রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

ইসলামী জীবন

উদারতা মুসলমানের বৈশিষ্ট্য

প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ফিরোজ আহমাদ

উদারতা প্রদর্শন করা মুসলমানের বৈশিষ্ট্য। মুসলমান নিজের খাবার অন্যকে খাইয়ে প্রশান্তি লাভের চেষ্টা করে। এছাড়া ইসলাম হলো উদারতার ধর্ম। তাই জন্মগতভাবে মুসলমান ব্যক্তি মাত্রই কিছুটা উদার প্রকৃতির হয়। মুসলমান কারো মনে কষ্ট দেয় না কিম্বা কষ্ট দিতে পারে না। মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে অমুসলিমদের জানমাল, ইজ্জত রক্ষার জন্য কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে মুসলমানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মে অমুসলিমদের প্রতি ইনসাফ করার জন্য নির্দেশ হয়েছে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং দেশ থেকে তোমাদের বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদাচারণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।’ (সূরা মুমতাহিনা, আয়াত:৮)। মুসলিম ফকিগণ লিখেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি (মুসলমান) যদি কোনো ইহুদি বা অগ্নিপূজককে ‘হে কাফের’ বলে সম্বোধন করে, ইহা দ্বারা তার মনে আঘাত লাগে, তাহলে ‘হে কাফের’ বলে সম্বোধনকারী ব্যক্তি গুনাহগার হবেন। (ফতোয়ায়ে আলমগিরী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা-৫৯) ।
ধর্মীয় রীতিনীতি আচার অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে ইসলাম উদার। ইসলাম কাউকে দ্বীন পালন করার ক্ষেত্রে বাধ্য করার অনুমতি প্রদান করে না। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম আর আমার জন্য আমার ধর্ম।’ (সূরা কাফেরুন, আয়াত: ৬)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘ধর্ম পালনে কোন জোরজবরদস্তি নেই।’ (সূরা বাকারা, আয়াত:২৫৬)।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামের মর্যাদা ক্ষুণœ করার জন্য একশ্রেণীর ব্যক্তি জিহাদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে যুবকদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমের ধর্ম পালনে মুসলমানের যেমন কিছু করণীয় রয়েছে তেমনি ইসলাম ধর্মে অন্যান্যদের আহ্বানের ক্ষেত্রেও কোরআনে সুন্দর নির্দেশনা রয়েছে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি মানুষকে প্রজ্ঞা ও সদুপদেশ দ্বারা আল্লাহর পথে আহ্বান কর এবং তাদের সাথে সদ্ভাবে আলোচনা কর।’ (সূরা না হল, আয়াত: ১২৫)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব তুমি উপদেশ দাও, তুমি তো শুধুমাত্র একজন উপদেশদাতা। তুমি তাদের কর্ম বিধায়ক নও। কেউ বিমুখ হলে ও কুফরি করলে অতঃপর আল্লাহ তাদের শাস্তি দিবেন। তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট। অতঃপর তাদের হিসাব নিকাশ (গ্রহণ করা) আমারই কাজ।’ (সূরা গাশিয়াহ, আয়াত:২২-১৬)। কোরআনুল কারীমে মুসলমানদেরকে মধ্যমপন্থী দল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলাম উগ্রতার বিপরীতে উদারতার চর্চা করে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যমপন্থী মানব দলে পরিণত করেছি, যেন তোমরা দুনিয়ার অন্যান্য মানুষদের উপর (পথপ্রদর্শনের) সাক্ষী হয়ে থাকতে পারো।’ (সূরা বাকারা, আয়াত:১৪৩)। কোরআনে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু মুসলমানদের জান্নাতের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য নির্দেশ করেছে। যা কিছু মঙ্গল এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক ইসলাম তাকে সমর্থন করে।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শান্তি স্থাপনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তির বার্তা প্রদান করেছেন। মদিনার সদন প্রণয়নের মাধ্যমে মানবাধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। কোরআনে ও ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনাকে বিশ্ব জগতের প্রতি রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া, আয়াত:১০৭)। কোরআনে প্রিয় নবীকে শুধু মুসলমানের জন্য রহমতস্বরূপ বলা হয়নি। তাকে আঠার হাজার মাখলুকের জন্য রহমত স্বরূপ বলা হয়েছে। অমুসলিমরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে পরামর্শ গ্রহণের জন্য নবীজীর নিকট আসতো। হযরত রাসূল (সাঃ) তাদের সমস্যা শুনতেন এবং পরাশর্ম দিতেন। রাসূল (সাঃ) সকলের প্রতি উদার ছিলেন। নিজের সম্পদ মানুষের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে তিনিই প্রথম উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সুতরাং আমরা যদি রাসূল (সাঃ) কে মান্য করি। সত্যিই তাঁর উপর ঈমান এনে থাকি। তাহলে তাঁর উদারতার আদর্শ প্রত্যেক মুসলমানকে ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদকে না বলতে হবে।
লেখক: ইসলামী চিন্তাবিদ ও সুফিতাত্ত্বিক গবেষক

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps