সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০০ এএম

খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বিপর্যয় আসতে পারে। জাতিসংঘের এমন সতর্কতা আর বৈশ্বিক ক্ষেত্রে খাদ্য পণ্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্য দিয়েই আজ শনিবার বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। তবে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক-২০২১-এ প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব ক্ষুধা সূচক (জিএইচআই) ২০২১ প্রকাশিত হয়। কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে যৌথভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। জিএইচআইয়ের ওয়েবসাইটে সূচকটি প্রকাশিত হয়েছে। সূচকে ১১৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬তম। সূচকে মোট ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ১। সূচক অনুযায়ী, ৯২তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান, স্কোর ২৪ দশমিক ৭। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের অবস্থান ১০১তম, স্কোর ২৭ দশমিক ৫। বাংলাদেশের আরেক প্রতিবেশী নেপালের অবস্থান ৭৬তম, স্কোর ১৯ দশমিক ১। অর্থাৎ, এবারের সূচকে বাংলাদেশ ও নেপাল সমঅবস্থান রয়েছে। এবারের সূচকে বাংলাদেশের আরেক প্রতিবেশী মিয়ানমারের অবস্থান ৭১তম, স্কোর ১৭ দশমিক ৫।

২০২০ সালের বিশ্বক্ষুধা সূচকে ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫, পাকিস্তানের ৮৮ ও ভারতের অবস্থান ছিল ৯৪তম। ২০১৯ সালে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৮তম এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬তম। সূচকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালে ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৪, যা ক্ষুধার ‘গুরুতর’ মাত্রাকে নির্দেশ করে। ২০০৬ সালে স্কোরে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়, স্কোর দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৯। ২০১২ সালের স্কোরে বাংলাদেশ আরও উন্নতি করে, স্কোর হয় ২৮ দশমিক ৬। চলতি বছরও বাংলাদেশের স্কোরে অগ্রগতি এসেছে। ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ১।

জিএইচআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছর ও দশকগুলোতে বেশ কিছু দেশের যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষুধা নিবারণের সাফল্যের গল্প আছে। জিএইচআইয়ের সূচকের স্কোর অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৪টি দেশ ২৫ শতাংশ বা তারও বেশি ক্ষুধা হ্রাস করতে পেরেছে। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথাও বলা যায়। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ জিএইচআই স্কোরে দারুণ অগ্রগতি করছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশের স্কোর ‘গুরুতর’ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত ২৮ দশমিক ৬ পয়েন্টে ছিল। সেখান থেকে ২০২১ সালে এ স্কোর সহনীয় পর্যায় হিসেবে বিবেচিত ১৯ দশমিক ১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, গত ৯ বছরে ক্ষুধা নিবারণে বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে অনেকখানি অগ্রগতি হয়েছে। এবারের সূচকে প্রাপ্ত স্কোর অনুযায়ী বাংলাদেশে ক্ষুধার মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্বক্ষুধা সূচকের মাধ্যমে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের ক্ষুধার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। অপুষ্টির মাত্রা, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বয়স অনুযায়ী কম উচ্চতা এবং শিশুমৃত্যুর হার হিসাব করে ক্ষুধার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বৈশ্বিক, আঞ্চলিক বা জাতীয়- যে কোনো পর্যায়ে ক্ষুধার মাত্রা নির্ণয় করতে এ সূচকগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সূচকে কারও স্কোর শূন্য হলে বুঝতে হবে, সেখানে ক্ষুধা নেই। আর স্কোর ১০০ হওয়ার অর্থ, সেখানে ক্ষুধার মাত্রা সর্বোচ্চ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা দা হাঙ্গার প্রজেক্টের তথ্য অনুসারে, প্রায় ৬৯ কোটি মানুষ বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ দরিদ্রতার সাথে বাস করছে, আর ৮৫ কোটি মানুষ দরিদ্রতার ঝুঁকিতে আছে কোভিডের কারণে। আবার এর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। খাদ্যের আন্তর্জাতিক বড় প্রতিষ্ঠান ক্রাফট হেইনজ সতর্ক করে বলেছে যে মহামারি-পরবর্তী পরিস্থিতি আর মুদ্রাস্ফীতির কারণে ‘খাদ্যের উচ্চমূল্যের সাথেই খাপ খাইয়ে নিতে হবে’। মহামারির কারণে অনেকে দেশেই শস্য থেকে আরম্ভ করে ভোজ্যতেলসহ কাঁচামালের উৎপাদন কমেছে। মূলত করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নেয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি অসুস্থতা, স্বল্প উৎপাদন ও বিতরণের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যেহেতু অর্থনীতিতে এমন পণ্যের সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে, অনেকেই হয়তো ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী তা করতে পারছে না, যা দাম বাড়াতে অবদান রাখছে। পাশাপাশি উচ্চ বেতন আর জ্বালানি মূল্যও উৎপাদনকারীদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস, বিবিসি বাংলা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন