শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

খেলাধুলা

মালদ্বীপের বিপক্ষে হেরে ফাইনাল কঠিন হলো বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫৮ এএম

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ রেখেই মালদ্বীপ গেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শুধু ফাইনালে খেলার আশাই নয়, দীর্ঘ ১৮ বছর পর সাফ শিরোপা জেতার লক্ষ্যও জামাল ভূঁইয়াদের। লক্ষ্যপূরণে শুরুটা ভালোই করেছিল স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনের দল। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে এবং পরের ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে এবারের সাফের ফাইনালে খেলার আশা জাগিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেই এসেই হোঁচট খেল লাল-সবুজরা। স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে হেরে ফাইনাল কঠিন হলো বাংলাদেশের।
বৃহস্পতিবার রাতে মালেস্থ মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে নিজেদের ডু অর ডাই ম্যাচে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রইল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশকে হারিয়ে মালদ্বীপ যেন পেল টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছানোর আনন্দ। তাই তো সউদী আরবের রেফারি ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠে সেজদাহ দেন মালদ্বীপের ফুটবলাররা। গ্যালারিতে স্বাগতিক সমর্থকদের বাধভাঙা উল্লাস। ডাগ আউট থেকে পুরো কোচিং স্টাফ ছুটে গেলেন মাঠে। খেলোয়াড়রা ল্যাপ অফ অনার দিলেন মাঠ জুড়ে। এই দিনে এমন উচ্ছ্বাস অবশ্য বেশি নয়। কারণ বৃহস্পতিবার ছিল মালদ্বীপের জাতীয় দিবস। তার ওপর প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হেরেছিল তারা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে মুক্তি মিলল আশফাক-আকরামদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় মালদ্বীপ। তবে প্রথমার্ধ দুর্দান্তভাবে নিজেদের রক্ষণদূর্গ সামলে গোলশূন্য রাখেন জামালরা। দ্বিতীয়ার্ধে আর ক্লিনশিট রাখতে পারেননি তারা। ৫৫ ও ৭৪ মিনিটে দুই গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই ছাড়তে হয়স্টেডিয়াম। এই হারে তিন ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪। গাণিতিকভাবে এখনো আছে লাল-সবুজদের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে ১৩ অক্টোবর নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালকে হারাতে হবে পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলাফলে দিকেও। বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের বিপক্ষে ন্যূনতম এক পয়েন্ট পেলেও জামাল-তপুরা ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখতে পারতেন। কিন্তু তার আর হলো না। নিশ্চিন্ত পারলেন না অস্কার ব্রুজোন।
হারলেই বাজবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের ঘণ্টা- এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নেমেছিল মালদ্বীপ। হাজার আটেক সমর্থকদের ক্রমাগত চাপ সামলে ম্যাচের ৪৫ মিনিট গোলশূন্য রেখেছিল অস্কারের শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধে দুই ডেডবলে দু’গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে আরেক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগ করে খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। যার ফল তারা পায় ৯ মিনিট পর। ৫৫ মিনিটে কর্ণার থেকে লিড। বক্সে জটলার মধ্যে মালদ্বীপ ফরোয়ার্ড হামজা ব্যাকভলি করেন। বাংলাদেশ গোলরক্ষক জিকোর সামনে এক ড্রপ খেয়ে বল গোললাইন অতিক্রম করে (১-০)। বল জাল স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে মালদ্বীপ স্টেডিয়াম ‘মলদ্বীবস, মলদ্বীবস' ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। আগের ম্যাচে দশ জন নিয়ে ভারতের বিপক্ষে সমতা এনেছিল বাংলাদেশ। এই ম্যাচে এমন কিছু হবে সেই প্রত্যাশা ছিল দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন জামালরা। গোল তো দূরের কথা, মালদ্বীপকে তেমন বিপদে ফেলতেও পারেননি তারা। উল্টো ৭৫ মিনিটে স্বাগতিকদের পেনাল্টি উপহার দেয় লাল-সবুজরা। এই সময় বক্সের মধ্যে মিডফিল্ডার সোহেল রানা মালদ্বীপের ফরোয়ার্ডকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। চতুর ফরোয়ার্ড পড়ে গিয়ে পেনাল্টির আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশি বাজান সউদী রেফারি। অভিজ্ঞ ফুটবলার আলী আশফাক আলতো শটে ডান পাশ দিয়ে জিকোকে পরাস্ত করেন (২-০)। ম্যাচ সেরাও হন আশফাকই। দুই গোল হজম সঙ্গে কয়েক হাজার স্বাগতিক দর্শকের ক্রমাগত চাপ। এ দুই মিলিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা মেজাজ হারান। ফলে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াসহ বেশ ক’জনকে হলুদ কার্ড তেখতে হয়।
বাংলাদেশ কোচ অস্কার এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর এক সঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন। সুমন রেজা, জুয়েল রানা ও মাহবুবুর রহমান সুফিল- তিন ফরোয়ার্ডকে নামিয়েও আক্রমণের উন্নতি ঘটাতে পারেননি তিনি। ফলে একরাশ হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশ দলকে। ২০০৩ সালের পর মালদ্বীপকে না হারাতে পারার অপেক্ষাটা আরো দীর্ঘ হলো।
তারপরও সন্তষ্টি এই যে, অস্কারের বাংলাদেশ মালদ্বীপে বড় ব্যবধানে হারেনি। ২০১৬ সালে এই স্টেডিয়ামে মালদ্বীপ ৫-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। এবার অন্তত সেই লজ্জা পেতে হয়নি অস্কারকে।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন