বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সরকারের অর্জনগুলো ম্লান করে দিচ্ছে

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য বিভিন্ন ইসলামী দলের তীব্র প্রতিবাদ-নিন্দা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০০ এএম

জ্ঞানপাপি ছাড়া কেউ আল্লাহ রব্বুল আলামিন, ভগবান এবং গডকে এক বলে মন্তব্য করতে পারেন না। আল্লাহ এক তার কোন শরীক নেই। অপরদিকে হিন্দু সম্প্রদায় ৩৬০ দেব-দেবির পূজা করেন। খ্রিস্টান সম্প্রদায় ৩ খোদার ইবাদত করেন। কাজেই আল্লাহর তুলনা অন্য কোন দেব-দেবির সাথে চলে না। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইসলাম, মুসলমান ও সরকারের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। তার ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য সরকারের অর্জনগুলোকে ম্লান করে দিচ্ছে।

তাকে মন্ত্রি পরিষদ থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসানের ইসলাম,আল্লাহ দাঁড়ি টুপি ফতোয়া সর্ম্পকে বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলাম ও আল্লাহ সম্পর্কে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে তওবা করতে হবে। অন্যথায় দেশময় প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পরবে। ড. মুরাদ হাসান রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সম্পর্কে কাণ্ড-জ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ। ইসলাম নিয়ে চক্রান্ত করলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমাদ তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসানের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, একজন মন্ত্রী মীমাংসিত একটি বিষয়কে টেনে এনে সম্প্রতি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করার হুমকি কিভাবে দিতে পারে। অথচ কোনো এমপি মন্ত্রী রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গের দায়ে তিনি তার পদ ও আসন হারাবেন, এটিই সাংবিধানিক আইন। তা সত্ত্বেও মন্ত্রী এখন পর্যন্ত কিভাবে স্বপদে বহাল থাকেন।

গতকাল এক বিবৃতিতে ইউনুছ আহমাদ বলেন, ড. মুরাদ হাসান পবিত্র কোরআন অবমাননার প্রতিবাদ না করে প্রতিবাদকারীদের অশালীন ভাষায় গালি-গালাজ করে টুপি দাঁড়িওয়ালাদের ফতোয়া বন্ধ করার হুমকি এবং দাঁড়ি কামিয়ে দেয়ার মতো অযাচিত মন্তব্য মুসলিম উম্মাহকে মর্মাহত ও ব্যথিত করেছে। ড. মুরাদ একজন জ্ঞানপাপি মুর্খ। তা না হলে তিনি কিভাবে আল্লাহ রব্বুল আলামিন, ভগবান এবং গডকে এক বলে মন্তব্য করতে পারেন। আল্লাহ এক তার কোন শরীক নেই। অপরদিকে হিন্দু সম্প্রদায় ৩৬০ দেব-দেবির পূজা করে। খ্রিস্টান সম্প্রদায় ৩ খোদার ইবাদত করেন। কাজেই আল্লাহর তুলনা অন্য কোন দেব-দেবির সাথে চলে না। ইসলাম ও আল্লাহ সম্পর্কে ড. মুরাদ হাসানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে তওবা করতে হবে। অন্যথায় দেশময় প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পরবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আছে ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ। ইসলাম নিয়ে চক্রান্ত করলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ বলেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য যেমন ঈমানবিরোধী তেমনি অসাংবিধানিক ও রাষ্ট্রবিরোধী। তিনি বলেছেন আল্লাহ,ভগবান, যিশুখ্রীষ্ট সবই তো এক কথা। তিনি আরো বলেছেন আমি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম মানিনা,এটা সংবিধান থেকে তুলে দিব ইত্যাদি। নেতৃবৃন্দ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর চরম আপত্তিকর এসব বক্তব্যকে নিভানোর পরিবর্তে প্রজ্জ্বলিত আগুনে পেট্রোল ঢালার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন এ রকম বক্তব্য দেয়ার পর বক্তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইসলাম ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের জন্য অবিলম্বে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে তাওবা করে ক্ষমা চাইতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা শায়খ যিয়া উদ্দীন,সহ-সভাপতি মাওলানা জহীরুল হক ভূঁইয়াঁ,মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী,মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক,ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও যুগ্মমহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

ইসলামী ঐক্য আন্দোলন : ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান এক বিবৃতিতে বলেছেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো জাতিকে হতবাক করেছে। যা ইসলাম, মুসলমান ও সরকারের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের এরকম ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য সরকারের অর্জনগুলোকে যেমন ম্লান করে দিচ্ছে। তেমনি সরকারের জনসমর্থন তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে। তার জানা উচিত এ দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমান রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের পক্ষে ছিল আছে থাকবে ইনশাআল্লাহ। রাষ্ট্রধর্ম, ফতোয়া ও দাঁড়ি-টুপি জুববাকে কটাক্ষ করে যে বক্তব্য মন্ত্রী সাহেব দিয়েছেন তা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। জাতির কাছে তার এই সমস্ত বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। আর সরকার প্রধানের প্রতি আহ্বান অবিলম্বে কাণ্ডজ্ঞানহীন এরকম লোককে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কার করুন। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর আল্লামা সারওয়ার কামাল আজিজী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার এক বিবৃতিতে সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান দাঁড়ি টুপি পরে বাংলাদেশে ফতোয়া দেয়া চলবে না মর্মে যে উস্কানিমূলক ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন তার তিব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বিরানব্বই ভাগ মুসলিম অধ্যূষিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানের এই দেশে এই দাম্ভিক গোয়ার্তুমি বক্তব্য দেয়ার স্পর্ধার উৎস কি?

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (জাফরুল্লা): বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমীরে শরীয়ত আল্লামা জাফরুল্লা খান ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন আকন্দ এক বিবৃতিতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের ইসলাম বিরোধী বক্তব্যে দেশের ইসলামপ্রিয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ আজ চরমভাবে ক্ষুব্ধ। দেশের আপামর জনসাধারণ মুরাদ হাসানের মতো ইসলাম বিরোধী চক্রকে যেকোন মূল্যে প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলেও তারা উল্লেখ করেন। ইসলাম বিরোধী বক্তব্যের কারণে মুরাদ হাসানকে মন্ত্রীপরিষদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসানের সাম্প্রতিক ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাকে মন্ত্রীপরিষদ থেকে অপসারণ ও বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মুফতি মুজিবুর রহমান, নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংহতি মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা একে এম আশরাফুল হক, সহ-সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা আতাউর রহমান খান, শায়খুল হাদিস ড. মাওলানা খলিলুর রহমান খান, মাওলানা নওফল আহমদ, মাওলানা মাহবুবুর রহমান নড়াইলী, প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম, মাওলানা মিজানুর রহমান রাজাপুরী, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা যোবায়ের হোসেন নেজামী, মাওলানা নজরুল ইসলাম, হাফেজ সাঈদুর রহমান, অর্থসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, সংগঠন সচিব শেখ আমির হোসেন হিরা, মাওলানা শেখ ফিরোজ আহমদ, প্রচার সচিব হাফেজ মাওলানা ফারুক আহমদ ও দফতর সচিব মাওলানা এমদাদুল হক সাকী। এক যুক্ত বিবৃতিতে নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা এসব কথা বলেন। গওহরডাঙ্গার সমাবেশে বক্তারা: এদিকে, কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা এবং তৌহিদী জনতার উপর আক্রমণের প্রতিবাদে গতকাল খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের আয়োজনে ফরিদপুরের গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের বিভাগীয় জিম্মাদার ও গওহরডাঙ্গা মাদরাসার সিনিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা ফরিদ আহমাদ। এতে বক্তব্য রাখে, ছদর সাহেব (রহ.)-এর পৌত্র মুফতি উসামা আমীন।

মুফতি উসামা আমীন তার বলেন, অনতিবিলম্বে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা-মামলা বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেয়া না হলে আন্দোলনের দাবানল দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন