বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু

রফিক মুহাম্মদ ও নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ৪ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৬ এএম

গত মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য দেশের উপক‚লের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ এবং অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ইলিশের আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশে ইতোপূর্বে আশ্বিনের বড় পূর্ণিমার আগে পরের ২২ দিন এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের প্রজনন সময় কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করে এসময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় মাছ ধরা নিষেধ সেসব এলাকায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা সার্বক্ষণিক পাহারা দেবে। মা ইলিশ রক্ষায় যেকোনও মূল্যে এই অভিযান সফল করতে বদ্ধ পরিকর সরকার। এ লক্ষ্যে বিভাগ থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। নদীপাড়ের জেলে, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মানুষকে তৎপর থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে কোন মাছ ধরা নৌকা নামতে পারবে না। অধিক গতি বা একের অধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা রিকুইজিশন করে রাখা হয়েছে। সেগুলো নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা পুলিশ ব্যবহার করবে। আর এ বছর আটক করা নৌকা সঙ্গে সঙ্গে নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হবে।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলে সম্প্রদায়ের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ২০ কেজি করে চালও প্রদান করা হবে। এর মধ্যে শুধুমাত্র বরিশাল বিভাগের সাড়ে ৩ লাখ জেলের মধ্যে ৩ লাখ ৭ হাজার ১২৪ জনকে প্রায় ৭ হাজার টন চাল বিতরণ করা হবে আগামী সপ্তাহেই।

আশ্বিনের ভরা মৌসুমে ভোলার পশ্চিম আউলিয়া পয়েন্ট-তজুমদ্দিন, মনপুরা দ্বীপ, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লতাচাপলি পয়েন্টের ধলচর দ্বীপ, মৌলভীরচর দ্বীপ ও কালিরচর দ্বীপ, মায়ানী পয়েন্ট-মিরসরাই ছাড়াও কুতুবদিয়া পয়েন্ট এলাকায় মা ইলিশের অত্যাধিক প্রাচুর্য থাকায় ওইসব এলাকার ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারে আগামী ২২ দিনের জন্য সবধরনের মৎস্য আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকছে।

প্রতিদিন স্রোতের বিপরীতে ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটে চলা ইলিশ জীবনচক্রে স্বাদু পানি থেকে সমুদ্রের নোনা পানিতে এবং সেখান থেকে পুনরায় স্বাদু পানিতে অভিপ্রয়ান করে। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, উপক‚লের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মূল প্রজনন ক্ষেত্রে মুক্ত ভাসমান অবস্থায় ছাড়া ডিম থেকে ফুটে বের হয়ে ইলিশের লার্ভা, স্বাদু পানি ও নোনা পানির নার্সারি ক্ষেত্রসমূহে বিচরণ করে খাবার খেয়ে বড় হতে থাকে। নার্সারি ক্ষেত্রসমূহে ৭-১০ সপ্তাহ ভেসে বেড়াবার পরে জাটকা হিসেব সমুদ্রে চলে যায় পরিপক্কতা অর্জনে। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ১২-১৮ মাস অবস্থানের পরে পরিপক্ক হয়েই পূর্র্ণাঙ্গ ইলিশ হিসেবে প্রজননের লক্ষ্যে আবার স্বাদু পানির নার্সারি ক্ষেত্রে ফিরে এসে ডিম ছাড়ে।

আগামী ২২ দিন আহরণ ও বিপন্ন নিষিদ্ধকালীন সময়ে দেশের সব ইলিশ মোকাম ছাড়াও বাজার এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
চাঁদপুর কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার সাব লেফটেন্যান্ট রোহান মঞ্জুর বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান সফল করতে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চাঁদপুর স্টেশন ছাড়াও হাইমচর এবং রায়পুরে আমাদের দুটি আউটপোস্ট কাজ করবে। অতিরিক্ত জনবলও এসেছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আমরা নদীতে অভিযান পরিচালনা করবো। রাতে বা দিনে যখনই প্রয়োজন পড়বে তখনই অভিযান হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী চাঁদপুর জেলায় ৪৪ হাজার ৩৫ জন জেলে রয়েছেন। আজ থেকে তাদের ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে। মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে সার্বক্ষণিক রোস্টারভিত্তিক অভিযান চলবে। এছাড়া জেলা নৌপুলিশ জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ করেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন