শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ০৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

শতাধিক কিডনি বিক্রি

সিন্ডিকেটের হোতা শাহরিয়ারসহ ৫ জন গ্রেফতার

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

বিক্রি ২০ লাখে, ডোনার পেতেন ২ লাখ : টার্গেট দরিদ্র-অভাবী মানুষ

অবৈধভাবে কিডনি কেনা-বেচা সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা শাহরিয়ার ইমরানসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ডোনারদের ভারতে পাঠাত। চক্রটি প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিলেও কিডনি ডোনারকে তিন থেকে চার লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে দিত দুই লাখ টাকা। চক্রটি এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষকে কিডনি বিক্রির জন্য ভারতে নিয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সোমবার দিনগত রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত র‌্যাব-৫, র‌্যাব-২ ও র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে জয়পুরহাট ও রাজধানীর নর্দা এলাকা থেকে কিডনি কেনা-বেচা সিন্ডিকেটের পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- শাহরিয়ার ইমরান আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান ও তাজুল ইসলাম ওরফে তাজু। অভিযানে ভুক্তভোগী কিডনিদাতাদের চারটি পাসপোর্ট, মেডিক্যাল চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট, ভিসা সম্পর্কিত বেশকিছু কাগজপত্র, পাঁচটি মোবাইল ও দেশি-বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে মানবদেহের কিডনিসহ নানাবিধ অঙ্গের অবৈধ ট্রান্সপ্লান্টেশনের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি চক্র। এসব চক্রের ফাঁদে প্রলুব্ধ হয়ে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ ক্ষেত্র বিশেষ গ্রাহকরাও প্রতারিত হচ্ছে। আইন বহিভর্‚ত, স্পর্শকাতর ও অবৈধ ট্রান্সপ্লান্টেশনের কার্যক্রম চক্রের সদস্যরা অর্থের লোভে অমানবিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে র‌্যাব সাইবার মনিটরিং সেল ভার্চুয়াল জগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবৈধ কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গ কেনাবেচা সিন্ডিকেটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। সিন্ডিকেট সদস্যরা অনলাইনে বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে গ্রাহক ও ডোনারদের আকৃষ্ট করছে। একইসঙ্গে অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে। ফলে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানায়, চক্রের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন। তারা তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে অবৈধ কিডনি কেনা-বেচার সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে। চক্রের প্রথম গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। চক্রের দ্বিতীয় দলটি প্রথম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে এবং তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ডোনার হতে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে তৃতীয় একটি গ্রæপ প্রলোভনের শিকার ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন রোগীর সঙ্গে বøাড ম্যাচিং ও অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করে। বøাড ম্যাচিং ও অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্টে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের উপযুক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পর তার পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভুক্তভোগী ডোনারকে ভারতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে। এই চক্রের সঙ্গে ভারতে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারকে বিদেশের এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করা থেকে শুরু করে হাসপাতালের ডকুমেন্টেশন, অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভিকটিমদের বৈধ কিংবা অবৈধ উপায়ে বিমান ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠায়।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতরা বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তারা রোগীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করতো। বিপরীতে তারা কিডনি ডোনারকে তিন থেকে চার লাখ টাকা দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে অগ্রিম দুই লাখ টাকা দিতো। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের পর প্রলোভনের শিকার কিডনিদাতাদের প্রতিশ্রæত অর্থ না দিয়ে নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করত। আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য চক্রটি কোনো ধরনের রিসিট, পাসপোর্ট বা অন্যান্য প্রমাণ ভুক্তভোগী ডোনারকে সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকত। চুক্তি অনুযায়ী কিছু অর্থ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমদের চুপ রাখার চেষ্টা করত তারা।


তিনি বলেন, এ চক্রের হোতা ইমরান ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ কিডনি ও লিভার পেশেন্ট চিকিৎসা সেবা’ এবং ‘কিডনি লিভার চিকিৎসা সেবা’ নামের দুটি পেজের এডমিন। এ পর্যন্ত তিনি কিডনি বিক্রির জন্য শতাধিক মানুষকে ভারতে পাঠায়। চক্রের অন্যতম সদস্য আব্দুল মান্নান মূলত ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এই অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করতেন। ইতোপূর্বেও এ অপরাধের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গ্রেফতার হন তিনি। তার বিরুদ্ধে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে ছয়টির বেশি মামলা রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
কামাল রাহী ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ৪:১৫ এএম says : 0
এদের মুল হোতাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন