মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

নৈতিক অবক্ষয় রোধে সামাজিক দায়িত্ব-১

খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

দেশের প্রায় সর্বত্রই নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র অব্যাহতভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তার ব্যাপকতা ও বিশালতার শেষ নেই। জাতীয় সামাজিক পর্যায়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্তরে স্তরে নিত্য তা স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে। জীবনের প্রথম থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত এমন সব মহাপাপ সংঘটিত হচ্ছে, যার বিবরণ দান করা যেমন কঠিন, অনেক ঘৃণ্য অপরাধের কথা কলমে ধারণ করাও অত্যন্ত লজ্জাস্কর। এসব কিসের আলামত? এককথায় এর জবাব, সমাজ তথা জাতীয় জীবনে ধর্মীয়-নৈতিক অবক্ষয়ের চরম কলঙ্কজনক পরিণতি। সামাজিক অপরাধপ্রবণতার এ করুণ দশা রাতারাতি জন্মলাভ করেনি। সামাজিক অসতর্কতা, অসচেতনতা, অবহেলা, উদাসীনতা এবং ধর্ম-চিন্তার অভাব-অবজ্ঞা প্রভৃতির সুযোগ এবং লাগামহীনতার কারণে এর উদ্ভব ঘটেছে।

এ পর্যায়ে আমরা কোরআন ও হাদীসের আলোকে নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টি তুলে ধরতে চাই, যাতে প্রমাণিত হবে যে, নৈতিক অবক্ষয় রোধ করে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সমাজের ভূমিকা কি হওয়া উচিত? প্রত্যেকে যার যার স্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা সক্রিয়ভাবে পালন করলে তার সুফলের আশা যেমন করা যায়, তেমনি কেউ নেতিবাচক ভূমিকা রাখলে তার কুফলও দেখা দিতে বাধ্য।

এ কথা স্বীকৃত যে, সীমাবদ্ধ জীবন নিয়েই মানুষ। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিচয় সকলকেই দিতে হবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে ইসলামের নৈতিকতা ও নীতিমালা অনুসরণ অপরিহার্য। এ সর্ম্পকে কোরআনে যেমন বহু আয়াত রয়েছে, অনুরূপ অসংখ্য হাদীসও বিদ্যমান।
কোরআনের সূরা তাহরীমে আল্লাহ বলেন, ‘হে মোমেনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে।’ (আয়াত-৬)। তোমাদের পরিবার-পরিজন বলতে স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, চাকর-নওকর সবাইকে বুঝানো হয়েছে।

একটি বর্ণনা হতে জানা যায়, আয়াতটি নাজিল হবার পর হযরত উমর (রা.) আরজ করলেন : হে আল্লাহর রসূল, নিজেদেরকে জাহান্নামের অগ্নি হতে রক্ষা করার ব্যাপারটি তো বুঝে আসে (যে, আমরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকব এবং খোদায়ী বিধি-বিধান পালন করব) কিন্তু পরিবার-পরিজনদের আমরা কিভাবে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করব?

রসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এর উপায় এই যে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে যেসব কাজ করতে নিষেধ করেছেন, তোমরা তাদেরকে সেসব কাজ করতে নিষেধ করো এবং যেসব কাজ করতে আদেশ করেছেন, তোমরা পরিবার-পরিজনকেও সেগুলো করতে আদেশ করো। এই কর্মপন্থা তাদেরকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা করতে পারবে।
রুহুল মা’আনী এর বরাতে মা’আরেফুল কোরআনে আরো বলা হয়েছে, স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিকে ফরজ কর্মসমূহ এবং হালাল ও হারামের বিধানাবলি শিক্ষা দেয়া এবং তা পালন করানোর চেষ্টা করা প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর ফরজ ।একই সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, জনৈক বুযর্গ বলেন, ‘সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সর্বাধিক আজাবে থাকবে, যার পরিবার-পরিজন ধর্ম সর্ম্পকে মূর্খ ও উদাসীন হবে।’

বর্ণিত আয়াতের ব্যাখ্যা হতে স্পষ্ট প্রমাণিত স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং পরিবার-পরিজন ছাড়াও অধীনস্থ চাকর-বাকর তথা অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী অজ্ঞ-অশিক্ষিত হলে মুসলমান মালিক কর্তৃপক্ষের কর্তব্য, তাদের ইসলামী অনুশাসনগুলো মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করা এবং অন্যায় কর্মকাণ্ড হতে বিরত রাখার চেষ্টা করা। পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের অগ্নি হতে রক্ষা করার প্রথম দায়িত্ব পরিবার প্রধানের এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্যের। সুতরাং, পরিবার-পরিজনকে শুরু থেকে সঠিক তালীম-তারবিয়াত ও দেখভাল করার মূল দায়িত্ব তাদের ওপরেই বর্তায়। তাদেরকে নেক ও সৎ হবার জন্য দোয়া করার পরামর্শও আছে ইসলামে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
লিয়াকত আলী ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:৪১ এএম says : 0
খব সুন্দর একটি লেখা, লেখককে ধন্যবাদ
Total Reply(0)
Tajul Islam ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৩৬ এএম says : 0
এই সর্বগ্রাসী সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। সেই সাথে ধর্মীয় অনুশাসনের অনুশীলন, পরমত সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাসহ সর্বক্ষেত্রে অশ্লীলতাকে শুধু বর্জনই নয় প্রতিরোধ করা আজ আমাদের সকলের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। যার শুরুটা হতে হবে গৃহাভ্যন্তর থেকেই।
Total Reply(0)
Kamal Hossain ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৩৩ এএম says : 0
মহান আল্লাহ মানবজাতিকে সব মাখলুকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন মুসলিম জাতিকে। পাশাপাশি তাদের অর্পণ করেছেন কিছু গুরুদায়িত্বও। আর তা হলো, সৎ কাজে অন্যদের উৎসাহিত করা এবং অসৎ কাজে নিরুৎসাহ করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)
Total Reply(0)
Iqbal Khan ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৩৪ এএম says : 0
আমাদের সবারই দায়িত্ব, ভালো কাজে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। কেউ ভালো কাজ করলে তাকে সহযোগিতা করা। আবার কেউ মন্দ কাজে বাধা দিলে তার পাশে দাঁড়ানো, তার হাতকে শক্তিশালী করা, যাতে অপরাধীরা আমাদের সমাজটাকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিতে না পারে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা ভালো কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, আর তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। তাদেরকে আল্লাহ শিগগিরই দয়া করবেন, নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭১) আল্লাহ আমাদের সবাইকে শুভবুদ্ধি দান করুন।
Total Reply(0)
Faysal Mahmud ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৩৫ এএম says : 0
সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। মূলত নয় থেকে আঠারো বছর পযর্ন্ত সময়টা হচ্ছে সন্তানদের একটা পরিবতের্নর সময়। এ সময় অনেক অভিভাবকই তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এ সময় পিতামাতার তাদের সন্তানদের পাশে থাকা একান্ত কতর্ব্য। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈতিকতা সম্পকের্ উপযুক্ত পাঠ অন্তভুর্ক্ত করতে হবে এবং শিক্ষকদের শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সবোর্পরি শিক্ষাথীের্দর যথাথর্ মানুষ হওয়ার শিক্ষা প্রদান করতে হবে।
Total Reply(0)
Lotiful Islam ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৩৫ এএম says : 0
নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে সন্তানদের আদর্শবান নাগরিক ও সত্যিকারের মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে মরণব্যাধি অবক্ষয় থেকে দেশ, জাতি, সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব।
Total Reply(0)
Nadia Zahan ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৩৭ এএম says : 0
সকলেরই মনে রাখা উচিত যে, সামাজিক সমস্যা দূর করতে রাষ্ট্রের সহযোগিতার হয়তো প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু মূল দায়িত্বটি পরিবার তথা সমাজকেই নিতে হয়। সন্তানকে সময় দিন। তাকে বুঝতে চেষ্টা করুন। তার বন্ধুদের জানুন। তাকে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন