শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬ কার্তিক ১৪২৮, ১৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

ইসলামী জীবন

ইসলামের দৃষ্টিতে সুন্দর আচরণ

তাশরীফ আহমদ | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০৭ এএম

যারা সবসময় মানুষের সাথে ভালো কথা বলে, সুন্দর আচরণ করে তাদেরকে সমাজের, দেশের সবাই অত্যন্ত পছন্দ করে, ভালোবাসে, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও তাদেরকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। একটি ভালো কথা, সুন্দর আচরণ একটি ভালো গাছের মতো। সুন্দর আচরণকারীর সামনে- পেছনে মানুষ তার প্রশংসা করে। তার জন্য মন খুলে দোয়া করে। ফলে আল্লাহ এবং আসমান-জমিনের ফেরেশতারাও তাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। অপর দিকে খারাপ ব্যবহারে সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। সমাজের মানুষ তাকে অবহেলা, অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখে। আমাদের নবী ছিলেন সদা-সত্যভাষী, হিতভাষী, শুদ্ধভাষী, সুভাষী এবং মানুষের সাথে সুন্দর আচরণকারী। তাই তিনি ছিলেন সব মানুষের সেরা।
কোমল ব্যবহার মানবচরিত্রের অপরিহার্য গুণ : কোমল স্বভাবের দ্বারা মানবজীবনের অনেক কঠিক ধাপ সহজেই পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। কোমল স্বভাবের লোকদের সবাই আপন করে নেয়। তাদের শত্রু থাকে কম। ঘোরশত্রুও তার উদারতা ও কোমলতার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। এ জন্য মানবমনের মুকুরে স্থান করে নেয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে কোমল আচরণ। ভদ্র, মার্জিত ও কোমল আচরণ মানবতা বিকাশের অনুপম ভূষণ। একজন মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের উচিত ইসলামের দাবি অনুযায়ী তার চরিত্রে কোমলতা আনয়ন করা। আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে, যে ব্যক্তি আমার জন্য নিচু হবে, লোকদের সঙ্গে কোমল ব্যবহার করবে, তাকে আমি উঁচু করে দেব; শ্রেষ্ঠত্ব দান করবো।
উত্তম ব্যবহার ও আচরণ মানুষকে সম্মানিত করে : মানুষ তার উত্তম ব্যবহার ও চরিত্র দ্বারা পরিবারসহ সমাজকে অলোকিত করে থাকে। এমন নৈতিক শক্তির কার্যকারিতা সুদূর প্রসারী। মহানবী (সা) এর জীবন চরিত্রে সেটির বাস্তব প্রমাণ মেলে। নবীজীবন কেমন ছিল- তার পরিচয় পাওয়া যায় এই হাদিসে- হজরত আতা ইবনে ইয়াসার (রা.) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর বিন আস (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, তাওরাতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিশেষণসমূহ সম্পর্কে আমাকে অবগত করুন। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, (তাই হবে) নিঃসন্দেহে তাওরাতে রাসূলুল্লাহ (সা)-কে এমন কতিপয় বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে- যা দ্বারা কোরআন শরিফে তিনি বিশেষিত হয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘‘হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি।’’ (সূরা আল আহজাব : ৪৫) এবং নিরক্ষরদের স্মরণস্থল, আপনি আমার বান্দা ও আমার পয়গামবাহী রাসূল, আমি আপনার নামকরণ করেছি মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহতে নিভর্রশীল)। আপনি রুক্ষ মেজাজ ও হাটবাজারে শোরগোলকারী নন, দুর্ব্যবহারের দ্বারা দুর্ব্যবহারের জবাব দেন না, বরং মার্জনা ও ক্ষমা করে দেন।’ (আল আদাবুল মুফরাদ)
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা) ছিলেন জ্যোতিষ্মান প্রদীপ বিশেষ। তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে জনৈক আরব কবি বলেন, ‘হে জ্যোতির্ময়! হে মানব শ্রেষ্ঠ! তোমার পূত চেহারার দীপ্তি থেকেই চাঁদ আলোকপ্রাপ্ত হয়েছে।’ যার হৃদয় যত পবিত্র ও কলুষমুক্ত- তিনি তত কোমল ব্যবহারের অধিকারী হন, তিনি হন সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। পৃথিবীতে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চেয়ে পবিত্র মন, আকর্ষণীয় আচরণের অধিকারী আর কোনো ব্যক্তির আগমন ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে না। নবী করীম (সা) সব সময় হাসিমুখে থাকতেন। সঙ্গী-সাথীদের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ামাত্র হাসিমুখে অভ্যর্থনা করতেন, কিন্তু জীবনে কেউ কোনো দিন তাঁকে অট্টহাসি হাসতে দেখেনি। প্রবল হাসির উদ্রেক হলে কখনও কখনও বিদ্যুৎচমকের মতো একফালি দাঁতের ঔজ্জ্বল্য ফুটে বের হতো। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, জীবনে যতবার আমি রাসূলে কারিম (সা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, প্রত্যেকবারই তিনি আমাকে হাসিমুখে সম্ভাষণ করেছেন। অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমার কথা শুনেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রা.) বলেন, নবী (সা) মৃদুহাসি ব্যতীত কখনও উচ্চহাস্য করতেন না।
চারিত্রিক সৌন্দর্য দ্বারা মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান হাসিল করা যায়। গোমড়ামুখী হওয়া কোনো তাকওয়ার পরিচয় বহন করে না। ব্যক্তিগত জীবনে দেখা যায় অনেক সৎচরিত্রের অধিকারীদের চরিত্রে কোমলতা কম থাকে, মেজাজ থাকে কিছুটা কর্কশ। মুমিনের এমন চরিত্র হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কিয়ামতের দিন এমন লোককেও আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে- যার আমলনামার মধ্যে নামাজ, রোজা, জাকাত প্রভৃতি নেক আমল থাকবে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি তার মন্দ আচরণের জন্য আল্লাহর কাছে নালিশ করবে। তাই মিষ্টি হাসি, মধুর আচরণ ও কোমল চিত্তের অধিকারী হওয়া পরিবারপ্রধান ও সমাজসংস্কারকদের অপরিহার্য।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন