করেছে বাংলাদেশ। আর এরমাধ্যমে একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে স্পিনারদের দিয়ে বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করবে তারা। বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে বাংলাদেশ দলে স্পিনার হিসাবে থাকছেন নাসুম আহমেদ, মেহেদি হাসান, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বিশ্বকাপের প্রস্ততি শুরুর আগে নিউজিল্যান্ডর বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। আর প্রত্যেকটি ম্যাচে মাত্র দুজন পেসার খেলেছেন। আর স্পিনার হিসেবে যাদের নামে উপরে আছে তারা সবাই খেলেছেন নিয়মিত।

এখন প্রশ্ন হলো আইপিএলের এ তিনটি ম্যাচ থেকে বাংলাদেশ কি কোন শিক্ষা নিল? নাকি স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পুরনো চিন্তাটি নিয়ে স্থির থাকবে?।

১৫ সদস্যের বাংলাদেশে দলে পেসার হিসেবে আছেন শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে মিডিয়াম পেস করে সহায়তা করতে পারেন সৌম্য সরকার। আইপিএলে এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি দেখা গেছে তাতে করে এখন থেকেই পেসারদের উপর দিতে হবে গুরুত্ব, আর স্পিনের উপর কমিয়ে দিতে হবে নির্ভরতা। আর এটিই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বাংলাদেশের ম্যাচগুলো খেলতে হবে আরব আমিরাতে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
ফিরোজ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৪১ পিএম says : 0
সিদ্ধান্ত শুভ হোক, ছোট্ট একটা ভুল ..........
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন