মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

এলডিসি দেশগুলোর উন্নয়ন থামিয়ে দিয়েছে করোনা : জাতিসংঘ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

আঙ্কটাডের ‘লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিস রিপোর্ট ২০২১’ বলছে, করোনা মহামারির কারণে দারিদ্র্য, শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলো যে অগ্রগতি অর্জন করেছিল তা থেমে গেছে। গরিব দেশগুলোকে সহায়তা দিতে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিতে ১৯৭১ সালে জাতিসংঘ ‘লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিস’ বা এলডিসি গ্রুপ তৈরি করেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশসহ ৪৬টি দেশ এ গ্রুপের অন্তর্গত। বাকি দেশগুলোর মধ্যে ৩৩টি আফ্রিকার, নয়টি এশিয়ার, তিনটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় রাষ্ট্র ও অন্যটি হাইতি।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে বিশ্বের ১৫ শতাংশ মানুষ (১১০ কোটি) বাস করে। তাদের মাত্র দুই শতাংশ লোক করোনার টিকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে আঙ্কটাড। এখন পর্যন্ত ছয়টি দেশ ‘স্বল্পোন্নত’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে পরিণত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে বতসোয়ানা, কাবু ভ্যার্দি, মালদ্বীপ, সামোয়া, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ও ভানুয়াতু।
বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা : গত ফেব্রুয়ারিতে এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুপারিশ পায় বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি এ সুপারিশ করে। তবে এজন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আইএমএফের সবশেষ তথ্য বলছে, অগ্রসর অর্থনীতির দেশগুলো এরই মধ্যে গড়ে ৩৯ দশমিক সাত শতাংশ মানুষকে টিকা দিয়েছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো টিকা দিয়েছে ১১ শতাংশ মানুষকে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের দেশগুলো মাত্র এক দশমিক দুই শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে গত সোমবার এক ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। আঙ্কটাড কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে এলডিসি হিসেবে পাওয়া আন্তর্জাতিক সুবিধাগুলো বন্ধ হওয়ার আগেই কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে।

আঙ্কটাডের অর্থনীতি বিষয়ক কর্মকর্তা জিওভানি ভ্যালেন্সিসি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের উপর বেশি পরিমাণে নির্ভরশীল। সরকার এসব পদক্ষেপকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে। ‘এ কারণে তৈরি পোশাকের মতো রপ্তানি খাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, যা দ্বিমুখী ধারালো তলোয়ারে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক পদক্ষেপগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হলেও যাতে অগ্রগতি থেমে না যায়, সেজন্য শিল্পের নীতি কাঠামো তৈরি করা দরকার’।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির তুলনায় আরও বাড়াতে এ অর্থনীতিবিদ এ খাতের বিনিয়োগকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।

জিওভানি ভ্যালেন্সিসি বলেন, বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি করলেও এখনও মাথাপিছু জিডিপি বৈশ্বিক গড়ের মাত্র ১৫ শতাংশ। এক্ষেত্রেও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানও মধ্যম আয়ের দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ডমেস্টিক রিসোর্চ মবিলাইজেশন জিডিপির ১০ ভাগ মাত্র। এটা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটা দক্ষিণ এশিয়ার কয়েক দেশের তুলনায়ও কম। আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে, পাশাপাশি যেসব খাত ভালো করবে সেখানে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার’।

অধ্যাপক মোস্তাফিজ বলেন, জিডিপিতে যদি উৎপাদন খাতের অবদান দ্বিগুণ করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ দরকার হবে। ‘বাংলাদেশের মত দেশে বৈষম্য দূর করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কৌশলগত জায়গায় কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর আমাদেরকে হোমওয়ার্ক করতে হবে’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যিক সুবিধা আরও ১২ বছর চালু রাখার কথা বলছে বালাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো। হয়ত এত সময় পাওয়া যাবে না, তবুও আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব’।

ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বলেন, বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ যাতে সাবলীলভাবে হয়, সেই সহযোগিতা দিয়ে যাবে জাতিসংঘ।

ঢাকায় জাতিসংঘ কার্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মাজেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনায় অন্যদের মধ্যে আঙ্কটাডের এলডিসি বিভাগের প্রধান রলফ ট্রেগার বক্তব্য দেন। সূত্র : ডয়েচে ভেলে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন