বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রাজনীতির হিসাব-নিকাশ

ইসি গঠন-দ্বাদশ নির্বাচনে ‘সরকারের ধরন’ নিয়ে বিতর্ক আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠনে অনড়, প্রশাসন সাজাচ্ছে নিজেদের মতো করে; নতুন আইন করে ইসি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০১ এএম

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ২০২৩ সালের শেষ দিকে। ওই নির্বাচনের দুই বছর আগেই নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কোন পদ্ধতির সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই যোগ হয়েছে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যু। আগামী বছরের প্রথম দিকেই বর্তমানের নুরুল হুদা কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। সরকার বলছে, সার্চ কমিটির বাছাই করা ব্যক্তিদের প্রেসিডেন্ট ইসি নিয়োগ দেবেন। কিন্তু বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসি গঠন করার জন্য নতুন আইন-প্রণয়নের দাবি করছেন। গত কয়েক বছর ধরে ‘মাঠের রাজনীতি উধাও’ হলেও বক্তৃতা বিবৃতি, বন্ধঘরে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সংবাদ সম্মেলনে ‘রাজনীতির বাতাস উত্তপ্ত’। জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগেই রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের হিসেব কষছেন? আগামীতে জনগণ কি ভোটকেন্দ্রমুখী হবে। জনগণ কি ভোট দিতে পারবে?

জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না এটা দেশ-বিদেশের সবাই জানেন। নিরপেক্ষ ইসি গঠন করেও এ সরকারের অধীনে ভোট হলে জনগণ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না। ভোটের অধিকার আদায় বিএনপিকে এক দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দুই থেকে তিন বছরের জন্য ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ সরকার’ গঠন করতে হবে। তারা নির্বাচন কমিশন গঠন, পুলিশ প্রশাসনে রদবদল করবেন। বাঘের পিঠে উঠা সহজ, নামা কঠিন। আগের রাতে ভোট করে আওয়ামী লীগ বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছে। তবে আশার কথা হলো প্রতিবেশি রাষ্ট্রের মূল্যায়ন এখন ভিন্ন। আফগানিস্তান ইস্যুতে জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় বাইডেন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন সরকারকে আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে না। মার্কিন কংগ্রেস কমিটি যে ৭ দফা দিয়েছে তাতে পরিষ্কার তারা অগণতান্ত্রিক কাউকে সাপোর্ট করবেন না। বিএনপি একাদশ সংসদে অংশ নেয়ার মতোই এখন যদি ৭০ থেকে ৮০ আসনের জন্য পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে তাহলে বিএনপি ‘শেষ’ হয়ে যাবে। জনগণ তাদের নেতৃত্ব সৃষ্টি করবে। কারণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় রাজনীতিতে আসনশূন্য থাকে না। কোনো না কোনোভাবে শূন্যতা পূরণ হয়।

মাঠের রাজনীতি না থাকলেও মিডিয়ায় নিজউ হওয়ার ‘কথামালার রাজনীতি’ ঠিকই চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তৃর্ণমূলের দল। জনগণের মনোভাব বুঝতে পেরে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনে ডিসি, এসপি, ইউএনও নিয়োগ-বদলির ছক করা হচ্ছে যাতে আগামী নির্বাচনের সময় মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দল অনুগত লোকজন থাকেন। সূত্রের দাবি দেশি-বিদেশি শক্তির চাপে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশাসনে কিছুটা রদবদল করতে হলেও পছন্দ মতো ব্যক্তিরাই যাতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেনÑ এমন চিন্তা-ভাবনা থেকেই প্রশাসনের নানান স্তর সাজানো হচ্ছে। গত দুটি জাতীয় নির্বাচনের সময়ও প্রশাসন সাজানো হয়েছিল। এ অবস্থায় গতকালও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। নিরপেক্ষ সরকার নয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনই সর্বেসর্বা। সরকার তখন শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করে থাকে। আর নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহযোগিতা করে থাকে। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন করলে বিএনপির হঠকারী রাজনীতির ফাঁদে ঝাঁপ দেবে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে সবসময় নির্বাচনমুখী। বিএনপি সব সময় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। সব সময় সেই প্রস্তুতি আমাদের আছে। কিন্তু সেটি হতে হবে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। নির্বাচনকালীন সময়ে যদি একটি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে তাহলে সেই নির্বাচনটা কখনোই সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহনযোগ্য হয় না। একটা সুষ্ঠু অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হলে নিরপেক্ষ সরকার থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। আর সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই সরকারের এমন বক্তব্য অয়ৌক্তিক। সংবিধান কী একটা বাইবেল যে এটা পরিবর্তন করা যাবে না। জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। আওয়ামী লীগ তো সংবিধান পরিবর্তন করেছে।

জানা গেছে, মূলত ভবিষ্যৎ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে প্রশাসন সাজানোর ছক মহাজোট সরকার তৃতীয় বার ক্ষমতায় এসেই শুরু করে দেয়। দায়িত্ব নেয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যে সরকারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ও সন্দেহভাজন বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। তাদের বেশিরভাগকেই পোস্টিং দেয়া হয়নি। কিছু অংশকে ডাম্পিং কিংবা হয়রানিমূলক পোস্টিং দিয়ে কাঁবু করা হয়। এছাড়া এ তালিকার বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে দফায় দফায় পদোন্নতি না দিয়ে একেবারে পেছনের কাতারে নেয়া হয়। প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেই আগামী নির্বাচনে মাঠে নামতে চায় ক্ষমতাসীন দল। প্রশাসনকে শুধু অনুগত লোকদের রাখা নয় আওয়ামী লীগের তৃর্ণমূল পর্যায়ের নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার বার্তা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর গত ৯ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সকল স্তরের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন আগামী নির্বাচনের জন্য এখনই প্রস্তুতির। দলের ভেতরে গ্রুপিং লবিং, উপদল না করে বিরোধ মিটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেন। সভায় দেশের ৮ সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে আরো মজবুত করে নির্বাচনে প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, যেখানে যেখানে সাংগঠনিক সমস্যা রয়েছে এবং যেগুলো সমাধান করা দরকার সেগুলোর ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সততা, আদর্শ ও দলের প্রতি আনুগত্য দেখে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতা নির্বাচন করতে হবে। তৃণমূলের কর্মীবাহিনী ও তাদের ঐক্যই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে আরো শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ করতে হবে। দলের গঠনতন্ত্র ও আইন মেনে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে হবে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার স্বার্থেই।

এদিকে বিএনপি দীর্ঘদিন পর গত সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় কমিটির বৈঠক করেছে। অতপর ১৪ সেপ্টেম্বর ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ামানের উপদেষ্টা, ১৫ সেপ্টেম্বর সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব, সহসম্পাদক ও ১৬ সেপ্টেম্বর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। তিন দিনের বৈঠকে সকল স্তরের নেতা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে মাঠের কর্মসূচির জোর দাবি জানান। এছাড়াও নেতারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মতো বাইরের কোনো নেতাকে ‘হায়ার’ না করার পরামর্শ দেন। বিএনপির থেকে জানানো হয় আগামীতে পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিদের সঙ্গে সংলাপ করে দলের করণীয় চূড়ান্ত করা হবে। এরই মধ্যে বিএনপি ২৭ সেপ্টেম্বর আইনজীবী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ করেছে। দলের আগামী দিনের করণীয় ঠিক করতে তাদের কাছে পরামর্শ নেয়া হয়েছে। আবার আগামী ৮ অক্টোবর থেকে আবার পেশাজীবীদের সঙ্গে সংলাপ করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিএনপি নির্বাচনে অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। দলীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। একই সাথে বিএনপি চেয়ারপারসন ও গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। আর সরকার যদি সেটি না করে তাহলে গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নামবে বিএনপি। জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এসব দাবি আদায় করা হবে।

এদিকে বিএনপির নেতৃত্বে যে ২০ দলীয় জোট ছিল সেখান থেকে একাধিক দল চলে গেছে। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মঞ্জুর), বাংলাদেশ ন্যাপ, জমিয়তে উলামায় ইসলাম (আবদুর রব ইউসূফি), খেলাফত মজলিশ (ইসহাক), এলডিপি, এনপিপি’র একাংশ ২০ দলীয় জোট থেকে চলে গেছে। কিন্তু বিএনপির নেতারা তিন দিনের বৈঠকে জামায়াতকে জোটে না রেখে যুগপথ আন্দোলনের প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও পীর-মশায়েখদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে সাইটে রেখে বাম ধারার দলগুলোকে এক দফার আন্দোলনে (নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন) সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

বামধারার দল ও ইসলামী ধারার দলগুলো নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার। তাদের বক্তব্য জনগণকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় না বসানোর জন্যই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। জনগণ ভোট দিতে না পারলে আবার জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে নামতে হবে।

জানতে চাইলে সিপিবির সম্পাদক পরিষদের সদস্য রোহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ২০১৮ সালে সিপিবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে ইসি গঠনে নতুন আইন করার প্রস্তাব দিয়েছিল। সিপিবির অবস্থান সেখানেই। ৫৪ দফা দাবিনামা দিয়েছিলাম। দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। যে নামেই হোক না কেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সরকার করতে হবে। নির্বাচনের সময় সরকার কেমন হবে তা সংবিধানে অন্তভূক্ত করতে হবে।
জনসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার বা নির্বাচন তদারকি সরকার গঠন করতে হবে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো ফেয়ার নির্বাচন হবে না। নির্দলীয় সরকার সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেবেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক আবহ সৃষ্টি করবেন। তারপর সকল দলের সমঝোতার ভিক্তিতে গঠিত নির্বাচন তদারকি সরকার ভোট দেবেন। গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিষ্কার দাবি দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। যারা নির্বাচিত হবেন তাদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে ক্ষমতায় গেলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করবেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম হলে ৫ বছর পর নির্বাচনের আগে আর সংকট থাকবে না।

ডেমোক্র্যাটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমদ মনি বলেন, নির্বাচনের আগে সব দলের মতামতের ভিক্তিতে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। তারা ইসি নিয়োগ দেবেন এবং নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাজানো প্রশাসন রেখে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না।

১৪ দলীয় জোটের শরীক জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, বিগত নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে সেটা আমরা বলেছি। এই সরকারের অধীনে নির্বাচনকে জনগণ তামাশা মনে করে। এখনো ২ বছর সময় রয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনে সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে এখন থেকে ডায়লগ করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সংকটের সমাধান হতে পারে। দলীয় সরকারের অধীনে ফেয়ার নির্বাচন সম্ভব নয় তা সবাই জানে। ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ইমানদার-আমানতদারদের নিয়ে ইসি গঠন করতে হবে। তাদের সৎ সাহস ও মেরুদণ্ড থাকবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাইলে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। সেটা সবাই আলোচনা করেই করতে হবে। এখন বিরোধী দল কারা পরিষ্কার নয়; তবে সব দল বলে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ৭ অক্টোবর, ২০২১, ২:৩৫ এএম says : 0
বর্তমান রাষ্ট্র পতি উনি কি করে ইসি সার্স গঠন করবেন,উনি আওয়ামী লীগের দলীয় রাষ্ট্র পতি,আপনারা জনগণ একটু চিন্তা করে দেখেন,গত নির্বাচনে উনি ইসি গঠন করেছেন ,বিরোধী দল গুলির দাবী উনি রাষ্ট্র পতি মূল্যায়ন করেন নাই,নিজের দলের চিন্তা ভাবনা নিয়ে কাজ করেছেন,....
Total Reply(0)
Shamim Akter ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৩ এএম says : 0
আবারো জনাব,নরুল হুদা_ই_প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেওয়া হোক কস্টো করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া লাগবে না
Total Reply(0)
Sujan Akonda ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৩ এএম says : 0
বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কে আবার নিয়োগ দেওয়া হোক।আর যাতে দিনের ভোট রাতেই হয়ে যায়। আমাদের কেন্দ্রেগিয়ে যেনভোট দিতে না হয়
Total Reply(0)
MD Monju HN ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৩ এএম says : 0
নির্বাচন বিশ্লেষক তোফায়েল আহমেদ এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দেখতে চাই
Total Reply(0)
Shariful Islam ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৪ এএম says : 0
বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কে আমৃত্যু এই পদে বহাল করা হোক! কারণ তিনি যুগান্তকারী নির্বাচন উপহার দিয়েছেন আমাদের বাঙালি জাতিকে!
Total Reply(0)
Md Masud Parvez ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৪ এএম says : 0
আমার দেখা বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে এম নুরুল হুদা? উনি এমন একজন ভালো মানুষ যা বাংলাদেশে বিরল! যদি সারা পৃথিবীতে উনার মতো নির্বাচন কমিশনার সব দেশে থাকত তাহলে কি হতো???
Total Reply(0)
Rostom Rana ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৪ এএম says : 0
সার্চ কমিটি দিয়ে সার্চ করে শুধু একজনকেই নির্বাচন কমিশন হিসাবে পাওয়া য়ায়
Total Reply(0)
Aminul Islam Abir ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৫ এএম says : 0
বর্তমানে যে নির্বাচন কমিশন আছে এরকম কমিশন আবার গঠন হলে বাংলাদেশের মানুষের আর ভোট দিতে হবে না ভোট ছাড়াই যে কোন রাজনৈতিক দল জয় লাভ করবে আমরা চাই এমন নির্বাচন কমিশন যারা নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা করবে যেখানে জনগণ সুষ্ঠু ভাবে তাদের ভোট প্র‍দান করবে তাইলে দেশের মানুষের নির্বাচনে প্রতি আস্হা বাড়বে
Total Reply(0)
ফিরোজ আলম ফুলবাবু ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৫ এএম says : 0
দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন বন্ধ করা হোক উপজেলা পৌরসভা ইউনিয়নগুলোতে।
Total Reply(0)
Athaher Iqbal Chowdhury ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫৫ এএম says : 0
আরেকটা সার্চ করে আর একটা হুদা বসান।হুদাই নির্বাচন। কি দরকার। ক্ষমতার যোর যতদিন আছে চালিয়ে যান।ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসে থাখা ছাড়া আর কোন উপায় কি আছে?
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন