রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

খেলাধুলা

ইতিহাস বদলানোর এইতো সময়

আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইউরোর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শিরোপাপ্রত্যাশী ইংল্যান্ডকে রুখে দিয়েছিল দুর্দান্ত প্রতাপে। বল পজিশনে পিছিয়ে থাকলেও গোল করার প্রচেষ্টায় এগিয়ে ছিল ক্ষুদে স্কটল্যান্ড-ই। ইউরোপিয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে সুপার ফেবারিটদের বিরুদ্ধে এভাবে বুক চিতিয়ে লড়বে স্কটিশরা-কে ভেবেছিল? অত্যন্ত আশাবাদীরাও হয়তো সাহস করেননি এমনি ভাবার। আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু। তবে কেন কথা বলছি ফুটবল নিয়ে? কারন স্কটল্যান্ডকে আমি জানি ফুটবলের দেশ হিসেবে। যারা সবশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে।

ঠিক উল্টো চিত্র দেশটির ক্রিকেটে। সবশেষ ৫টি ম্যাচে তারা জিতেছে মাত্র দু’টিতে। তাও পাপুয়া নিউগিনি ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হারের রেকর্ড আছে নামিবিয়ার বিপক্ষেও। আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের প্রথম রাউন্ডের গ্রæপ ‘বি’-এর ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এই স্কটল্যান্ড। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ওমানের মুখোমুখি হবে পাপুয়া নিউগিনি।
মুখোমুখি বাংলাদেশ-স্কটল্যান্ড। এখানে শক্তি-সামর্থ্য-ঐতিহ্য কিংবা অন্য যেকোন ভাবে দু’দলের লড়াইয়ের আবহ আঁকতে চান না কেন-মাহমুদউল্লাহর দল থাকবে হাজারগুণ এগিয়ে। সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমানরা আজ শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই বড় নাম না। তারা এখন বিশ্ব ক্রিকেটের বড় তারকা। উল্টোদিকে স্কটল্যান্ডের এই মাপের কোন তারকাই নেই। তারা সারা বছর যে কয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় তাও আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষেই।

তবুও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান রীতিমতো ভয়ের। স্কটিশদের বিপক্ষে একটিমাত্র টি-টোয়েন্টিই খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে ৩৪ রানে হেরেছিল তৎকালীন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দল। টসে জিতে রিচি বেরিংটনের সেঞ্চুরিতে ১৬২ রান তুলেছিল তারা। জবাবে ১২৮ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। জন ডেভি ও মজিদ হক নিয়েছিলেন তিনটি করে উইকেট। ৯ বছর আগের স্কোয়াডের ব্যাটে-বলের দুই নায়ক বেরিংটন ও ডেভি আছেন বর্তমান স্কোয়াডেও। দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয় সেটাই।

সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের মাটিতে তাদের হারানোর পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জেতে মাহমুদউল্লাহর দল। তাতে প্রত্যাশার পারদটা এক লাফে মাঠি থেকে উঠে গিয়েছিল আকাশে। কারন লাল-সবুজের জার্সিধারীরা ওয়ানডে ক্রিকেটকে যতটা আয়ত্ত¡ করতে পেরেছে ঠিক ততটাই পিছে পড়ে গেছে টি-টোয়েন্টিতে। তাই এই ছোট ফরম্যাটে আশাও থাকে কম। তবে অজি-কিউইদের হারানোর পর মনে হয়েছিল একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের দুই প্রস্তুতি ম্যাচে হারের পর আবারও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন পারফরম্যান্স ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে। জনাথন ট্রটের মতো অভিজ্ঞরা মনে করছেন এবারের বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত স্কটিশ দল ম্যাচ উইনারে ভরা। অধিনায়ক কেলি কোয়েটজারের ২০০৯ ও ২০১৬ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। রিচি বেরিংটন, ক্যালাম ম্যাকলিওড স্যাফিয়ান শেরিফ, ম্যাথু ক্রস, এলাসডিয়ার ইভান্স, জশ ডেভি, মিচেল লিয়াস্ক, জর্জ মুন্সি এবং মার্ক ওয়াটরা অভিজ্ঞ এবং বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতাতে সক্ষম।

সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ট্রট জানালেন, ‘বিশ্বকাপের স্কটল্যান্ড দলের ব্যাটিং লাইনআপ ম্যাচ উইনারে ভরা। আমার ধারণা দল হিসেবে ভালো খেললে বিশ্বকাপে চমক দেখাবে স্কটল্যান্ড।’

শক্তি সামর্থ্যরে দিক দিয়ে স্কটিশদের চেয়ে ঢের এগিয়ে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বেশ তাচ্ছিল্যই করলেন স্কটল্যান্ডের প্রধান কোচ শেন বার্জার। তার মতে, বাংলাদেশকে তিনি ওমান এবং পিএনজি’র মতই দেখেন। তবে বিশ্বকাপের আগে এ হার নিয়ে দলের অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন চিন্তিত নন। বরং মনে করিয়ে দিলেন, প্রস্তুতি মাচে সাকিব, মুস্তাফিজ এমনকি নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছিলেন না। তাই ওই ম্যাচগুলোর হার নিয়ে এত ভাবার কিছু নেই, ‘ওমানে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করেছিলাম। আবুধাবিতে আরেকটু বেশি প্রত্যাশা ছিল। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচ, আমরা কিছু জিনিস বাজিয়ে দেখেছি। তবে আমাদের মূল একাদশটা মিসিং। মুস্তাফিজ আইপিএল শেষ করে এসেছে, সাকিব এখনো আইপিএল খেলছে, আমাদের অধিনায়ক খেলতে পারেনি। তবে দেখার বিষয় ছিল বাকিরা কেমন করে সুযোগ নিচ্ছেন।’

তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন চিত্র। সাকিব, মাহমুদউল্লাহ এবং মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতেও জয়ের ক্ষমতা ছিল বাংলাদেশের। তবে দলে কাউকেই দেখা যায়নি দায়িত্ব নিতে। এক-দু’টি দায়িত্বশীল ইংনিস অথবা স্পেলে ঘুরে যেতে পারতো ম্যাচের ভাগ্য। এই দৃশ্য যদি না বদলায়, তাহলে যেকোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই যেকোন ফল আসতে পারে। তাই মানসিকভাবে চাঙা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে সবার। তাই উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ একটি শুরুর বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের চাওয়া একটাই- জয়।

 

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন