সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ইসলামে মাদক পরিপূর্ণরূপে নিষিদ্ধ

খুৎবা-পূর্ব বয়ান

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ৩ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০২ এএম

সমাজের সর্বস্তরে মাদকের বিস্তার লাভ করেছে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইসলাম মাদককে পরিপূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কোরআন কারিমে মাদক নিষিদ্ধের বিষয়টি তিনটি ধাপে এসেছে। প্রথমে বলা হয়েছে, ‘লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এগুলোর মধ্যে আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য অপকারও, কিন্তু এগুলোতে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত : ২১৯)। আজ জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে পেশ ইমাম এসব কথা বলেন। রাজধানীর মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজম কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান আজ জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেছেন, শিশুকাল যৌবনকাল আর বার্ধক্য সবই আল্লাহ তায়ালার দান। এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের দুর্বলরূপে সৃষ্টি করেন, অতঃপর দুর্বলতার পর তিনি শক্তি দান করেন, শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৫৪। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বৃদ্ধদের প্রতি যত্ন নেয়ার বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা।)।

পেশ ইমাম বলেন, আজ সমাজের সর্বস্তরে মাদকের বিস্তার লাভ করেছে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইসলাম মাদককে পরিপূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। পেশ ইমাম বলেন, কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মোমিনগণ! মদ, জুয়া, পূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, এগুলো শয়তানের কার্য। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো’ (সুরা-৫ মায়েদা, আয়াত: ৯০)। সর্বশেষে ঘোষণা করা হলো, ‘শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদিগকে আল্লাহর স্মরণে ও নামাজে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’ (সুরা-৫ মায়েদা, আয়াত : ৯১)।

ঢাকা মিরপুরের বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী গতকাল জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, হিজরী বছরের গুরুত্বপূর্ণ মাস সফরের শেষ প্রান্তে আমরা উপনীত। আগামী বুধবার অর্থাৎ সফরের শেষ বুধবারকে আখেরী চাহার শোমবাহ বলা হয়। এটি ফার্সি শব্দ। বলা হয়, রাসুল (সা.) যে অসুস্থতার কারণে রবিউল আউয়াল মাসের শুরু ভাগে ইন্তেকাল করেন, সে অসুস্থতা থেকে সফর মাসের শেষ বুধবারে অর্থাৎ আখেরী চাহার শোমবায় কিছুটা সুস্থতা বোধ করেছিলেন।

খতিব আরও বলেন, মানুষের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা ঈমানের মতো অমূল্য সম্পদ দান করেছেন তাদের মর্যাদা অনেক উর্ধ্বে। তারা আল্লাহর প্রিয়ভাজন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি অবশ্যই মানবজাতিকে সম্মানিত করেছি এবং স্থলে ও সমুদ্রে প্রতিষ্ঠিত করেছি’। (সুরা ইসরা, আয়াত-৭০)। সুতরাং সম্মানিত ও প্রিয় বান্দা হিসেবে আমাদের চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজগুলো আল্লাহ তায়ালার পছন্দনীয় কাজ হওয়া দরকার। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করেন, আমীন।

দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এ খতিব মাওলানা রেজাউল করিম জুমার পূর্বে খুৎবার বয়ানে বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন তুমি আল্লাহকে ভয় করো যেখানেই থাকো না কেন এবং কোন মন্দ কাজ হয়ে গেলে তারপর নেক কাজ করে নাও তাহলে সেই নেক কাজ সেই মন্দ কাজকে মিটিয়ে দিবে আর মানুষের সাথে উত্তম চরিত্রের মোয়ামালা করো। কোরআনে কারিমে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে চলে আল্লাহ তার মুক্তির পথ করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা হতে রিজিক প্রদান করেন যার সে ধারণাও করতে পারে না। (সুরা তালাক) অবশ্যই নেক কাজ মিটিয়ে দেয় মন্দকাজকে (সূরা হুদ)।

পুরোনো ঢাকার বেগম বাজার শাহী মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম গতকাল জুমার বয়ানে বলেন, সন্তান আল্লাহ পাকের অনেক বড় নেয়ামত। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমে এরশাদ করেছেন, ‘সম্পদ ও সন্তান দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য।’ তবে এই সন্তান যাতে করে সুসন্তান হয় সে বিষয়ে সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, হে মোমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে রক্ষা কর সেই আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা তাহরীম (৬৬) : ৬)।

সুতরাং সন্তানদের সুসন্তান হিসেবে গড়ে তুলে তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো পিতামাতার দায়িত্ব। কারণ সন্তান যদি কুসন্তান হয় তাহলে এর বোঝা দুনিয়া এবং আখেরাতে পিতামাতাকেই বহন রতে হবে। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে। তোমাদের প্রত্যেকে দায়িত্বশীল। প্রত্যেকে তার অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) জনগণের দায়িত্বশীল। তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ পরিবারের দায়িত্বশীল। তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। মহিলা তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের দায়িত্বশীল। তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। গোলাম তার মনিবের সম্পদের দায়িত্বশীল। তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সহিহ বোখারি।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি শিশু ফিতরত (সত্য স্বভাব)-এর উপর জন্মগ্রহণ করে। পরে তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায় কিংবা খ্রিস্টান বানায় কিংবা অগ্নিপূজক বানায়। (সহিহ বোখারি, হাদীস-১৩৫৮)। এ কারণেই সন্তান যদি পথহারা হয়ে জাহান্নামী হয়ে যায় তাহলে এই আদরের সন্তানই কেয়ামতের মাঠে যাদের কারণে তারা বিপদগামী হয়েছে তাদের এভাবে খুঁজতে থাকবে। আল্লাহপাক আমাদের সন্তানদের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন