শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬ কার্তিক ১৪২৮, ১৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

দেশ চালাচ্ছেন না রাজনীতিবিদরা

জাতীয় প্রেসক্লাবে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

রাজনীতিবিদরা এখন আর দেশ চালাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবদকে শিখণ্ডি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রেখেছে-তিনি হচ্ছেন শেখ হাসিনা। তাকে দিয়ে যত অরাজনৈতিক, গণবিরোধী, গণতন্ত্র বিরোধী সমস্ত কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছে এবং রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠাগুলোকে তারা সুপরিকল্পিতভাবে ধবংস করে দিচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য ১/১১’র চক্রান্ত থেকে আমরা মুক্তি পাইনি। ২০০৮ সালের নির্বাচন, পরবর্তী নির্বাচন সবই কিন্তু এক লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পার্লামেন্টে জনগনের কোনো প্রতিনিধিত্বই নাই। ২০১৪ সালে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করে একটা সংসদ গঠন করেছিলো এবং ২০১৮ সালে আগের রাতেই নির্বাচন করে এবং সেই নির্বাচনে জনগণর কোনো অংশগ্রহন ছিলো না, তারাই জালিয়াতি করে ভোট দিয়ে বিভিন্নভাবে তাদের নির্বাচিত করেছে এবং স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমরা বিভক্ত। সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন সব জায়গাগুলোতে বিভক্তি এসে গেছে এবং বিভক্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। অত্যন্ত সচেতনভাবে এই সরকা্ররে এজেন্সিগুলো অত্যন্ত এ্যাক্টিভ। আমরা যারা গণতন্ত্র চাই, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব চাই- তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে ঐক্যের বিনষ্ট ঘটাচ্ছে তারা। এই বিষয়টা সম্পর্কে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছি, লড়াই করছি, সংগ্রাম করছি আমাদের বিভক্তির কোনো অবকাশ নেই। এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে যদি সরাতে চাই জনগণের দৃঢ় ঐক্য, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের প্রয়োজন আছে। একই সঙ্গে সমস্ত সংগঠনগুলো যারা গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে তাদের ঐক্যের প্রয়োজন আছে।

তিনি বলেন, সকলের প্রতি আমার আবদন থাকবে, বিভেদ নয়, আপনারদের ঐক্য, জনগণের ঐক্য দিয়ে এদেশের মুক্তি হবে, গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন।
নির্বাচন কমিশন আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। কোথায় নির্বাচন কমিশন? এই কমিশন সম্পূর্ণভাবে একটা আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আবার শুনা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসে আবার নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। ৫২ জন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী তারা একটা আইন প্রণয়ন করতে বলেছেন নির্বাচন কমিশনের জন্য। ভালো কথা। কিন্তু আইনটা করবে কে? এই আইন তো পাস করবে সেই পার্লামেন্ট যে পার্লামেন্টে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কিছু নাই। যারা দেশের গণতন্ত্র ধবংস করছে, জনগণের সমস্ত অধিকারগুলোকে হরণ করে নিচ্ছে তারা।

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ শাখার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিকের ওপর নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা আওয়ামী লীগের চরিত্র। যখনই তাদের মতের বিরুদ্ধে কিছু বলবেন তখনই তার উপরে নির্যাতন করবে। এটা আজকে না, আমরা ১৯৭১ সাল থেকে দেখছি। এমনকি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে আমরা যারা সেই সময়ে আওয়ামী লীগের একদলীয় সংগ্রামের বাইরে গিয়ে কাজ করছিলাম,লড়াই করছিলাম, যুদ্ধ করছিলাম আমাদেরকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

বাকশালের আলমত দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে, সত্য কথা যাতে আমরা বলতে না পারি সেজন্য নতুন নতুন আইন তৈরি করছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট। এখন নতুন একটি আইন তৈরি করতে যাচ্ছে সেটাকে তারা বলছে ব্যক্তি সুরক্ষা আইন। এটা আরেকটা কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা লেখালেখি করেন, যারা মত দেন তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তাদেরকে আবার নির্যাতন করার জন্য তারা এই আইনটা করতে যাচ্ছেন। তথ্যমন্ত্রী সাহেব জানিয়েছেন, ২১০টি পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা তো বাকশালের আলামত দেখতে পাচ্ছি, বাকশাল দেখতে পারছি। এরমধ্যে একজন বেশ শিক্ষিত মন্ত্রী উচ্চ পদস্ত আমলা ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেছেন, বাকশাল ভালো ব্যবস্থা ছিলো। সেই কথাটা পরিস্কার করেই বলেন যে, আমরা বাকশাল করছি, আমরা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছি-এই কথাটা তো বলছেন না। কারণ মানুষকে আপনারা প্রতারণা করেছে সবসময়ে। নিউজ পোর্টালের জন্য ৪ হাজার আবেদনের থেকে দলীয় পছন্দের ৯৫ টিকে নিবন্ধন দেয়ার ঘটনার সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কারাবন্দি সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান তিনি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী সভাপতিত্বে এবং ডিইউজে নেতা শাহজাহান সাজু ও দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, সাংবাদিক নেতা এমএ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত, বাসির জামাল ও রাশেদুল হক বক্তব্য রাখেন।###

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন