শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ০৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বাবরের ৮ বছরের কারাদন্ড

অবৈধ সম্পদ অর্জন

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আট বছরের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাবরের জ্ঞাত আয়বর্হিভূতভাবে অর্জিত ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকাসহ তার প্রাইম ব্যাংক গুলশান শাখার মালিকানাধীন ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও একই আইনের ২৭(১) ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। তবে এ দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাবরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাকে আবারও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ৪ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

২০০৭ সালের ২৮ মে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যৌথবাহিনীর হাতে আটক হওয়া এ আসামির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলাটি ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি রমনা থানায় দায়ের করা হয়। মামলাটি করেন সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৬ জুলাই দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক রূপক কুমার সাহা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বাবরের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৬ টাকার অবৈধ সম্পদ রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি দুদকে ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৩১২ টাকার সম্পদের হিসাব দাখিল করেছিলেন। তার অবৈধ সম্পদের মধ্যে প্রাইম ব্যাংক এবং এইচএসবিসি ব্যাংকে দুটি এফডিআর-এ ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ টাকা এবং বাড়ি নির্মাণ বাবদ ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকা গোপনের কথা উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ১২ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলায় সাতজন সাক্ষ্য দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বললেন বিচারক: বিচারক শহিদুল ইসলাম বলেন, আসামির অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদন্ড এবং অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আসামিকে তথ্য গোপনের জন্য দুদক আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় তিন বছরের কারাদন্ড এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জনের জন্য একই আইনের ২৭ (১) ধারায় পাঁচ বছরের কারাদন্ডের সিদ্ধান্ত নিলাম।
আদালতের বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, সাক্ষীদের জেরায় আসামিপক্ষের দেয়া সাজেশন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুসারে আসামিকে পরীক্ষার সময় তার দেয়া লিখিত বক্তব্য ও যুক্তিতর্ক শুনানির সময় আসামিপক্ষ দাবি করেছে যে, ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বহুল আলোচিত ও কথিত মাইনাস-২ ফর্মুলা বাস্তবায়নে আসামিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার নামে মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করে মামলা দেয়া হয়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ২ নম্বর সাক্ষী জেরার উত্তরে বলেছেন যে, তিনি শুনেছেন তখনকার সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ তার দলের অনেক এমপি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর আসামিপক্ষে ওই দাবির বিরোধিতা করে বলেন যে, আসামি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অঢেল সম্পদ অর্জন করায় নিয়মতান্ত্রিভাবে তার নামে মামলা হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন