শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬ কার্তিক ১৪২৮, ১৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত করছে : আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

সরকার সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বিনষ্ট করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার ক্ষেত্রে, দেশে স্থিতিশীল অবস্থা রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। হিন্দু ভাইদের দুর্গাপূজা হচ্ছে, সেই দুর্গাপূজায় কতগুলো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে কুমিল্লায় ও চাঁদপুরে। চাঁদপুরে তিনজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং নির্বিচারে গুলি করেছে। এই যে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বিনষ্ট করবার যে চক্রান্ত -এটা এই সরকারের চক্রান্ত। তারা এদেশে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি নষ্ট করতে চায়, ধবংস করতে চায় এবং দেশে স্থিতিশীলতার নষ্ট করতে চায়। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা শুনেছেন, কোরআর শরীফ নিয়ে রাখা হয়েছে পূজামন্ডপে। কে করেছ? যারা করেছে তারা এই স¤প্রদায়িক স¤প্রীতি নষ্ট করার জন্যই করেছে, দেশে একটা স্থিতিশীলতার নষ্ট করার জন্যই করেছে। অন্যদিকে আবার পুলিশ গুলি চালায় নির্বিচারে সেটাও একই কারনে তারা করেছে। একটা জায়গা না, বহু জায়গা এগুলো করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের এই দেশ একটা সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির দেশ। আমরা হাজার বছর ধরে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বাস করি। এসব ঘটনা যারা ঘটায় তারা সম্পূর্ণভাবে সরকারের এজেন্সির মাধ্যমে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য এবং আসল জায়গা থেকে অন্য দিকে দৃষ্টি নেয়ার জন্য করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার দেশের সংকট কী? এখন সংকট হচ্ছে গণতন্ত্র, কথা বলার অধিকার নাই। আমাদেরকে কোথাও দাঁড়াতে দেয়া হয় না, মানুষের অধিকারকে কেড়ে নিয়েছে। একটা ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী দানবের মতো শাসন চেপে বসে আছে আমাদের ওপর। সেটা নিয়ে কথা বলছি, কাজ করছি, তখন এসব ঘটনা ঘটিয়ে তারা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে চায়।

নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন বাংলাদেশে হাসির কথা। বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন ভুলে গেছে। লাস্ট নির্বাচন ২০০১ সালে হয়েছে তারপরে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ২০০৮ সালে যেটা হয়েছে সেটা একটা অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, সেটা আমরা কখনো মেনে নিতে পারি না।
তিনি বলেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন সাহেব বলেছেন, আপাতত বাংলাদেশে যে প্রেক্ষাপট আছে তাতে কখনোই একটা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন কমিশন কিছুই করতে পারবে না, সম্ভব না। যত ভালোই লোককে নিয়ে দেন- সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনা করতে না দেয় তাহলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। সেই কারণে আমরা পরিস্কারভাবে বলেছি যে, আগে পদত্যাগ করো-রিজাইন এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দাও। কিন্তু ওদিকে তারা (সরকার ) যাবে না। তারা সার্চ কমিটির মাধ্যমে সেই নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। এটা কোনো দিনই গ্রহনযোগ্য হবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, কথা পরিস্কার- নির্বাচন নির্বাচন আর খেলা হবে না। সত্যিকার অর্থে যদি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হয় আগে সরকারকে সরে যেতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে এবং সেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পাল্টাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষকে জাগিয়ে তোলার আহবান জানান তিনি।

জাতীয় প্রেসক্লাবসহ কোথাও বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নব্বইয়ের আন্দোলনের নেতাদের একটা অনুষ্ঠান ছিলো জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে। সেখানে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন ভার্চুয়ালি। এটা তারা সহ্য করতে পারলো না। তারপরের দিন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব, সরকারের তথ্যমন্ত্রী তারা বলতে শুরু করলেন খুব অন্যায় হয়েছে, বেআইনি হয়েছে। আরে ভাই এতো ভয় কেনো? তারেক সাহেব তো সেই ৮ হাজার মাইল থেকে একটা বক্তব্য দিয়েছেন। আপনারা এতো ভয় পাচ্ছেন কেনো? তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না, তার ছবি ছাপা যাবে না, তার কথা শুনানো যাবে না। আসলে তারা (সরকার) দুঃস্বপ্ন দেখে, এই বোধহয় এসে গেলো এবং দিবা স্বপ্ন দেখে দিনের বেলা ভয় পায় এই বুঝি আমাদের চেয়ার গেলো, গদি গেলো।

সংগঠনের সভানেত্রী অধ্যক্ষ নূর আফরোজ বেগম জ্যোতির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন