বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

চট্টগ্রামে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-প্রাইমমুভারে কর্মবিরতি অব্যাহত

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:৩৬ এএম

ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলছে। বুধবার দ্বিতীয় দিনেও ভারী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম। এর ফলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আমদানিকারক, তৈরি পোশাক রফতানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্টসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে। কনটেইনার পরিবহনে অত্যাবশ্যক প্রাইম মুভার (ট্রেইলার) চলাচল বন্ধ রাখায় বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপো (অফডক) থেকে পোশাক রফতানির কনটেইনার শিপমেন্টের জন্য বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। আবার তৈরি পোশাক কারখানার বিভিন্ন কাঁচামালের চালানও আটকা পড়েছে বন্দরে। তবে বন্দরে মালামাল ওঠানামা চলছে। জরুরী পণ্য পরিবহনের জন্য কিছু কাভার্ডভ্যান বন্দরে চলাচল করতে দেখা গেছে। ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা’র সচিব রুহুল আমিন সিকদার জানান, ১৯টি অফডকে ৭৮ হাজার ৭০০ কনটেইনার ধারণক্ষমতার বিপরীতে এখন আছে ৯ হাজার ৭০০ রফতানি পণ্যভর্তি, ৮ হাজার ৩০০ আমদানি পণ্যভর্তি ও ৩৩ হাজার খালি কনটেইনার। ধর্মঘটের কারণে ডিপো থেকে কারখানা বা বন্দরে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ রয়েছে। পরিবহন মালিক শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দুপুরে ঢাকায় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দাবি মানা হলে ধর্মঘট স্থগিত করা হবে। নয়তো পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট চলবে। বন্দরের প্রবেশমুখ খ্যাত নিমতলা মোড়, সল্টগোলাসহ বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধের লক্ষ্যে অবস্থান করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ১৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ১৫ দফা দাবিগুলো হলো- মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর বা বর্ধিত আয়কর অবিলম্বে বাতিল করতে হবে; ইতোমধ্যে আদায় করা বর্ধিত কর স্ব স্ব মালিককে ফেরত দিতে হবে; পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যসহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে; গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতে হবে; যেসব চালক ভারী মোটরযান চালাচ্ছে তাদের সহজ শর্তে এবং সরকারি ফি এর বিনিময়ে অবিলম্বে ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে; সব শ্রেণির মোটরযানে নিয়োজিত সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মতো রেশনিং সুবিধার আওতায় আনতে হবে; চট্টগ্রামে অবস্থিত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মনোনীত প্রতিনিধি এবং সব ড্রাইভার ও সহকারীকে চট্টগ্রাম বন্দরে হয়রানিমুক্ত প্রবেশের সুবিধার্থে বাৎসরিক নবায়নযোগ্য বায়োমেট্রিক স্মার্টকার্ড দিতে হবে; প্রতি ৫০ কিলোমিটার পরপর পণ্যপরিবহন শ্রমিকদের জন্য দেশের সড়ক-মহাসড়কের নিরাপদ দূরত্বে বিশ্রামাগার ও কার্ভাডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে; সারাদেশের জন্য একই পরিমাণ ওজন নির্ধারণ করে অতিরিক্ত (ওভারলোড) পণ্যপরিবহন বন্ধে লোডিং পয়েন্ট তথা পণ্যপরিবহনের উৎসস্থলে সরকার নির্ধারিত ওজন নিশ্চিত করে পণ্যবাহী গাড়িগুলোতে মালামাল লোড করতে হবে; লোড করা গাড়িগুলোকে উৎসস্থলে পণ্যের ওজনস্লিপ দিতে হবে।

এদিকে, ধর্মঘটের সমর্থনে সল্টগোলা এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা। এ সময় তারা ১৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন